মেইন ম্যেনু

আ.লীগের শেকড় অনেক শক্ত : শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছিলেন সংগঠনের জন্য। অনেকে মন্ত্রিত্বের জন্য সককিছু ত্যাগ করে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ছিলেন তার ব্যতিক্রম। তিনি সংগঠনের জন্য জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সব কিছু ত্যাগ করেছে। এটি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের শিখতে হবে। তাদেরকে এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।’

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কোনোদিন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল করেনি। তারা সবসময় ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা তারা পুঙ্খানুঙ্খভাবে পালন করেছেন। কিন্তু নেতারাই দল ছেড়ে চলে গেছে। তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কিন্তু তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এসব করেনি। তারা দলের জন্য সবকিছু করতে বদ্ধ পরিকর।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নেতাকর্মীদের দেশের জন্য ত্যাগ করতে শিখতে হবে। ভোগের কথা চিন্তা করলে দেশকে কিছুই দেওয়া যাবে না। এ উদাহরণ হচ্ছে ৭৫’ এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা ত্যাগের কথা চিন্তা না করে ভোগের কথা চিন্তা করেছিল। এজন্য দেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি।’

দলের দুঃসময়ে হয়ত উপরের নেতারা ভুল করেছেন কিন্তু তৃণমূল নেতারা কখনও ভুল করেননি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়মী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘এ দলটির শেকড় অনেক শক্ত। আর এর অবদান তৃণমূল নেতাকর্মীদের।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাই ষড়যন্ত্রকারীরা আওয়ামী লীগকে যতবার ভাঙার চেষ্টা করেছে ততই উজ্বল হয়েছে আওয়ামী লীগ।

এসময়ে প্রধানমন্ত্রী আত্মত্যাগ ও সততার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণের পাশাপাশি সংগঠনকে শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব সময় নীতি আদর্শ নিয়ে থেকেছে। দীর্ঘ ২১ বছর পর যখন আমরা ক্ষমতায় আসি, তখনও সেই আদর্শ নিয়ে কাজ করেছি, এখনও দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। জাতির পিতা আমাদের যে আদর্শ দিয়ে গেছেন, আমরা সেই আদর্শ নিয়েই আছি। জাতির পিতা বলতেন- ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না। কাজেই আমরাও কখনও ভিক্ষুকের জাতি হতে চাই না।’

যে সংগঠনের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, সেই সংগঠনই জাতিকে অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বাঙালি জাতি যা পেয়েছে আওয়ামী লীগের কাছে থেকেই পেয়েছে। আমরা দারিদ্যের হার কমিয়েছি, অর্থনৈতিক উন্নয়নে এগিয়েছি।’

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক নেতা যদি সততার সঙ্গে কাজ করতে পারে সেই সততাই হচ্ছে তার সবচেয়ে বড় শক্তি। সততার শক্তি দিয়ে যেকোন দুর্যোগ, যেকোন দুর্বিপাক মোকাবেলা করা যায়। সততার শক্তি উঁচু গলায় কথা বলার সাহস জোগায়।’

২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে প্রতিটি নেতা-কর্মীকে বঙ্গবন্ধুর আর্দশ নিয়ে সততার সঙ্গে সংগঠনকে যেমন গড়ে তুলতে হবে, নিজের জীবনকেও সেভাবে গড়ে তুলতে হবে।’

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তি স্বার্থ একজন নিজের জন্য অনেক কিছু করতে পারে কিন্তু দেশ ও জনগণের জন্য কিছুই করতে পারে না, পারে নাই।’

উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়তে কাজ করছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাবা-মা সব হারিয়েছি। আমার হারানোর কিছু নেই পাবারও কিছু নেই।’

তিনি বলেন, ‘এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, দরিদ্র দূর করা, মানুষের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ কাজ করছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা সবাই করেছে। সেই আইয়্যুব খান থেকে শুরু করে, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া।’

স্বাধীনতাবিরোধীদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনবার্সন, তাদের পুরস্কৃত করা, মন্ত্রী বানানো এ প্রসঙ্গ তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান রাজাকার, স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের দালালদের পুনবার্সন করেছে, পুরস্কৃত করেছে। জেনারেল এরশাদও কম যাননি আর খালেদা জিয়াতো এক ধাপ উপরে।’

বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার শত্রু ও তাদের দালালরা যখন দেখেছে বাংলাদেশকে দাবায়ে রাখা যাবে না তখন ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে।’

আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের যা অর্জন, যা প্রাপ্তি তা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে এসেছে।’

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, অনুপম সেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সভাপতি একেএম রহমত উল্লাহ, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।

সভা সঞ্চালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।