মেইন ম্যেনু

কলারোয়া হাসপাতালে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে রোগীরা

কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তার,নার্স, আয়া ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের অসৌজন্যমূলক আচরণ, অযত,ও অবহেলার কারনে রোগীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দায়িত্বরত চিকিৎসকদের যথাসময়ে অনুউস্থিতি,নিয়মিত ডিউটি না করা,নার্স,আয়া ও ওয়ার্ড বয়দের দায়িত্বে অবহেলার কারনে প্রতিনিয়ত দুঃসহ যন্ত্রনায় কাটাতে হয় আগত রোগীদের।

কলারোয়া হাসপাতালের অধিকাংশ মেডিকেল অফিসার,নার্স, আয়াসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের বাড়ি কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। তারা দীর্ঘ দিন ধরে একই পদে একই স্থানে কর্মরত আছেন। একই পরিবারের ৭ জন কর্মকর্তা,কর্মচারী, আয়া ও ওয়ার্ড বয় রয়েছেন। যারা গত ১৮ থেকে ২০ বছর বা তার ও বেশী সময় ধরে কলারোয়া হাসপাতালে কর্মরত আছেন। দীর্ঘ দিন একই স্থানে একই পরিবারের এত গুলো লোক কর্মরত থাকার কারনে হাসপাতালটিকে তারা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি হিসাবে গণ্য করেন। কোন রোগী বা অন্য কোন কর্মকর্তা কর্মচারীগণ তাদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে পারেন না।

একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এদের সাথে কলারোয়ার বেসরকারী ক্লিনিক গুলোর সাথে সখ্যতা রয়েছে। হাসপাতালে রোগী এলে নিজেরদের কাজ বাদ দিয়ে ঐ সমস্ত রোগীদের বাইরের ক্লিনিক গুলোতে ভর্তি করানোর জন্য অগ্রহী উঠে। যারা তাদের কথামত বেসরকারী ক্লিনিকে ভর্তি না হয় তাদের উপর নেমে আসে চরম অবহেলা আর অযত।

হাসপাতালে ভর্তি একাধিক রোগীর সাথে কথা বলা জানা যায়, নার্স, আয়ারা রোগীদের কে ঠিক মত ঔষধ, খাবার সরবরাহ করে না, ময়লা পরিস্কার বা ওয়ার্ড ঝাড়– দেয় না। যদিও বা মাঝে মধ্যে ঐ সমস্ত কাজ গুলো করলেও তার বিনিময়ে তাদের মোটা অংকের টাকা গুনতে হয়। ঔষধ থাকলে নানা অজুহাতে বাইরের দোকান থেকে ঔষধ কিনে আনতে বাধ্য করা হয়। হাসপাতালের ঐ সমস্ত নার্স, আয়া ও ওয়ার্ড বয়দের অবৈধ সহযোগীতার কারনে কলারোয়য়া পৌর সদর সহ বিভিন্ন স্থানে ৩৫টি বেসরকারী ক্লিনিক ও ডায়গনিষ্টক সেন্টার গড়ে উঠেছে।

হাসপাতালের বর্হি বিভাগে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ শতাধিক রোগী আসেন। চিকিৎসা সেবা নিতে। এবং প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন বা তার ও বেশী রোগী ভর্তি হন হাসপাতালে। হাসপাতালে আগত রোগীদের আগে কে ভাগিয়ে বেসরকারী ক্লিনিক গুলোতে নিয়ে যাবে তা নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগীতায় নেমে পড়ে হাসপাতালের কর্মচারী,আয়া,ওয়ার্ড বয়’রা। আর এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে কথাকাটাটি থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে থাকে।

ঐ সমস্ত কাজে ব্যস্ত থাকার কারনে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকে ময়লার স্তুপ, দীর্ঘ দিন বাথরুম টয়লেট পরিস্কার হয় না। বাথরুম টয়লেট গুলো থাকে সব সময় দূগন্ধ,স্যাতসেতে। এতে করে ভর্তি রোগীদের সাথে আসা সুস্থ্য মানুষ গুলো ও রোগী হয়ে যায়।

কলারোয়া হাসপাতালের এ অবস্থার কারন হিসেবে জানা গেছে, হাসপাতালের নির্বাহী কর্মকর্তা অর্থাৎ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ( টি এইচ এ) ডা: তৌহিদুর রহমান ঢাকায় বসবাস করেন। সপ্তাহের বেশীর ভাগ সময়ই তিনি ঢাকায় থাকেন। মাঝে মধ্যে এসে ২ / ৩ দিন অফিস করে আবার ঢাকায় ফিরে যান। আর এ সমস্ত কারনে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপরোক্ত সমস্যাগুলো দিনের পর দিন প্রকট হয়ে উঠছে।

কলারোয়ার হাজারো ভুক্তভোগী জনসাধারন এ অবস্থা থেকে পরিত্রান চাই। তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের যথযথ কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।