মেইন ম্যেনু

“কষ্ট করেও কেষ্ট মিললো না, দুই সন্তানের কেউই রাখে না বৃদ্ধ বাবার খোঁজ”

কষ্ট না করলে নাকি, কেষ্ট মিলেনা। যানিনা আর কত কষ্ট করলে কেষ্টমিলবে। ছোট বেলা থেকে একটি বিষয় নিয়ে পরিবারের সবাই কম বেশি বকা ঝকা করেছে, আমি নাকি খুব সহজেই মানুষ কে বেশি বিশ্বাস করি,,আর এটা যে ভুল তা কিনতু নয়,,
কিন্তু এটা তো আমার সরলতা, আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে যদি কেউ লাভবান হয় তো ক্ষতি কি। আমার কপাঁলে যা লিখা আছে তা তো কেউ নিতে পারবে না,, হয়ত সাময়িক অসুবিধা হবে আমার,,,,আমার হয়ত একটাই সমস্যা, মুখ ফুটে কিছু চাইতে পারিনা।
আমার যা আছে তা হয়ত কাল থাকলেও, আমি তো নাও থাকতে পারি।
দুই দিনের মেহমান হয়েও চাহিদার কমতি নেই,, বাড়ি থাকলে তো গাড়ি থাকতে হবে, গরীবব হলে বড় লোক হতে হবে,, আমার সমকখ্য মানুষের সাথে মিষতে হবে, না হয় আমার status নষ্ট হয়ে যাবে,,,কত কি চাহিদা।।

1223
রাত ৮ টার দিকে নিউ মার্কেট থেকে জুতা কিনে আসার সময়, সামনে দেখলাম একবয়স্ক লোক রিক্সা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,,বললাম চাচা যাবেন শাহবাগ,,,? হুম বলে উওর দিল। আমি বললাম কত,,,? উনি বল্লো ৩০। আর আমি বললাম ২০ টাকা,প্রথমে রাজি না হলেও পরে রাজি হল। রিক্সাটা খুব আসতে আসতে শাহবাগ আসল। রিক্সায় বসে নিজেকেই খুব অপরাধী মনে হচ্ছিল আমরা কোথায় আছি, যার এখন আরাম করার কথা ছিলো, সে কি না..?
নেমে যখন ২০ টাকার ভাড়া, ৩০ টাকা দিয়ে চলে আসতে ছিলাম, একবার পিছনে ফিরে দেখলাম অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমায় ডাক দিলো, বাব জান,,, এই দিকে একটু আইবেন, আমি যাওয়ার পর বললো ভাড়া তো ২০ টাকা বলে আইছেন ভুলে আপনি ৩০ টাকা দিছেন, আমি বললাম বাবা আমি ইচ্ছে করেই ৩০ টাকা দিয়েছি, আপনি বুড়ো মানুষ এত কষ্ট না করে আরাম আয়েস করেন, ওনি আমার দিকে তাকিয়ে কান্না করে দিলো, বল্লো আমার দুই সন্তান আমার কোনো খোজ খবর নেয় না, ভিক্ষা করে খাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই বাবা, তাই রিক্সা চালাই,
আমি আর কিছু বলতে পারলাম না, নিজের প্রতি ধিক্কার দিতে ইচ্ছে হচ্ছিলো, আমরা কেমন ছেলে একটা বাবাকে বৃদ্ধ বয়সে শান্তি দিতে পারিনা, আসার সময় ওনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন, তখন মনে হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার আমি পেয়ে গেছি, ভালো থেকো বাবা, তোমাকে হাজারো সালাম।

সূত্রঃ রানা নন্দী-এর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া