মেইন ম্যেনু

অবাদে সরকারী ঔষধ বিক্রির অভিযোগ

কমলনগরে ভিজিটর আসমার বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ রোগীরা

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলাধীন ফজুমিয়ার হাট সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ভিজিটর (পরিদর্শিকা) হিসেবে দায়িত্বরত চরসীতা গ্রামের তাজল হাজী বাড়ীর নুরুল হকের মেয়ে আসমা আক্তারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরকারী ঔষধ বিক্রয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরজমিনে গিয়ে জানা জায়- ৮নং চর কাদিরা ইউনিয়নের ফজুমিয়ার হাট পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রটিতে আসমা আক্তার গত ২বৎসর পর্যন্ত ভিজিটরের দায়িত্ব পালন করে আসছে। দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই সরকারী ঔষধ (যাহা বিক্রয় করার জন্য নহে) ঐ সমস্ত ঔষধ তিনি দেধার্ছে বিক্রয় করছে প্রতিনিয়ত।

গত ০৬/০২/২০১৫ইং তারিখে চর ঠিকা গ্রামের কালু মুন্সি বাড়ীর আজাদের স্ত্রী পারুল বেগম ওরফে (পাখি) আক্তার শারীরিক গোপনীয় সমস্যার কথা জানালে ভিজিটর আসমা তাকে ক্লোট্রিমাজোল ২০০ মি.গ্রা., ৩টি টেবলেট বিশিষ্ট একটি প্যাকেট দিয়ে ২০০/- টাকা দাবী করে। পারুল বেগম ১০০/- টাকা দিলে আসমা বলেন- আমি ঔষধগুলো বাহির থেকে নিজ টাকায় কিনে এনেছি।

এখানে সরকার অনেক ঔষধই দেয়না, যার কারণে আমি আপনাকে দুইশত টাকার কমে দিতে পারবোনা। পরিশেষে উপায়ান্তর না পেয়ে পারুল বেগম দুইশত টাকা দিয়েই ঔষধটি ক্রয় করেন।

চর জাঙ্গালিয়া গ্রামের মতিলাল চৌকিদারের মেয়ে মালা রাণী জানান আমার শারীরিক দুর্বলতার জন্য আসমা বেগমের নিকট গেলে প্রথমে সে আমার চোখ ও জিহক্ষা দেখে, পরে প্রেসার মেপে তাড়াতাড়ি স্যালাইন নেওয়ার কথা বলে। না নিলে বড় ধরণের সমস্যা হতে পারে জানিয়ে হাসপাতালের ওটি রুমে আমাকে একটি স্যালাইন পুস করে নগদ ছয়শত টাকা নিয়া নেয়।

চর ঠিকা গ্রামের মফিজ মেকারের মেয়ে জানান- বহুদিন থেকে তিনি ঋতুস্রাব জনিত রোগে আক্রান্ত হলে আসমা আকতারের পরামর্শ চাইলে তাকেও ক্লোট্রিমাজোল ২০০ মি.গ্রা. দিয়ে তিনশত টাকা নিয়েছেন। একই এলাকার দিলরুবা বলেন- আমার ভাবীর ডেলিভারির পর অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা ভিজিটর আসমার নিকট যাই। তিনি দুইটি দুর্বলতা কাটার স্যালাইন লাগবে বলে- এক হাজার টাকা বাদী করেন। ওটি রুমে একটি স্যালাইন চলার পর অন্য স্যালাইন কিছুটা চলার পর বন্ধ হয়ে যায়। তবে শত অনুরোধ করার পরেও একটি টাকাও কম দিতে পারিনি ভিজিটর আসমাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেন- ছোট খাটো কোন ঔষধ নিতেও ৩০/৫০ কখনো এরও বেশি টাকা প্রদান করতে হয় আসমা আক্তারকে। ডায়াবেটিস, প্রেসার, প্রস্রাব পরীক্ষা করাতে গেলে ভয়ঙ্কর সমস্যার কথা বলে কৌশলে কিছু সরকারী ঔষধ ধরিয়ে দিয়ে ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ইনজেকসান (ডিপো) পুস করতে নতুন ৫০/-, পুরাতন- ৩০/- হারে চাঁদা বসিয়ে ধুমছে চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছে পুসকো ভিজিটর আসমা আক্তার।

এলাকায় আজাদ উদ্দিন সহ ভুক্তভোগী অনেকেই হাসপাতালটিতে ইতি মধ্যে তালা লাগাতে যাওয়ার বিষয়টিও পুরোপুরি সত্য বলে জানা যায়। অভিযোগগুলোর বাস্তবতা নিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে আসমা আক্তারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে যানতে চাইলে নানা প্রশ্নের কৌশলে আসমা তার বানিজ্যের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে সাংবাদিকদের লিখাতে তার কিছুই হবেনা বলে জানান।

আসমা তার নামধারী এক ভাই- মামুন (উধ্বতন সরকারী কর্মকর্তা) ও মোঃ ফেরদাউস (চেয়ারম্যান রামগতি) আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে শক্ত গলায় কথা বলেন, এমনকি ডি.ডি ও চেয়রম্যান ফেরদাউস এর সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্কের ভরসা ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরী হয়েছে বলে কেউ তার কিছুই করতে পারবেনা বলে সাফ সাফ জানিয়ে দেন। তবে ভুক্তভোগীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের নিকট অভিযোগ করলে তিনি সঠিক বিচারের আশ্বাস দেন।

এবিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ডি.ডি) ডা. আসফাকুর রহমান মামুন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান- আপনারা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নিয়ে লিখলে আপনাদেরকে ধন্যবাদ, তবে প্রমাণ পাওয়া গেলে ভিজিটর আসমাকে চাকুরীচ্যুত করবেন বলেন।