মেইন ম্যেনু

কলারোয়া-সরসকাটি রাস্তা সংস্কারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

কামরুল হাসান, কলারোয়া: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সড়ক ও জনপদের আওতাধীন কলারোয়া-সরসকাটি রাস্তা সংস্কারে (কার্পেটিং) ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার দু’ধারে বসবাসকারী বিভিন্ন লোকজনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার রাস্তা সংস্কারের কাজ চলাকালীন সময়ে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সড়ক ও জনপদের আওতাধীন (রোড নং-জেড-৭৫৫২) কলারোয়া-সরসকাটি রাস্তার ৮ কিলোমিটরের মধ্যে ১১৫০ মিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য ৫২ লক্ষ ৬৪ হাজার ১০২ টাকা শতকরা ১৫ টাকা লেছে গত ফেব্রুয়ারি মাসে টেন্ডার পান যশোরের জনৈক এক ঠিকাদার।

তিনি কাজটি করতে অপারকতা প্রকাশ করলে তার নিকট থেকে ওই যশোরের মেজবা নামে আরেক ঠিকাদার ৭ লক্ষ টাকা দিয়ে কাজটি ক্রয় করেন। দীর্ঘ ৫ মাস পর পর বর্তমান ঠিকাদার চলতি জুন মাসে রাস্তাটির সংস্কারের কাজ শুরু করেন। যার মধ্যে রাস্তাটির পুরানো কার্পেটিং লাঙ্গল দিয়ে চষা বাবদ ১ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা, অথচ সেখানে কোন লাঙ্গল দিয়ে চষা হয়নি আগের থেকে কার্পেটিং অধিকাংশ উঠে গিয়েছিল অল্প কিছু কিছু জায়গায় ছিল সেটা মুজুরী দিয়ে দায়সারা উঠানো হয়েছে।

এমনকি প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তায় পুরানো কার্পেটিং ওঠানো হয়নি। এরপর ১ লক্ষ ৩৮ হাজার টি ইটের খোয়া দিয়ে রাস্তাটি ৪ ইঞ্চি কমপেকশন করার কথা রয়েছে যার মূল্য ১৬ লক্ষ ৩২ হাজার ৫৪০ টাকা। অথচ সেখানে রাস্তাটি ১ ইঞ্চিও খোয়া দিয়ে কমপেকশন করা হয়নি। সংস্কার কার্পেটিং পুরু হওয়ার কথা দেড় ইঞ্চি অথচ সেখানে ১ ইঞ্চিও পুরু হচ্ছে না। প্রাইম কোটের জন্য ব্যবহার করার কথা কিরোসিন ১৪’শ কেজি বিটুমিন ২৮’শ কেজি অর্থাৎ ১৭ ড্রাম ও কার্পেটিংয়ের জন্য বিটুমিন ১১৫ ড্রামসহ ৫৯ ড্রাম, যার মুল্য ২৮ লক্ষাধিক টাকা, অথচ বিটুমিন আনা হয়েছে মাত্র ৬০ ড্রাম, রাস্তাটির সিলকোট করার কথা হাফ ইঞ্চি সেখানে মোটেও করা হচ্ছে না। এ ছাড়া রাস্তার এজিং বাদে চওড়া হওয়ার কথা ৩মিটার অর্থাৎ ১০ ফুট অথচ রাস্তাটি ৯ থেকে কোন কোন জায়গায় সাড়ে ৯ ফুট চওড়া করা হয়েছে। এভাবে রাস্তাটি সংস্কারের নামে পুকুর চুরি করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী সড়ক ও জনপথের সাতক্ষীরার ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্দ্ধোতন কর্মকর্তাদের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

এ ব্যাপারে রাস্তাটির ঠিকাদার মেজবাউদ্দীনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন,এখন তো এর চেয়ে ভাল কাজ কোন ঠিকাদার করে না। তাছাড়া তিনি ৭ লাখ টাকা দিয়ে কাজটি ক্রয় করেছে বিধায় কিছু ত্রুটি বিচ্যুতির কথা স্বীকার করেন। এ ছাড়া তিনি বিষয়টি নিয়ে খবর না লেখার জন্য অনরোধ করেন, কারণ সামনে ঈদ ও জুন মাস শেষ তাই তার ভীষন ক্ষতি হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে রাস্তাটির দায়িত্বে থাকা সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার রাশিদুজ রেজার সাথে উক্ত সমস্যা নিয়ে কথা বললে তিনি জানান, রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় বেশী বেশী গর্ত থাকায় ৪ ইঞ্চি খোয়ার বিষয়টি এভারেজ করে নেওয়া হয়েছে। অন্যন্য সমস্যার কথা বললে তিনি সন্তোষ জনক উত্তর না দিয়ে সাতক্ষীরা অফিসে যাওয়ার জন্য এ প্রতিবেদককে আহবান করে তিনি চলে যান।