মেইন ম্যেনু

কলকাতা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ক্যান্সারের বিষ! রিপোর্ট নিয়ে চিন্তিত শহরের চিকিৎসকরাও…

গোটা পৃথিবী ভুগছে ক্যান্সারের আতঙ্কে। নগরায়ন বাড়াচ্ছে সমস্যা। আর সেই সমস্যায় সবার আগে কলকাতা। বলছেন শহরের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

লম্বা যানজটে আটকে থাকায় শুধু সময় নষ্ট হয় না। সাস্থ্যও নষ্ট হয়। মারণব্যাধি ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এমনটাই বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ১০টি কারণের মধ্যে একটি হচ্ছে বায়ুদুষণ। আর বায়ুদুষণের অন্যতম প্রধান কারণ যানজট।

রাস্তার সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অথবা যানজটে আটকে থাকা গাড়ির স্টার্ট বন্ধ না করার জন্য বাড়ছে বিপদ। গাড়ি থেকে নির্গত টক্সিক গ্যাস ক্ষতি করছে যাত্রীদের শরীরের। ‘হু’-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, গাড়ির ভিতরে ফ্যান চালিয়ে রাখা বেশি বিপজ্জনক। এর ফলে বাইরের বিষাক্ত বায়ু ভিতরে ঢুকছে। যা ক্ষতিকারক।

আরও ভীতির কারণ দেখাচ্ছেন কলকাতার বিশিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আশিস মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘কলকাতাকে বলা হয়, ক্যাপিটাল সিটি অব পলিউশন ইন ইন্ডিয়া। রাস্তায় যানজটে বা সিগন্যালে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলেও বেশিরভাগ গাড়িরই স্টার্ট বন্ধ করা হয় না। এর ফলে দুষণ আরও বাড়ছে।’’ তাঁর কথায়, ফুসফুস ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যায় কলকাতা এখন দেশের মধ্যে সব থেকে এগিয়ে।

তিনি বলেন, ‘‘ এখন কলকাতায় প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ২২ জনের ফুসফুসে সংক্রমণ, ভারতে সেই সংখ্যাটা ১৩ আর গোটা বিশ্বে ১২.৯। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে কলকাতা কেন দূষণের রাজধানী।’’ আশিস মুখোপাধ্যায়ের পরামর্শ, ‘‘দিল্লির মতো কলকাতাতেও গাড়ি চালানোয় নিয়ন্ত্রণ দরকার। জোড়-বিজোড় পদ্ধতি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চালু করা উচিত। একই সঙ্গে আরও উড়ালপুল দরকার। গাড়ি রাস্তায় যত কম দাঁড়াবে, তত দূষণ কম হবে।’’ এখনই উদ্যোগ না নিলে কলকাতার জন্য খুব বিপদের দিন আসছে।

আর এক চিকিৎসক আশিসবরণ সাহার বক্তব্য, ‘‘ক্যান্সারের সমস্যাই শুধু নয়, আরও অনেক অসুখ শরীরে বাসা বাঁধছে বায়ুদূষণের জন্য। শ্বাসকষ্টের রুগী দিনদিন বাড়ছে। দূষণ থেকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে। আর তার জেরে যে কোনও সংক্রমণ হতে পারে।’’

সব মিলিয়ে ‘হু’-এর রিপোর্টে গোটা বিশ্বের জন্য যে আতঙ্কের কথা বলা হয়েছে, সেই আতঙ্ক কলকাতার অনেক বেশি। বিপদসীমার অনেক উপরে রয়েছে কলকাতা।