মেইন ম্যেনু

কাটা হাতেই পরিবারের মুখে অন্ন জোগান যাদব

যুদ্ধক্ষেত্রসম এ জীবনে সুস্থ মানুষরাই যেখানে লড়াই করে দিশেহারা। সেখানে হাতহীন যাদব যুগলের লড়াইটা আমাদের ভাবায়। মানুষ হিসেবে গর্বের একটা ক্ষেত্র তৈরি করে বটে। আজ যে যুগলের কথা বলবো তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গুড্ডা এলাকার বাসিন্দা। তার হাতের কব্জি নেই তবু কাজ করে সংসারের প্রিয় মানুষদের মুখে তুলে দেন খাবার।

না জন্ম থেকে যুগলের এ অবস্থা ছিল না। একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে বৈশাখী ঝড়ে ছিঁড়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার হাতে লাগে। সেবার প্রাণে বেঁচে গেলেও হাত দুটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। কনুইয়ের একটু নিচ থেকে দু’টি হাতই কেটে বাদ দিতে হয় তার।

তারপর থেকেই যুগলের যুদ্ধটা শুরু। কেটে ফেলা হাতে অনেক চেষ্টা করে কলম ধরতে শিখে ফেলেন। তারপর অসম্ভব মনোবলে ম্যাটিকও পাস করেন। যুগলের ইচ্ছে ছিল স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে ভালো একটা চাকরি নিয়ে পরিবারকে ভালো রাখবেন। কিন্তু বিধাতা হয়তো সেটা চাননি। কিংবা আরো কঠিক পরীক্ষায় ফেললেন তাকে। হঠাৎ তার বাবার মৃত্যু হয়। আর যুগল যে অথৈ সাগরে পড়ে যান।

খেত মজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন যুগলের বাবা। তার মৃত্যুতে তার কী করার ছিল। কিন্তু বড় ছেলে হিসেবে তার তো দায়িত্ব এসে পড়ে। মা ও তিন ভাই-বোনের সংসারে তাকেই হাল ধরতে হয়েছিল। মজার ব্যাপার হলো হাত কেটে যাওয়ার পর যেভাবে কলম ধরতে শিখেছিলেন ঠিক সেভাবেই পরিবারকে বাঁচাতে কোদালও ধরতে শেখলেন যুগল।

সকালে স্থানীয় বাজারে মজুদের হাট বসে। সেখান থেকে প্রয়োজনমতো মজুর নিয়ে যায় শহরের মানুষরা। কিন্তু দুই হাত কাটা যুগলের দিকে কেউ ফিরেও তাকায় না। পরিবারের অনাহারি মানুষের মুখের কথা ভেবে চোখ জলে ভরে যায় যুগলের। কিন্তু কাজ তো জোটে না। কয়েকজন ছেলে-মেয়েকে পড়িয়ে অতগুলো মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়া সত্যি কঠিন।

আবার কাটা হাতেই শুরু করলেন সাইকেল চালানোও। সাইকেল চালিয়ে সোজা চলে গেলেন স্থানীয় সেই বাজার থেকে কিছু দূরে, ইসিএলের লালমাটিয়া কয়লা খাদানে। সেখানে পরিত্যক্ত খাদান থেকে কয়লা তোলার কাজও শিখে ফেললেন। আর সেই কয়লা সাইকেলে নিয়ে গ্রামে গ্রামে বিক্রি শুরু করেন যুগল।

তারপর ঠিকাদাররা দেখলেন কীভাবে যুগল যাদব সেই হাতে সব কাজে পারদর্শী হয়ে উঠছে। তাই তার প্রতি বিশ্বাস ও শক্ত হলো। তাই তার মনোবলের কাছে হার মানে তারা। তাকে কাজ দেন। আর যুগলের মুখে ক্ষীণ হাসির রেখা ফুটে ওঠে পরিবারের মানুষের মুখে একটু খাবার তুলে দিতে পেরে। সালাম হে জীবনযোদ্ধা যুগল যাদব।