মেইন ম্যেনু

কমছে প্রশিক্ষিত শিক্ষক, অর্জিত হচ্ছে না গুণগত শিক্ষা

শিক্ষার সব সূচকেই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। প্রতি বছর পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও পাসের হারে আকাশ ছোঁয়া সাফল্য অর্জিত হচ্ছে। তবে গুণগত শিক্ষার মান নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। এর নেপথ্যের কারণ এবার উঠে এসেছে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) পরিচালিত ‘বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০১৫’ খসড়া প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, প্রতি বছরই কমছে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যা। এমনকি শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শ্রেণি কক্ষের পাঠদানে। এ সঙ্কটের কারণে মানসম্মত শিক্ষা অর্জিত হচ্ছে না বলে শিক্ষাবিদরা মনে করেন।

ব্যানবেইসের খসড়া পরিসংখ্যানের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১০ সালে মাধ্যমিক স্তরে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার ছিল ৮৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ২০১৫ সালে তা কমে হয়েছে ৬৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। ২০১১ সালে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যা ছিল ৭৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ, ২০১২ সালে ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৬২ দশমিক ৩২ শতাংশ।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, গুণগত শিক্ষা অর্জনের জন্য ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, অবকাঠামোসহ অনেক বিষয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের দরকার রয়েছে। প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার গুণগতমান অর্জনে ঝুঁকি থেকে যায়। এ জন্য বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা দরকার।

‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’-এ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:৩০ নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে তা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু খসড়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক সংখ্যা বিগত দিনের চেয়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে। ২০১০ সালে মাধ্যমিক স্তরে ছাত্র শিক্ষকের অনুপাত ছিল ১:৩৪, ২০১১ সালে ১:৩০, ২০১২ সালে ১:৩৬, ২০১৩ সালে ১:৩৭, ২০১৪ সালে ১:৩৯। ২০১৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১:৪১ জন। সরকারি কলেজে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকের সবচেয়ে কম। ৩০২টি সরকারি কলেজে ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬২ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১২ হাজার ৯২৬ জন। এ হিসেবে ১০৫ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। অর্থ্যাৎ শিক্ষার্থী শিক্ষক অনুপাত ১:১০৫। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শিক্ষক অনুপাত ১:৪৩ জন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১:৪১, মাদ্রাসায় ১:৮৪ জন ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:৪০।

প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকের অনুপাত কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জিত না হলেও বেড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল ৯৩টি থেকে বেড়ে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ৪ হাজার ২২৭টি। একই সময় ৮ হাজার ৯৬০টি মাধ্যমিক স্কুল বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ৭২৬টি। ৫০৯টি কলেজে বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ১১৩টি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৭টি থেকে হয়েছে ৩৮টি। এছাড়া বর্তমানে ৯১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাতের কাঙ্খিত অবস্থা থেকে আমরা এখনো অনেক দূরে। শিক্ষকের চেয়ে আমাদের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। আমাদের শিক্ষক বাড়াতে হবে, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করতে হবে, ক্লাসরুম বাড়াতে হবে। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তবে আমাদের বড় কাজ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করা। জাগো নিউজ