মেইন ম্যেনু

কলেজ ছাত্রীকে প্রকাশ্য পেট্রোলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা

সরকার দুলাল মাহবুব, রাজশাহী থেকে: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে অগ্নিদগ্ধ মেয়ে শাহনাজ বেগমের পাশে দাঁড়িয়ে কেঁদে কেঁদে মা হীরা বেগম বলছিলেন ‘বিয়ে যে কি জিনিস তা আমি দেখেছি মা, আমি আর বিয়ে করতে চাই না। পড়ালেখা করতে চাই। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। মেয়েটা আমাকে এভাবেই বলতো। আমার মেয়ের লেখাপড়া করার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু শয়তানটা আমার মেয়ের কি সর্বনাশটাই না করলো।’

প্রকাশ্য দিবালোকে কলেজ ছাত্রী শাহানাজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করার চেষ্টা চালিয়ে তার প্রাক্তন স্বামী। রোববার দুপুরে নওগাঁর আত্রাই উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে শাহনাজের মুখ, দুই হাতসহ শরীরের অনেক অংশ পুড়ে গেছে। শাহনাজের বাড়ি উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে।

হীরা বেগম জানান, শাহনাজ আত্রাই ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রতিদিনের মতো সকালে শাহনাজ কলেজে যায়। এরপরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শাহনাজের আগুনে পুড়ে যাওয়ার সংবাদ পাই।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাদ দিয়ে হীরা বেগম জানান, শাহানাজ কলেজ শেষ করে প্রাইভেট পড়ার জন্য হাবিবা ও তসলিমা নামে দুই বান্ধবির সঙ্গে যাচ্ছিলেন। পথে তার প্রাক্তন স্বামী সাদিকুল আলম খান ভ্যানটি থামায়। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই শাহানাজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় সাদিকুল আলম খান।

ঘটনার অল্প দুরের এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সে দৌঁড়ে এসে শাহনাজকে নদীতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পুড়ে মরা থেকে রক্ষা যায় শাহনাজ। স্থানীয় লোকজন নদী থেকে তুলে শাহনাজকে আত্রাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)তদন্ত শামসুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা সাদিকুল আলম খা কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

শাহনাজের মামী জাকিয়া সুলতানা জানান, শাহনাজের পিতা সখিন শারীরিক প্রতিবন্ধী। একই গ্রামের আবদুস সালাম খানের ছেলে সাদিকুল আলম খান সাজ্জাদের সঙ্গে শাহনাজের বিয়ে দেয়। বিয়ের পর থেকেই সাদিকুল অমানবিক নির্যাতন করতো শাহনাজের উপরে। তাই, মাত্র নয় মাসের সংসার শেষে ২০১৫ সালে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। ওই সাদিকুল আলম খানই শাহনাজকে তালাক দেয়।

তালাকের পরে সাদিকুল আলাম খান অন্য জায়গায় দ্বিতীয় বিয়েও করে। এরপরেও সাদিকুল প্রায় সময় শাহনাজকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে আসতো। নিজেদের সম্মানের দিকে তাকিয়ে শাহনাজের পরিবার কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতেন না। বেশি কিছুদিন ধরে সাদিকুল আবার বিয়ে করার জন্য শাহজানের উপরে চাপ সৃষ্টি করে আসছিলো।

রামেক হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শাহনাজের মুখ, হাত ও বুকে মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় শাহনাজের পিতা সখিন মন্ডল বাদি হয়ে আত্রাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।