মেইন ম্যেনু

কলকাতার মাদার হাউসে হামলার ছক কষেছিলেন জঙ্গি মসিউদ্দিন মুসা!

কলকাতার মল্লিক বাজারে দাতব্য মিশনারি প্রতিষ্ঠান মাদার হাউসের সদর দফতরে হামলার ছক কষেছিলেন আলোচিত নব্য জেএমবি সদস্য মোহাম্মদ মসিউদ্দীন ওরফে মুসা। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ-এর ২৩ ডিসেম্বর তারিখের চার্জশিট-এ এই দাবি করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সোমবারের এক প্রতিবেদনে মাদার হাউসে মুসার হামলা-পরিকল্পনার খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

কিছুদিন আগে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট এবং জামায়াতে মুজাহিদীন জেএমবির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে মুসাকে গ্রেফতার করে ভারত। নামে অনেকটা মিল থাকলেও ভারতের বর্ধমানে আটক মুসা বাংলাদেশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মুছা সিকদার নন। বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (কনফিডেন্সিয়াল) মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যে মাদার হাউসে মুসা হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে এনআইএ দাবি করেছে, সেই প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন বহু বিদেশি নাগরিক আসা-যাওয়া করেন। এনআইএ’র দাবি অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদে কলকাতার মাদার হাউসে হামলার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন মুসা। তিনি এটাকে নরম লক্ষ্যবস্তু বিবেচনা করেছিলেন।

আগামি ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বিচারিক হেফাজতে থাকবেন মুসা। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, মাদার হাউসের চারপাশ জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ৬০ পৃষ্ঠার চার্জশিটে এনআইএ দাবি করেছে, মুসা মাদার হাউসে হামলার ব্যাপারে কিছু আলোচনা করেছিলেন। তিনি ধারণা করেছিলেন, সেখানে বহু বিদেশির আনাগোনা থাকায় সহজেই হামলার শিকার বানানো যাবে তাদের। সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়া ও লিবিয়ায় বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর বোমা হামলার জবাব হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, ‘মুসার বিরুদ্ধে ভারতীয় পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাহল, ১২১ (ভারত সরকারের বিরুদ্ধে মজুরি যুদ্ধের চেষ্টা কিংবা মজুরি যুদ্ধে মদদ দেওয়া), ১২১ এ (ভারতীয় পেনাল কোডের ১২১ ধারা মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হয় এমন অপরাধের ষড়যন্ত্র), ১২২ (ভারত সরকারের বিরুদ্ধে মজুরি যুদ্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অস্ত্র সংগ্রহ), ১২৩ (মজুরি যুদ্ধের নকশা করার জন্য আত্মগোপন)। এছাড়া বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ আইনের ১৬ ধারা (সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য সাজা), ১৮ ধারা (সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত করার প্রস্তুতি) এ ২০ ধারা (সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানের সদস্য হওয়ার সাজা এর আওতায়ও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’

সম্প্রতি মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই এবং বাংলাদেশের র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-এর প্রতিনিধি দল মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আরও জানায়, ‘গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলায় মুসার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত করেছে র‍্যাব। আর এফবিআই-এর তদন্তের বিষয়বস্তু ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিদেশিদের ওপর আইএস-এর হামলার পরিকল্পনা সংক্রান্ত।’ চার্জশিটের আরেকটি অংশে বলা হয়েছে, ‘তিনি (মুসা) বলেছেন আইএস বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হওয়ায় সদস্যদেরকে অমুসলিমের ছদ্মবেশে থাকার পরামর্শ দিয়েছিল।’

মুসা বীরভূম জেলার বাসিন্দা। হুলাইয়ের ৪ তারিখে বর্ধমানে গ্রেফতার হয় সে। মুসা তরুণদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এনআইএ তার ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে এনআইএ জানতে পারে, তার সঙ্গে সিরিয়া-আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের আইএস সদস্যদের যোগাযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মুসা মাদার হাউস পরিদর্শন করেছিলেন এবং টেলিগ্রাম নামের এক ম্যাসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে গোপনে তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আবু সুলায়মান নামে একজন আইএস সদস্য এবং ঢাকা হামলার পরিকল্পনাকারী এবং সন্দেহভাজন ইন্ডিয়ান মুজাহিদীন সদস্য সাইফ ওমরের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল মুসার। তিনি কলকাতার একজন শীর্ষ ব্যবসায়ীকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।