মেইন ম্যেনু

আদালতে মামলা করায় এসিডে ঝলসে দেয়ার হুমকি

কলারোয়ায় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূকে পিটিয়ে জখম

কলারোয়ায় ১লাখ টাকা যৌতুকের দাবীতে পাষান্ড স্বামী এক গৃহবধূকে পিটিয়ে জখম করে ৮মাসের শিশু বাচ্চাসহ বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় সাতক্ষীরার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক আইনের ৪ধারায় একটি সিআরপি-৪৭/১৫ মামলা দায়ের হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ৮ নভেম্বর-২০১৩ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের নুরুজ্জামান খান এর কন্যা জেসমিন খাতুন (২২) এর সহিত যশোরের আদর্শ গোপালপুর গ্রামের ইসরাইল দফাদারের ছেলে আহাদ আলী দফাদারের সাথে ইসলামী শরিয়াত মোতাবেক উভয় পক্ষের সমামতের ভিক্তিতে বিবাহ হয়। বিয়ের সময় শশুর নুরুজ্জামান খান জামাই আহাদ আলীকে নগদ ৬০ হাজার টাকা ও ৪৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র প্রদান করেন। বিয়ের ১মাস পর থেকে জামাই আহাদ আলী স্ত্রী জেসমিন খাতুনকে বাপের বাড়ী থেকে ১লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে আনতে বলে। এতে স্ত্রী জেসমিন খাতুন বাপের বাড়ী থেকে টাকা আনতে অপরগতা স্বীকার করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এর মধ্যে জেসমিন খাতুন ৭মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়ে। পরে আরোব ও পাষান্ড স্বামী আহাদ আলী ১লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে স্ত্রী সেজমিন খাতুনের পেটের বাচ্চা নষ্ট করার জন্য বুকের উপর উঠে পাড়ায়। এঘটার কিছু দিন পরে জেসমিন খাতুনের গর্ভে একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। মেয়েটির নাম-আরিশা খাতুন (৮মাস)। এই মেটির একটি ডান পা মায়ের গর্ভে স্বামীর নির্যাতনের কারনে ভেঙ্গে উল্টে যায়। যশোরের শিশু অদদ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে মেয়েটির পা কিছুটা ভাল হয়েছে। সকল নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় জেসমিন খাতুন দরিদ্র পিতার নিটক থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যৌতুক লোভী স্বামী আহাদ আলীকে দেয়। ওই টাকাটি নিয়ে কিছু দিনের মধ্যে নেশা খোর আহাদ আলী বিভিন্ন ভাবে খরচ করে ফেলে। পরে আরো ৪০ হাজার টাকা দাবী করে স্ত্রী জেসমিন খাতুনকে পিটিয়ে জখম করে অমানুষিক নির্যাতন করতে থাকে মাসের পর মাস ধরে। এর পর একটি স্টাম্পে সেজমিন খাতনকে স্বাক্ষর করে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এসময় বলে তোকে আর রাখব না, তোর বাবাকে আসতে বল। এর পরে পাষান্ড যৌতুক লোভী স্বামী স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করে ৮মাসের পঙ্গুত শিশুসহ স্ত্রীকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়। এঘটনাটি এলাকাবাসীকে জানিয়ে তাদের পরামশ্য মতে সাতক্ষীরা আদালতে যৌতুক আইনের ৪ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলা দায়েরের পর নেশাখোর যৌতুক লোভী আহাদ আলী নিজেকে বাচানোর জন্য যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকায় গত ১৫মে-২০১৫ শুক্রবার “য়শোরে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বর্ণালস্কার টাকা চুরির অভিযোগে মামলা” শিরোনামে একটি মিথ্যা-বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করে। এদিকে মামলার বাদীর পিতা নুরুজ্জামান সংবাদিকদের জানান, মামলা করায় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী লোক দিয়ে যৌতুক লোভী আহাদ আলী মামলার বাদী জেসমিন খাতুনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করছে। সে এমনকি এ্যাসিড মেয়ে ঝলসে দেওয়ারও হুমকি দিচ্ছে। বাদী ও বাদীর পরিবার বর্গ এঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। অন্যদিকে মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদকে দায়িত্ব প্রদান করলে তিনি উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেন। সকল স্বাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহন করে বাদীর আনিত অভিযোগ সত্য বলে প্রমানিত হওয়ায় সাতক্ষীরার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করেন।



(পরের সংবাদ) »