মেইন ম্যেনু

কপোতাক্ষ রক্ষাকল্পে কোন অনিয়ম, দূর্নীতি ও ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্ধকোটি মানুষের জীবন মরণের সাথে জড়িত কপোতাক্ষ নদ। কপোতাক্ষ রক্ষার প্রশ্নে কোন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্র জনগন সহ্য করবে না। কপোতাক্ষ নিয়ে কোন ধরনের তঞ্চকতার আশ্রয় নিলে ফের বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
রোববার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক অনীল বিশ্বাস। বক্তব্য রাখেন, কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের সাতক্ষীরার সমন্বয়ক ও তালা কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।

কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক অনীল বিশ্বাস তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, কপোতাক্ষ নদ খননের জন্য বর্তমান প্রধান মন্ত্রী ২৬২ কোটি টাকার চার বছর মেয়াদি প্রকল্পের ২০১১ সালে অনুমোদন দেন। এ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২০১২-১৩ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তালার পাখিমারা বিলে জোয়ারাধার চালু করার কথা। এ জন্য জমির ক্ষতিপূরণ ও বাঁধ নির্মাণ বাবদ ব্যয় ধরা হয় ১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ১ হাজার ৫৬১ দশমিক ৯৬ একর একর জমির ওপর জোয়ারাধার বাস্তবায়ন করা হয়। টিআরএম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘের মালিকদের ষড়যন্ত্র। কাজ বাধাগ্রস্ত করতে অসৎ ঘের মালিকদের যোগসাজসে জনৈক ভ্যানওয়ালাকে বাদি সাজিয়ে হাইকোর্টে রীট করা। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি পিআইসি’র দূর্ণীতিও দৃশ্যমান।

কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের সাতক্ষীরার সমন্বয়ক সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, কপোতাক্ষের পুনর্জীবন করতে সালতা, বেতনা, শিবসাসহ সব নদীর জীবন ফেরাতে হবে। কপোতাক্ষের উৎপত্তিস্থল ও সাগরমুখ দু’পাশেই সংস্কার করতে হবে। কপোতাক্ষ না বাঁচলে এ জনপদে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রুপান্তরিত হবে। তিনি আরো বলেন, কপোতাক্ষ সংস্কার প্রকল্পের ব্যর্থতার কারণগুলির পর্যালোচনা করতে হবে, সংঘটিত দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে, এবং এ ব্যাপারে জড়িত যে কোনস্তরের ব্যক্তিকে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।

উক্ত সংবাদ সম্মেলন থেকে কপোতাক্ষ নদ বাঁচানোর দাবিতে আগামী ১৯ অগাস্ট বুধবার পাখিমারা বিলে টিআরএম সংশ্লিষ্ট এলাকায় মত বিনিময় ও পরিদর্শন, ২২ অগাস্ট শনিবার সাগরদাঁড়ি, ২৩ অগাস্ট রবিবার মণিরামপুর ঝাঁপা, ২৪ অগাস্ট সোমবার ঝিকরগাছা, বাঁকড়া সমাবেশ। এবং ২৬অগাস্ট বুধবার যশোর জেলা প্রশাসকের অফিস ঘেরাও করা হবে, ০২ সেপ্টম্বরে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেলা ১১টায় মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের কলারোয়ার নেতা উপাধ্যক্ষ ময়নুল হাসান, কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের তালার সমন্বয়ক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, তালা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মাস্টার আলাউদ্দিন জোয়াদ্দার প্রমুখ।