মেইন ম্যেনু

কবর থেকে তোলা হতে পারে জয়ললিতার মরদেহ

ভারতের তামিলনাড়ু অঙ্গরাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার মৃত্যু নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট। কবর থেকে মরদেহ তুলে এনে মৃত্যুর কারণ পরীক্ষা করে দেখা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি এস বৈদ্যনাথন বলেন, জয়ললিতার মৃত্যুর বিষয়ে গণমাধ্যম অনেক সংশয় প্রকাশ করেছে, ব্যক্তিগতভাবে আমারও অনেক সন্দেহ রয়েছে। তামিলনাড়ুর প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকে এ বিচারপতি ‘রহস্যময়’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

জয়ললিতার মৃত্যুর কারণ এবং হাসপাতালে থাকাকালীন তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে আদালতে পিটিশন দাখিল করেছিলেন পিএ যোসেফ নামে এক এআইডিএমকে কর্মী।

বৃহস্পতিবার ওই পিটিশনের শুনানিতে বিচারপতি এস বৈদ্যনাথন বলেন, পুরো ঘটনা ঘিরেই রহস্য রয়েছে। দেখা গিয়েছিল জয়ললিতা ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন। তিনি আইসিইউতে খাবার খেতে শুরু করেছিলেন। বেশ কিছু কাগজপত্রে সইও করেছিলেন। এমনকি দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন। তার পর আচমকা তিনি মারা গেলেন।

আদালতের প্রশ্ন, জয়ললিতার মৃত্যুর এতদিন পরেও কেন তার মেডিক্যাল রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ল না? ঠিক কী কারণে জয়ললিতার মৃত্যু হয়েছিল সেই কারণ এবার অন্তত স্পষ্ট হওয়া উচিত।

রাজ্য সরকারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেনারেল মুথুকুমারস্বামী দাবি করেছেন, জয়ললিতার মৃত্যু নিয়ে কোথাও কোনো রহস্য, সংশয়ের অবকাশ নেই। যদিও মুথুকুমারস্বামীর কথায় গুরুত্ব দেননি বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমার নিজের মত, সংশয় থাকলে মৃতের দেহ তুলে এনে পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারি। তবে এআইডিএমকে দলের মুখপাত্র সিআর সরস্বতীর দাবি, আমরা ৭৫ দিন ধরে মিথ্যে কথা বলতে যাব কেন! হার্ট অ্যাটাক কী আগে থেকে জানিয়ে আসে?

পিএ যোসেফের পিটিশনে ২২ সেপ্টেম্বর জয়ললিতার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে পরপর ঘটনাবলীর উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, নেত্রীর মৃত্যুর আগে তাকে ঘিরে ‘চরম গোপনীয়তার আবরণ’ তৈরি হওয়ায় সংশয় ছড়িয়েছে। যে সব প্রশ্ন উঠছে, সেগুলি খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিও জানিয়েছেন যোসেফ। এই পিটিশনের পরবর্তী শুনানি হতে চলেছে আগামী ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে হাসপাতালে ভর্তি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও সাবেক অভিনেত্রী জয়ললিতা ৪ ডিসেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এর পরদিন রাজ্যের তুমুল জনপ্রিয় এই মুখ্যমন্ত্রী মারা যান। জয়ললিতার রাজনৈতিক দল অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিদা মুন্নেত্রা কাঝাগাম (এআইএডিএমকে) জানিয়েছে, তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতার শোকে এখন পর্যন্ত মোট ৪৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র : আনন্দবাজার, টাইমস অব ইন্ডিয়া।