মেইন ম্যেনু

কবর খুঁড়ে ১০ কঙ্কাল চুরি, এলাকায় আতঙ্ক

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ): ত্রিশালে কবর খুঁড়ে ১০ কঙ্কাল চুরির খবর পাওয়া গেছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত তিন রাতে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের দরিল্ল্যা, খাবলাপাড়া, কাকচর উত্তরপাড়া ও পৌর এলাকার বড়কুমা গ্রাম থেকে ১০টি কবর থেকে কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১০ মার্চ রাতে রামপুর ইউনিয়নের কাকচর উত্তরপাড়া গ্রামের তিন বছর আগে মারা যাওয়া আছমত আলী, দুই বছর আগে মারা যাওয়া রজব আলী, পাঁচ বছর আগে মারা যাওয়া আব্দুল বারেক ও পার্শ্ববর্তী দরিল্ল্যা গ্রামের তিন বছর আগে মারা যাওয়া ক্বারী আবুল কালামের কবর খুঁড়ে কংঙ্কাল চুরি হয়।

পরদিন ১১ মার্চ রাতে একই ইউনিয়নের খাবলাপাড়া গ্রামের ছয় মাস আগে মারা যাওয়া আবু তাহের ও বড়কুমা গ্রামের হামিদা খাতুন, দুই বছর আগে মারা যাওয়া আইনুল হক, সাত বছর আগে মারা যাওয়া মুঞ্জু মিয়া ও বছর দশেক আগে মারা যাওয়া জৈনুদ্দিনের কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরি হয়।

এরপর ১২ মার্চ রাতে দুর্বৃত্তরা ত্রিশাল পৌর এলাকার বড়কুমা গ্রামের আশরাফ আলীর কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরি করে। একই রাতে পৌর শহরের খাবলাপাড়া এলাকায় স্থানীয় সাংবাদিক মতিউর রহমানের বাবা মরহুম আব্দুল গনি মাস্টারের কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরির চেষ্ঠা করে দুর্বৃত্তরা। তবে কবরটিতে নতুন মাটি দিয়ে মেরামত করার কারণে দুর্বৃত্তরা সফল হতে পারেনি।

প্রতিটি কবরের পায়ের দিক অথবা মাঝখানে খুঁড়ে কঙ্কালগুলো চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা। এভাবে পরপর তিন রাত ধরে একই ইউনিয়নের পাশাপাশি গ্রামগুলো থেকে ১০টি কবর থেকে কঙ্কাল চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সাংবাদিক মতিউর রহমান জানান, মৃত্যুবরণ করে মানুষ কবরে গিয়েও শান্তি পাচ্ছে না। খবলাপাড়া গ্রামের মৃত আবু তাহেরের বাবা আব্দুল মান্নান জানান, সকাল বেলা পারিবারিক কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি কবরটি খনন করা। পরে এলাকার লোকজন দেখে বলে কবরটি খনন করে কঙ্কাল চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, কঙ্কাল চুরির খবর পেয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।