মেইন ম্যেনু

কবে নাগাদ মাঠে ফিরবেন তাও জানেন না মাহমুদুল্লাহ

ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যাট-হাতে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ততোটা আলো ছড়াতে পারেননি বাংলাদেশ দলের এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তাই আশায় ছিলেন ভারতের বিপক্ষে সিরিজে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠবেন। কিন্তু বিধিবাম। বাহাতের আঙ্গুলের (তর্জনী) ছোট্ট একটি চোট তাকে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ থেকে ছিটকে দিয়েছিল।

তাই এবার দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজের জন্য তৈরী হওয়ার পালা। তবে মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে এখনও শঙ্কার মেঘ কাটেনি। কবে নাগাদ মাঠে ফিরবেন তাও জানেন না তিনি। চিকিৎসকরা যা বলেছেন, তাতে করে তার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি২০ ও ওয়ানডে সিরিজে তার খেলার সম্ভাবনাও প্রায় ক্ষীণ। এমনকি নির্বাচকরাও ভারত বিজয়ী দলে ‘আনফিট’ মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে বড় রকমের কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। তারা খুঁজছেন পুরোপুরি সুস্থ মাহমুদুল্লাহকে।

তবে তার জন্য একটি সুযোগ রাখা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একমাত্র টি২০ প্রস্তুতি ম্যাচে। আর এই প্রস্তুতি ম্যাচর ওপরই নির্ভর করছে মাহমুদুল্লাহর ভাগ্য। তবে ক্রিকেট বোর্ডের ভেতরকার খবর, আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি২-০ এবং ওয়ানডে সিরিজে না হলেও টেস্ট সিরিজে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে ডানহাতি এ ব্যাটসম্যানের।

আগামী ১ বা ২ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিসিবি। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘ভারত সিরিজের পর আমরা এখনও সেভাবে বসতে পারেনি। আগামী ৩০ জুন হয়তো আমরা বসবো, তারপর মাহমুদুল্লাহ’র ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিব। আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১ বা ২ জুলাই টি২০ দল ঘোষণা করবে।’

ভারত সিরিজকে সামনে রেখে গত ৪ জুন ফিল্ডিং প্র্যাকটিস করতে গিয়ে গিয়ে বাহাতের আঙ্গুলে ব্যথা পান মাহমুদুল্লাহ। এরপর প্রায় তিন সপ্তাহ বিশ্রাম নিয়ে গত বুধবার পূনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ফিরেছেন ডানহাতি এ স্পিন অলরাউন্ডার। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে জাতীয় দলে ফিরতে ভীষণ ব্যাকুলও তিনি। তবুও মাহমুদুল্লাহ’র ফেরা নিয়ে থেকে যাচ্ছে সংশয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে তেমনটাই জানা গেছে।

বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ রিহ্যাবে থেকেই সময় পার করতে হয়েছে রিয়াদের। বিসিবি’র প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ‘মাহমুদুল্লাহ ডান তর্জনীতে চিড় ধরা পড়েছে। এটা সারতে অনন্ত ৪ সপ্তাহের মতো লাগবে। রিহ্যাব প্রোগ্রাম শেষ করে মাঠে ফিরতে সময় লাগবে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ। এরপর ফিটনেস টেস্ট দিয়ে আবার তাকে মাঠে ফিরতে হবে।’

৩০ জুন ঢাকায় আসছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সফরের শুরুতে ফতুল্লায় ৩ জুলাই একমাত্র টি২০ প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ঐ ম্যাচে মাহমুদুল্লাহ মাঠে নামবে বলে বিসিবির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেখানে তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। ওই ম্যাচেই ভাগ্য নির্ধারণ হবে রিয়াদের। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ওই ম্যাচে মাহমুদুল্লাহ’র খেলার পর পরিস্থিতি বোঝা যাবে। কারণ খেলার জন্য মাহমুদুল্লাহ কতটা ফিট তার নির্ধারণ করবেন নির্বাচকরা।

শনিবার জিমে নিরবচ্ছিন্ন সময় কাটিয়েছেন রিয়াদ। মাঠে ফেরা এবং নিজের ফিটনেস সম্পর্কে তিনি বলেন , ‘ফিট কবে হব এটাতো তা আমি জানি না। এর সবকিছুই আমার ডাক্তার জানে। তাকে জিজ্ঞেস করলেই সব জানা যাবে। আমি শুধু চেষ্টা করছি দ্রুত ফিট হওয়ার জন্য। আফ্রিকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটিতে মাঠে নামার ব্যাপারেও আমার ঠিকঠাক জানা নেই।’

আগামী ৫ জুলাই প্রথম টি২০ ম্যাচ দিয়ে লম্বা সময়ের বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ মাঠে গড়াবে।