মেইন ম্যেনু

কলঙ্ক মুছতে জামায়াতের নেতৃত্বে আসছেন ‘যুদ্ধাপরাধের দায়মুক্তরা’

যুদ্ধাপরাধের কলঙ্ক মুছে ফেলতে চাইছে জামায়াত। হাতে একাত্তুরের রক্তের দাগ নেই এমন নেতাদের বেছে নিয়ে দলটিকে নতুন করে সাজাতে চাইছে তারা।এরই অংশ হিসেবে দলটির আমির প্যানেল নির্বাচনে দেশজুড়ে থাকা ৩৭ হাজার রুকন বেছে নিয়েছেন এমন তিনজন নেতাকে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেনি সরকার। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, দলটির আমির প্যানেলে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ক্লিন ইমেজের এই তিন নেতার মধ্য থেকেই একজনকে দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমিরের পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হচ্ছে। দলটির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

অবশ্য দ্বিমতও আছে দলটির ভেতরে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের আরেক বড় নেতার ধারণা, প্যানেলে মকবুল আহমাদ, মুজিবুর রহমান ও কারাবন্দি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নির্বাচিত হয়েছেন।যদিও মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় দলের ভেতরেই ‘বিতর্কিত’ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।

আমির প্যানেল নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চাইলে জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সেই ধারা অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে।তিন জনের প্যানেল নির্বাচিত করাও সেই ধারারই অন্তর্ভুক্ত।গণতান্ত্রিক দল হিসেবে এসব খবর যথাসময়ে জানা যাবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় এক প্রভাবশালী নেতার সহচর জানান, তিনজনের প্যানেল নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে তাদের নাম এখনই জানানো হবে না। আগামী ঈদুল আজহার পর সার্কুলার দিয়ে রুকনদের জানানো হবে কোন তিনজন নির্বাচিত হয়েছেন। পাশাপাশি ব্যালট পেপারও পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয় প্রধান নির্বাচন পরিচালক এটিএম মাসুম আরও দুই সদস্যকে নিয়ে পুরো নির্বাচন পদ্ধতি পরিচালনা করছেন।

এর আগে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার দায়িত্বশীল সদস্য জানিয়েছিলেন, ১৬ জুলাই শনিবারের বৈঠকের পর থেকে আমির নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করে জামায়াত। গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী সারাদেশের ৩৭ হাজার রুকনের (শপথগ্রহণকারী)মধ্য থেকে পরামর্শ করে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা তিনজনের একটি প্যানেল নির্বাচন করেন। যদিও আমির নির্বাচনের ক্ষেত্রে রুকনরা প্যানেলের বাইরে থাকা রুকনদের মধ্য থেকেও কাউকে কাউকে ভোট দিয়েছেন।

শূরাসূত্র জানায়, ২২ থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা (সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৮৫) ব্যালট-ভোটে তিনজনের প্যানেল নির্বাচন করেন।

তবে আমির প্যানেলে মিয়া গোলাম পরওয়ারের নাম আসাতে অবাক হয়েছেন জামায়াতের দায়িত্বশীল শীর্ষ নেতৃত্ব।জামায়াত সূত্রটি জানিয়েছে, এ ঘটনায় ওপরের সারির অনেক নেতাই অবাক হয়েছেন। উল্লেখ্য, মিয়া গোলাম পরওয়ার বর্তমানে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন। ৮ম সংসদে তিনি খুলনার একটি আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন।

জামায়াতের গঠনতন্ত্র থেকে জানা যায়, দলটির আমির নির্বাচনের সময়সীমা তিন বছর। তবে গত বছরের জুনে দলের মুদ্রিত গঠনতন্ত্রের ৫৯তম সংস্করণের ধারা ১৫-এর ৬ এর (ঘ) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, ‘কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের বিবেচনায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জামায়াতের আমির নির্বাচন অনুষ্ঠান যদি কিছুতেই সম্ভব না হয়, তা হলে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত আমির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অনুমোদন সাপেক্ষে নিজ পদে বহাল থাকবেন।’

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার প্রভাবশালী একজন সদস্য তার ‘ধারণা’ থেকে জানান, প্যানেলে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নির্বাচিত হতে পারেন। এই সদস্য বলেন,‘আমি এখনও জানতে পারিনি। তবে শুক্রবারের মধ্যে নিশ্চিত করে জানবো যে কোন তিনজন প্যানেল আমির নির্বাচিত হয়েছেন।’

সম্প্রতি জামায়াতের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাগারে থাকলেও প্যানেলে নির্বাচিত হতে পারেন, এমন কী আমিরও। তবে তাকে আমির করা হলে সরকারের পক্ষ থেকে দল যে কোনও পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে, এমন সম্ভাবনাও মাথায় রাখছেন জামায়াত নেতারা। পাশাপাশি এতে আইন অনুযায়ী কোনও বাধা আসবে কী না, এ নিয়েও চিন্তা আছে দলটিতে। ইতোমধ্যে সাঈদীর যাবজ্জীবনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে সরকার।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের এক সদস্য জানান, সাঈদী আমির নির্বাচিত হলে সরকারের চিন্তা ভিন্নপথে চালিত হতে পারে। ইতোমধ্যে বিএনপিকে ছেড়ে আসতে নানা ধরনের চাপ থাকলেও সাঈদীর বিষয়টিকে ‍তুরুপের তাস হিসেবেই দেখতে পারেন কেউ কেউ। সেক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের আপিল নিয়েও রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হলে তাজ্জবের কিছুই থাকবে না বলে মনে করেন পেশায় চিকিৎসক এই জামায়াত নেতা।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, কে নির্বাচিত হবেন নির্বাচনের আগে তা বলা যাবে না। যে কোনও পরিস্থিতিতে দেশের আইন ও গঠনতন্ত্রকে সামনে রেখে জামায়াত সিদ্ধান্ত নিবে। তবে আমির ছাড়াও ভারপ্রাপ্ত আমির দ্বারা দল পরিচালিত হওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা জামায়াতের আছে।

এদিকে প্যানেল বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের সিলেট মহানগর দক্ষিণের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ ময়মনসিংহ, ঢাকার একাধিক মজলিসে শূরা সদস্য জানান, তারা এখনও প্যানেল বিষয়ে কোনও সার্কুলার হাতে পাননি।

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া এগারোটার দিকে কেন্দ্রীয় একজন প্রভাবশালী নেতার সহচর জানান, দুই-একদিনের মধ্যে প্যানেল বিষয়ে তথ্য প্রকাশ হবে।

ছাত্র শিবিরের প্রচার বিভাগের সাবেক এক দায়িত্বশীল ও পল্টন থানার একজন নেতা জানান, ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান ও সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারই প্যানেল নির্বাচিত হয়েছেন।