মেইন ম্যেনু

কবর খননের আদেশ স্ত্রীর, লাশ ঠেকাতে মরিয়া আ.লীগ

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা) রায় কার্যকরের সন্ধিক্ষণে নিজ জন্মস্থান চট্টগ্রামের রাউজানে কবর তৈরির আদেশ দিয়েছেন স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী। কিন্তু রাউজানে সাকার লাশ যাতে ঢুকতে না পারে সে জন্য প্রস্তুতি চলছে আওয়ামী লীগের।

এ জন্য গত দুদিন ধরে রাউজানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকজনকে নিয়ে মিছিল মিটিং করছে আওয়ামী লীগ। উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে স্বাধীনতার স্বপক্ষের লোকজনের কোলাহল।

সাকাচৌধুরীর লাশ ঠেকানোর লক্ষে গতকাল শুক্রবার বিকালে সমাবেশ করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। সমাবেশে সাকার লাশ ঠেকানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তাঁর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকেও গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে আওয়ামী লীগ নেতারা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজের পরিচালনায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে গিয়াস উদ্দিন কাদেরের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এহেছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল।

তিনি বলেন, সাকাচৌধুরী শুধু একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেননি। একাত্তর পরবর্তী সময়েও রাউজান, রাঙ্গুনিয়াসহ উত্তর চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলাকে সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত করেছেন। সাকা চৌধুরীর নির্দেশে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় অসংখ্য মায়ের কোল খালি হয়েছে।

এই অবস্থায় সাকা চৌধুরীর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হলেও সন্ত্রাসী রাজনীতির শিকার সন্তানহারা মায়ের অভিযোগের বিচার হয়নি। তাই সাকা চৌধুরীর লাশ রাউজানে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না যতক্ষণ না সন্তান হারা মায়েদের অভিযোগের বিচার হবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, রাউজান পৌরসভার প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খান, চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম, কাজী দিদারুল আলম, আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, ভুপেষ বড়–য়া, মোজাহেদ উদ্দিন লিংকন, রোকন উদ্দিন, কাউন্সিলর আলমগীর আলী, নজরুল ইসলাম, সামিমুল ইসলাম সামু, আজাদ হোসেন, আকতার হোসেন ভুলু, সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম, প্রিয়তোষ চৌধুরী, জসিম উদ্দিন হিরু, নুরুল আমিন, বাবুল মিয়া মেম্বার, আবদুল লতিফ, নাঈম চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা, কামরুল হাসান বাহাদুর, সৈয়দ আবদুল জব্বার সোহেল, সওকত হাসান, নঈম উদ্দিন মোস্তফা, সুমন দে, দিপলু দে, তপন দে, ম্যালকম চক্রবর্তী ও আবু ছালেক।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ এ প্রসঙ্গে বলেন, সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায় কার্যকরের পর তাঁর লাশ কোথায় সমাহিত করা হবে এ ব্যাপারে কোন নির্দেশনা এখনো আমরা পায়নি। তবে শুনেছি তার স্ত্রী রাউজানের পৈত্রিক কবরস্থানে তার কবর তৈরির কথা বলেছেন।

আর এ নিয়ে রাউজানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকজন মিছিল মিটিং ও সমাবেশ করছে। সমাবেশ থেকে সাকা চৌধুরীর লাশ ঠেকানোর কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন সজাগ রয়েছে। র‌্যাব, বিজিবির পাশাপাশি দেড়শ পুলিশ এলাকায় তৎপর রয়েছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করতে পুলিশ প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সাকা চৌধুরী একাত্তর সালে কুন্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহ হত্যাসহ কয়েকটি অপরাধে ফাঁসির দ- পেয়েছেন। এ বিষয়ে করা রিভিউ আবেদনও খারিজ হয়ে গেছে। এখন অপেক্ষা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষার।