মেইন ম্যেনু

কফি পানে এই ভুলগুলো করছেন না তো আপনিও?

অন্যান্য ঋতুর চাইতে শীতকালেই কফি বেশি পান করা হয়। সাধারণত সকালে ঘুম ঘুম চোখেই কফির কাপের দিকে হাত বাড়ান বেশীরভাগ মানুষ। কিন্তু আপনি কী জানেন, এই কাজটি যে ভুল? শুধু এটাই নয়, আমরা নিজের অজান্তেই কফি পানে বেশ কয়েকটি ভুল করে থাকি। এসব ভুল শুধরে নিতে পারলেই কফি আমাদের আরও কাজে আসবে, এমনকি আমাদের স্বাস্থ্যেরও উপকার করবে।

১) কফি পানের সময়

সকালে ঘুম থেকেই উঠেই কফি পান করবেন না। কারণ আমরা যখন ঘুম থেকে উঠি তখন আমাদের শরীরে অনেকটা স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল থাকে। এই কর্টিসলই আমাদের ঘুম ঘুম ভাব তাড়াতে সাহায্য করে। আমরা যদি এই সময়েই কফি পান করতে থাকি তাহলে আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ব্যহত হবে এবং সে কফির ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।এ কারণে ১০টার আগে কফি পান না করাই ভালো।

২) ক্যাফেইনের পরিমাণ

ঘরে তৈরি করা আট আউন্সের এক কাপ কফিতে সাধারণত ১০০ মিলিগ্রামের মতো ক্যাফেইন থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের জন্য মোটামুটি ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন দৈনিক পান করা নিরাপদ। এর বেশি পান করলে অনিদ্রা, খিটখিটে মেজাজ, পেট খারাপের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় এবং কিছু কিছু রোগের ক্ষেত্রে আরও কম পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ করা উচিৎ।

৩) শিখতে সাহায্য করে কফি

কোন কিছু শিখতে চান? যেমন কোনো একটি ভাষা শিক্ষার ক্লাস করছেন আপনি। এক্ষেত্রে প্রতিটি ক্লাস শেষ হবার পরে (হ্যাঁ, ক্লাস শেষের পর, আগে নয়) ২০০ মিলিগ্রাম কফি পান করতে পারেন। এটা আপনার স্মৃতিশক্তিকে উজ্জীবিত করবে।

৪) কফি+ঘুম চনমনে রাখে শরীর

অদ্ভুত হলেও সত্যি, কফি পানের পর ঘুমালে আপনার শরীর বেশি তাজা লাগবে। প্রতিদিন বিকেলের দিকে ঘুম পায় আপনার? তাহলে এক কাপ কফি পান করে আধা ঘন্টার জন্য ঘুমিয়ে নিন। এই আধা ঘন্টার মধ্যে কফি আপনার শরীরে কাজ শুরু করবে। ঘুম থেকে উঠে আপনার নিজেকে রীতিমতো সুপারম্যান মনে হবে।

৫) শরীরচর্চায় সাহায্য করে

শরীরচর্চা যারা করেন তাদের সাহায্য করতে পারে কফি। ব্যায়ামের এক ঘন্টা আগে কফি পান করলে তা অনেক বেশি সময় ধরে ব্যায়াম করতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি কফি চর্বি পোড়াতেও কাজে আসে। কফি পানের পর কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত এই প্রভাব বজায় থাকে।

কফির উপকারী দিকগুলো তো দেখলেন। কিন্তু সাবধান! কফির এই উপকারিতাকে হেলায় হারাবেন না যেন! কফি পান করতে গিয়ে অনেকেই এই ভুলগুলো করেন যাতে মাঠে মারা যায় কফির উপকারিতা-

– দুধ, ক্রিম, চিনি এবং আর্টিফিশিয়াল সুইটেনার মেশাবেন না কফিতে

– দুধের বদলে কফিতে মেশাতে পারেন আমন্ড বা কোকোনাট মিল্ক

– চিনির বদলে মেশাতে পারেন দারুচিনি, কোকো, এলাচ বা জায়ফল গুঁড়ো

হৃদরোগ, স্ট্রোক, সুইসাইড, ডায়াবেটিস, পারকিনসন্স ডিজিজের মতো রোগগুলোর ঝুঁকি কমাতে পারে কফি। এ কারণে কফি পান করুন সঠিক নিয়মে, থাকুন সুস্থ।