মেইন ম্যেনু

কল্পনাপ্রসূত ও অবাস্তব বাজেট : বিএনপি

২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে কল্পনাপ্রসূত ও অবাস্তব আখ্যা দিয়ে বিএনপি বলেছে, ‘এই বাজেটে জনগণের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না এবং সরকার এই বাজেট বাস্তবায়নও করতে পারবে না।’

দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং তখন বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলেও মনে করে দলটি।

শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেটোত্তর প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নবম বারের মতো জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন তিনি। দেশের ইতিহাসে এটি বৃহত্তম বাজেট।

বাজেটের আকার ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে (২০১৪-২০১৫) বাজেটের আকার ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। এবারের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা।

রিপন বলেন, ‘বাজেটে যে ঘাটতির কথা বলা হচ্ছে, তা ব্যাংক ঋণ নিয়ে পূরণ করা হবে। এতে ব্যাংক ব্যবস্থা আরো নাজুক হবে। এই অবাস্তব বাজেট কোনোভাবেই বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। বাজেট কীভাবে বাস্তাবায়ন হবে, অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।’

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে ভারসাম্যহীন কথাবার্তা বলেছেন দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তার কথা বোগাস এবং রাবিশ।’

পুঁজিবাজারের বেহাল দশা এবং বিভিন্ন ব্যাংক ঋণ নিয়ে কেলেঙ্কারি ও অনিয়মের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে দায়ী করেন রিপন।

গত অর্থবছরে এডিপির জন্য বরাদ্দ করা টাকার ব্যয় করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে, দাবি করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘এখন তড়িঘড়ি করে এই অর্থ ব্যয় করবে সরকার। এতে দুর্নীতি বাড়বে।’ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন এখানো পাশ না করার সমালোচনা করেন তিনি। এ ছাড়া বাজেটে উল্লিখিত প্রায় সব সেক্টরের সমালোচনা করেন বিএনপির মুখপাত্র।

কৃষিতে ভর্তুকি কমানো এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ওপর কর আরোপের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানো উচিৎ। একই সঙ্গে মেডিকেল কলেজের কর প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।