মেইন ম্যেনু

কঠোর অবস্থানে সরকার, দুশ্চিন্তায় বিএনপি

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি ও শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে জঙ্গিহামলার পর দুশ্চিন্তায় পড়েছিল সরকার। এরপর পুলিশ-র‌্যাবের কল্যাণপুর অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হওয়ার পর সরকারের ভেতর কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। এখন কঠোরতার দিকে ধাবিত হচ্ছে সরকার। আর এটিই বিএনপিকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তুলেছে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে আভাস পাওয়া গেছে, রাজনীতিতে এ বড় দুই দলের সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি তিক্ত হচ্ছে।

২০ দলীয় জোটের সঙ্গে খালেদা জিয়ার আগামীকালের বৈঠকে নেতারা চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করবেন এবং জোটের ভেতরকার অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকালও সাংবাদিকদের বলেছেন, দেশে এখন গণতন্ত্রহীনতা চলছে। কোনো মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। রাষ্ট্র তার সমস্ত যন্ত্র ব্যবহার করে শুধু ভিন্নমতকে নয়, সাধারণ মানুষের উপরও নির্যাতন চালাচ্ছে।

আজ রাতে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু এটি রোববার হবে। এদিকে বিএনপির নতুন কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাবেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে ১৭ জনের নাম ও ৫০২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ৭৩ সদস্যের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলও পুনর্গঠন করা হয়।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসা বিএনপি শেখ হাসিনার অধীনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোট বর্জন করে। ওই নির্বাচনে জিতে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিলেও তাদের সেই পদক্ষেপ ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ আন্দোলন করে আসছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট।

দলটির একজন সিনিয়র নেতা বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার শেষ পর্যায়ে। এই মামলার রায় তিন মাসের মধ্যে দেখা যাবে বলে সরকার পক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য তারেক রহমানসহ কয়েকজনকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। এরমধ্যে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে নাশকতা মামলার বিচারে দলের সিনিয়র-জুনিয়র শতাধিক নেতা ফেঁসে যাবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, বিএনপি ও জোটের এমন কোনো কর্মসূচি ছিল না, যা সরকারের ‘ভিত’ কাঁপিয়ে তুলতে পেরেছে। এমনকি কঠোর সফল কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, যা দলের তারুণ্যকে আগ্রহী করে তুলতে পারে। স¤প্রতি বিএনপি নেতারা মধ্যবর্তী নির্বাচন চেয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ।

আর সরকারের আরেক নেতা আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, দেশ চালাতে সরকার আরও কঠোর হবে। সরকারের গণতন্ত্রহীনতা ও স্বৈরাচারী আচরণসংক্রান্ত বিএনপির অভিযোগ সম্পর্কে আমাদের অর্থনীতিকে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ভূতের মুখে রাম নাম মানায় না। শত শত মানুষ হত্যার বিচার হতে দেয় না যে তথাকথিত গণতন্ত্র, সেই গণতন্ত্র আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা খুনিকে খুনি বলি, কালোকে কালো বলি। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় বিভিন্ন হত্যাকা-ের বিচার না হওয়ার কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, হত্যাকা- হলে বিচার তো দূরের কথা, তদন্তও হয়নি। আর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তদন্তের নামে তারা জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের স্বার্থে’ সরকার কঠোর হচ্ছে। বর্তমান মেয়াদ শেষে শেখ হাসিনার অধীনে ভোট করে ফের সরকার গঠনে যত কঠোরতা দরকার, তা করা হবে।

আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, এখন আমাদের লক্ষ্য একটাই- শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আরও শক্ত ও কঠোর হাতে দেশ পরিচালনা করা হবে।

বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার জন্য সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের চিন্তা করছে, এ প্রসঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার যা করছে এটাকে রাজনৈতিক মোকাবিলা বলা যায় না। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নেই। আসলে বিএনপিকে ভয় পায় সরকার। এখন দেশে সংকট বিদ্যমান। তা মোকাবিলায় খালেদা জিয়ার আহ্বানে রাজপথে থাকতে হবে। ঘরে বসে রাজনীতি হয় না। তিনি বলেন, এ অবৈধ সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য জনগণের জীবন নিয়ে খেলছে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমে গণজোয়ার সৃষ্টি করেই তাদের পতন ঘটাতে হবে।