মেইন ম্যেনু

কবর না দিয়ে মাঠে ফেলে প্রকাশ্যেই পচানো হচ্ছে মানুষের মৃতদেহ…

খোলা মাঠের উপর রাখা সারি সারি তারের খাঁচা৷ প্রতিটির মধ্যে সযত্নে রাখা এক একটি মানুষের মৃতদেহ৷ প্রকাশ্যেই পচছে সেগুলি৷ কেয়ারটেকার এসে সেগুলির দেখাশুনাও করছেন। এ দৃশ্য দেখে মনে হতেই পারে কোনও সাইকোপ্যাথের কাজ৷ কিন্তু তা নয়৷

আমেরিকার এই ফার্মে ভিতরের দৃশ্য দেখলে শিউরে উঠবেন অনেকে৷ বিশ্বে এরকম ফার্ম একমাত্র এখানেই আছে৷ কিন্তু কেন প্রকাশ্যেই পচছে মানুষের মৃতদেহ? আসলে এই ফার্ম একটি গবেষণাগার৷ মানুষের মৃতদেহ এখানে রাখা হয়েছে বিশেষ পরীক্ষার জন্যই৷ মৃত্যুর পর দেহের পচন পরীক্ষার জন্যই বিজ্ঞানীরা এভাবে রাখেন মৃতদেহগুলিকে৷ শুধু খোলা জায়গাতেই নয়, বিভিন্ন পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে মৃতদেহগুলিকে পর্যবেক্ষণের জন্য রাখা হয়৷ যেমন পানিতে ডুবিয়ে বা গাড়ির মধ্যে রেখে পচনের হার পরীক্ষা করেন বিজ্ঞানীরা৷ বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় এই পদ্ধতিতে বলা হয়, ‘হিউম্যান ট্যাফোনমি’৷

কেন এই পরীক্ষা চলে?

বিজ্ঞানীরা এভাবেই পরীক্ষা করে দেখেন মৃতদেহের পচন কি সারা বিশ্বেই একরকমের প্রক্রিয়া, নাকি অন্যরকম৷ তাপমাত্রা ও অন্যান্য পরিস্থিতিতে আলাদা কোনও প্রভাব পড়ে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়৷ মানবদেহের পচন অত্যন্ত জটিল এক জৈবিক প্রক্রিয়া৷ এবং, বিভিন্ন পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে তা আলাদাই হয়৷ সেই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জিনিসই পরীক্ষা করা হচ্ছে এই গবেষণাগারে৷

তাতে অবশ্য মানবজাতিরই কল্যাণ৷ পচন নিয়ে পর্যবেক্ষণ ফরেন্সিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক৷ কোনও অপরাধের ঘটনায় মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছন বিশেষজ্ঞরা তা এই গবেষণার খাতিরেই৷ এবং, এই পর্যবেক্ষণ যত সঠিক হবে, ততই মৃতদেহের প্রকৃতি থেকে অপরাধ নিয়ে নিখুঁত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারবেন বিশেষজ্ঞরা৷

আপাতত মার্কিন মুলুকে থাকলেও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও এই ধরনের ফার্ম খোলর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে৷ ভারতেও খোলা হতে পারে এই বিশেষ গবেষনাগার৷