মেইন ম্যেনু

কাঁচা টাকার বাড়ন্তে ভাঁড়ারে টান সোনাগাছির যৌনকর্মীদের

সারদা-কাণ্ড সহ অন্যান্য চিটফান্ড কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি৷ যার জেরে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত রকমের অস্থির পরিস্থিতি৷যার প্রভাবে আবার টান পড়েছে কাঁচা টাকায়ও৷ যে প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারেনি স্বয়ং বাবুদের পকেটও৷ আর, এমনই নানা কারণের জেরে টান পড়েছে সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিদের লক্ষ্মীর ভাঁড়ারেও৷

কাঁচা টাকার যোগান বাধাপ্রাপ্ত হলে যে সমস্যা তৈরি হবে না, সে বিষয়ে কেউই কথা দিতে পারবেন না৷ যদিও, ওই সমস্যার কারণও হতে পারে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন রকম এবং ধরনের৷ কিন্তু, সেই কাঁচা টাকার টান যদি সোনাগাছির বাবুদের পকেটে দেখা দেয়, তা হলে সেখানকার মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিদের লক্ষ্মীর ভাঁড়ারেও যে স্বাভাবিকভাবেই পিছু ছাড়বে না সেই টান, তাও কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না৷ আর, এই ধরনের কারণে যে তাঁদের দুরবস্থা বাড়ে বয় কমে না, তাও অস্বীকার করার কোনও উপায়ও নেই৷ শুধুমাত্র আবার বাবুরাই নন৷কেননা, যাঁরা সোনাগাছির বাবু নন, অথচ সেখানকার নিয়মিত অথবা অনিয়মিত খরিদ্দার, কাঁচা টাকার টান পড়েছে তাঁদের পকেটেও৷

আর, এমনই নানা কারণের জন্য যৌনপল্লির ‘প্রজা’-দের এখন দুরবস্থার আর শেষ নেই৷কারণ, কাঁচা টাকার যোগান বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায়, সোনাগাছির যৌনকর্মীদের পরিষেবা নেওয়ার জন্য কমে গিয়েছে খরিদ্দারের সংখ্যা৷ শুধু তাই নয়৷ আগে যেভাবে খরিদ্দারকে খুশি করে উপার্জন করতেন সোনাগাছির যৌনকর্মীরা, ওই কাঁচা টাকার টানের জন্যই এখন খরিদ্দারদের কাছ থেকে তাঁদের পাওনা টাকার পরিমাণও কমে গিয়েছে৷ সেই তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছেন না বাবুরাও৷ ওই কাঁচা টাকার টানের জন্যই, কিছুটা হলেও বাবুদের আদরও কমে গিয়েছে৷ কাজেই, আগের তুলনায় এখন আয় অনেক কমে গিয়েছে সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিদের৷ এই ধরনের পরিস্থিতি আবার এখন শুধুমাত্র সোনাগাছিতেও নয়৷ কল্লোলিনী এই তিলোত্তমার অন্যান্য যৌনপল্লিতেও এখন প্রভাব ফেলেছে কাঁচা টাকার অভাব৷আর, এই ধরনের সমস্যার জন্য, অনেক ক্ষেত্রে কম টাকায়ও খরিদ্দারকে এখন খুশি করতে কার্যত বাধ্য হচ্ছেন যৌনকর্মীরা৷কারণ, একেবারে আয় না করার থেকে স্বল্প উপার্জনও অনেক ভালো৷

কী ভাবে এই ধরনের সমস্যার শিকার হতে হচ্ছে সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিদের? কারণ, সাধারণত যৌনপল্লিতে ঘর ভাড়া নিতে হয় তাঁদের৷ খরিদ্দারদের খুশি করে, কাজের শেষে সাধারণত ওই ঘরের ভাড়া দিতে হয়৷কিন্তু, খরিদ্দারের সংখ্যা যেহেতু আগের তুলনায় এখন অনেক কমে গিয়েছে, সেজন্য ঘর ভাড়া মিটিয়ে তার পর অন্যান্য খরচ কীভাবে করবেন মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিরা, সে বিষয়ে তাঁদের দুঃশ্চিন্তা ক্রমে বেড়েই চলেছে৷ স্বাভাবিকভাবেই, কোনও কোনও ক্ষেত্রে নিয়মিত তাঁরা ভাড়া গুনতেও পারছেন না৷ অথচ, সোনাগাছির মাসিরাই বা শুনবেন কেন তাঁদের এই সমস্যার কথা? মাসিরা যে নিয়মিত ঘর ভাড়া পেতেই অভ্যস্ত! যে কারণে, যৌনকর্মীদের কেউ কেউ ইতিমধ্যেই মহানগরীর পল্লি ছেড়ে অন্যত্র চলেও গিয়েছেন৷ কেউ কেউ আবার অন্যত্র চলে যাওয়ার কথাও ভাবছেন বলে জানা গিয়েছে৷

কেন? মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিদের কথায়, শুধুমাত্র যৌনপল্লি থাকলে এক রকম পরিস্থিতি হত৷কিন্তু, তেমনটাও সম্ভব হচ্ছে না৷কারণ, যৌনপল্লির কর্মীরা বাদেও এখন বিভিন্ন উপায়ে যৌন পেশার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন অনেকে৷যাঁদের মধ্যে রয়েছেন মধ্যবিত্ত এমনকী অভিজাত শ্রেণির মহিলারাও৷ শুধুমাত্র আবার মহিলারাই নন৷ কলকাতায় এখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পুরুষ যৌনকর্মীর সংখ্যাও৷তাঁর মধ্যে অনেকে যেমন অতিরিক্ত রোজগারের জন্য আসছেন, তেমনই অনেকে আবার নিছকই শখ হিসেবেও বেছে নিচ্ছেন এই পেশাকে৷কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এখন ছড়িয়ে পড়ছে এই ধরনের যৌন পেশা৷এই ধরনের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন সোনাগাছির যৌনকর্মীদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির এক আধিকারিকও৷

কিন্তু, কাঁচা টাকার যোগানে কেন দেখা দিল ঘাটতি? এর পিছনে অন্যতম কারণ হিসেবে রয়েছে সারদা-কাণ্ড সহ এ রাজ্যের অন্যান্য চিটফান্ড কেলেঙ্কারির ঘটনা৷ এর পাশাপাশি মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও৷এমন নানা কারণের জন্য রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে অস্থির পরিস্থিতি৷তার জেরে যেমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগে ভাঁটা পড়ছে, তেমনই মারাত্মক প্রভাব পড়ছে ছোট থেকে মাঝারি মাপের ব্যবসা থেকে শুরু করে বেসরকারি বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রের উপরেও৷কলকাতা২৪