মেইন ম্যেনু

কনের প্রত্যাখান অতঃপর বৈরাতীসহ বর থানায়

মোঃ আমান উল্লাহ, কক্সবাজার: কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় বরযাত্রাকালে বড়ভাই কর্তৃক ছোট ভাইয়ের বিয়ের স্বর্ন নিয়ে পালানোর ঘটনায় নববধু কর্তৃক প্রত্যাখ্যত হয়ে হতভাগ্য বর বৈরাতীসহ থানার আশ্রয় নিলেন। পরবর্তীতে হওলাদ করা স্বর্ণ নিয়ে বরযাত্রীসহ বিয়ে করতে কণের বাড়ীতে গিয়েছিল বর আব্দুস সালাম। বরের ভাইয়ের এহেন আচরণ দেখে ততক্ষণে বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন কনে পক্ষ।

কনের বাড়ীতে ৩শ বরযাত্রী নিয়ে বর সন্ধ্যায় হলেও কনের বাবা যথারীতি ৩০০ বৈরাতীকে আপ্যায়নের পর বর পক্ষকে কনের বিয়ে দেবে না মর্মে সাফ জানিয়ে দেয় কনের পিতা। এর পর শুরু হল স্থানীয় গন্যমান্য লোকজন নিয়ে কনে পক্ষকে বুঝানোর চেষ্টা। কিন্তু কিছুতেই কাজ হলো না। কনের বাবাকে রাজী করানো গেলেও শেষ পর্যন্তকনে জিয়াছমিন আক্তারের সাফ জওয়াব, যে বাড়ীর ছোট ভাইয়ের বিয়ের স্বর্ণ চুরি করে বিয়ের দিনে বড় ভাই বিয়ে ভঙ্গ করে দিতে পারে সেই বাড়ীর ছেলেকে সে বিয়ে করবে না।

অবশেষে সোমবার রাত ১২ টার দিকে বরযাত্রী কনে বিহীন বিফল মনোরথে ফিরে আসে। এ উদ্বুত পরিস্থিতিতে কনের পিত্রালয়ে বিয়ে বাড়ীতে উপস্থিত মধ্যস্থতাকারী হোয়ানকের আমান উল্ল¬াহ, সফিউল আলম, মোঃ নোমান লেদু ও বরের পক্ষের দেবাঙ্গা পাড়ার সাবেক মেম্বার তালেব আলী জানান, তারা কনের বাবা ও কনেকে অনেক বুঝিয়ে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তারা মেয়ে দিতে রাজী নয়।

জানা যায়, মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালীর দেবাঙ্গপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুস ছালামের সাথে একই উপজেলার হোয়ানক বড় ছড়া গ্রামের আজিজুর রহমানের কন্যা জেসমিন আক্তার মুন্নীর বিয়ের দিন ছিল ৩১ জুলাই।। বরযাত্রার প্রাক্কালে বর আব্দুস সালামের বড় ভাই ফরিদুল আলম বোনের হাতে থাকা স্বর্ণালংকারের ব্যাগ নিয়ে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।

পরে বর মহেশখালী থানায় গিয়ে স্বর্ণালংকার উদ্ধারের জন্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। সন্ধ্যায় আবার কিছু স্বর্ণ জোগাড় করে হবু শ্বশুর বাড়ীতে বিয়ে করতে গেলেও কনে এ বিয়েতে রাজী না থাকায় কণে বিহীন বৈরাতীরা ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়। এব্যাপারে মহেশখালী থানার অফিসার ইনর্চাজ বাবুল চন্দ্র বনিক জানান, অভিযোগ পেয়েছি, লুন্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ঘটনা সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়। যে কিশোরী মেয়েটি দু’বছর পূর্বে সংবাদ পত্রের খবরের শিরোনাম হয়েছিল। বিয়ের দিনও আবার তার কপালে জুটল খবরের শিরোনাম। অষ্টম শ্রেণী পড়–য়া মেয়েটি গত দু’বছর পূর্বে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে প্রতিবেশী বখাটে যুবকের ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে মা বাবাসহ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে বাবার হাত ভেঙ্গে দিয়েছিল।

বিয়ের দিনে এসেও শিকার হল এক অনাকাংখিত ঘটনার। বিয়ের দিনে বধূ সেজে বসে আছে কনে। বর সেজে বরযাত্রী নিয়ে বর আসার পথে বিয়ের ১০ ভরি স্বর্ণ নিয়ে চম্পট দিয়েছে বরের বড় ভাই। বিয়ের দিনে যাত্রা ভঙ্গ। অবশেষে বরযাত্রী নিয়ে লুন্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধার ও মামলা করতে বর গিয়ে হাজির হল থানায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বরের পারিবারিক সুত্র জানা যায়, বর আবদু ছালামের বড় বড় ভাই ফরিদুল আলম ছোট ভাইয়ের এ বিয়ের সওদা কিনতে যাওয়ার বিষয়ে অভিমান করছিল। পরে ভাই বোন সবাই মিলে বড় ভাইকে বিয়েতে কেনাকাটা করার সময় রাজি করে। এ ঘটনার পর বড় ভাইসহ মিলে বিয়ের দিনক্ষণ টিক করে রাখে।

তবুও তার মনের ক্ষোভ মেঠাতে বিয়ের দিনে ছোট ভাইয়ের প্রতি প্রতিশোধ নিতে এ ঘটনা করেছে বলে জানান তারা।

এ ঘটনার পর বর আবদু ছালাম বরযাত্রী নিয়ে সোজা হাজির হয় মহেশখালী থানায়। সে পুলিশের নিকট লুন্ঠিত র্স্বণ উদ্ধারের জন্য সহায়তা চেয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য কনে জিয়াছমিন আক্তার উপজেলার হোয়ানক বহূমূখি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫ সালে এসএসসি পাশ করে। ২০১৩ সালে প্রতিবেশী জনৈক বখাটে ছেলে তাকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীরা তার মা ও তাকে মেরে রক্তাক্ত করে এবং তার বাবাকে হাত ভেঙ্গে দিয়েছিল। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।