মেইন ম্যেনু

কলারোয়ায় নজরুল ইসলাম পোল্টি মুরগী চাষ করে স্বাবলম্বী

জুলফিকার আলী, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : পোল্টি মুরগীর চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী কাঁকডাঙ্গা গ্রামের কুবরা পোল্ট্রি ফার্মের পরিচালক নজরুল ইসলাম। নজরুল এইচ এসসি পাশ করার পর বেকারত্ব দুর করার জন্য পরীক্ষামুলক ভাবে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা খরচ করে মাত্র ১০০টি মুরগীর বাচ্চা নিয়ে শুরু করে পোল্ট্রি মুরগীর চাষ। সেখান থেকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি তার। পোল্ট্রি চাষের লভাংশ দিয়ে প্রতি বছর বাড়তে থাকে তার ফার্মের পরিধি। বর্তমানে ৩টি পৃথক ঘর তৈরী করে ব্যাপক ভাবে এ চাষে মনোনিবেশ করেছেন তিনি। ৩টি ঘরে ৫ থেকে ৬ হাজার মুরগীর বাচচা নিয়ে পর্যায়ক্রমে লালন পালন করছেন।

মুরগীর ফার্ম দেখাশুনার জন্য তার স্ত্রী খাদিজাতুল কুবরা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রতি ১৫ দিন অন্তর ৫০০’শ মুরগী বিক্রি করেন বজারে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে । এ খাত থেকে তার লাভ হয় প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এ হিসাবে বছরে তার সমস্ত খরচ খরচা বাদ দিয়ে নিট লাভ থাকে ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা।

পোল্ট্রি ফার্মের এ লাভের টাকা দিয়ে তিনি মাঠে দেড় বিঘা জমি কিনেছেন, একটি ডিপটিউব ওয়েলের সিয়ার হয়েছেন, চার রুম বিশিষ্ট একটি এক তলা বাড়ি করেছেন এবং দুই মেয়ে এক ছেলেকে স্কুলে ভাল ভাবে লেখাপড়া করাচ্ছেন। তার দেখা দেখি ঐ গ্রামে আরো ২০/২৫ টি পোল্ট্রি ফার্ম গড়ে উঠেছে এবং অন্য খামারের মালিকেরা নজরুল ও খাদিজার কাছে নিয়মিত পরামর্শ নিয়ে থাকেন।

নজরুল ইসলাম সাংবাদিক জুলফিকার আলীকে জানান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং প্রাণী সম্পদ কর্মকতার নিকট তিনি বিশেষ ভাবে ঋনী। কারন হিসাবে বলেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে তাকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋন দিয়ে এবং প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ দিয়ে তাকে সাহায্য করেছেন। নজরুল ইসলাম ও খাদিজাতুল কুবরার পোল্ট্রি ফার্মটি কলারোয়া উপজেলার শ্রেষ্ঠ পোলিট্র ফার্ম হিসাবে বিবেচিত হয় এবং একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কলারোয়া-তালার মাননীয় সাংসদ তাদের দুই জনকে ক্রেষ্ট ও সনদপত্র প্রদান করেন । বর্তমানে দেশের লাখো বেকার যুবকদের বিদেশে পাড়ি না জমিয়ে পোল্ট্রি ব্যবসায় মনোনিবেশ করার জন্য তিনি উদ্যত্ত আহবান জানান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, এ ব্যবসায় তার কখনো কোন প্রাকার লোকসান গুনতে হয়নি। পোল্ট্রি খামারে সফল হওয়ার কারনে তিনি এবার মাছ চাষের দিকে মনোনিবেশ করবেন বলে ও এ প্রতিনিধিকে জানান।