মেইন ম্যেনু

‘কাণ্ডারীহীন’ অবস্থায় বিএনপি

টানা তিন মাসের আন্দোলনের পর এমনিতেই প্রায় গতিহীন বা অস্বাভাবিক শান্ত হয়ে পড়ে বিএনপি। আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও করে হাজার হাজার নেতাকর্মী এখনো বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন।

কেউ ছাড়া পেলেও রাজপথে তাদের দেখা যায় না। বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েও দেখা যায় না তাদের মাঠে-ময়দানে।

তবুও দলের প্রধান খালেদা জিয়াকে ঘিরে কিছু রাজনৈতিক কর্মক পরিচালিত হচ্ছিল।

দেড় মাস আগে চিকিৎসার জন্য জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বিদেশ পাড়ি জমিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার রাতে একই কারণে লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

আর চিকিৎসা নিতে গিয়ে গত আট বছর ধরে বিদেশে আছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সেই হিসেবে দলের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতা এই মুহূর্তে দেশে নেই।

বলতে গেলে আপাতত কাণ্ডারীবিহীন অবস্থায় পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রধান দেশের বাইরে গেলে দলেরই কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে বিএনপি ব্যতিক্রম। কখনোই দলের চেয়ারপারসন দেশের বাইরে গেলে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয় না। এবারও দেয়া হয়নি।

দলীয় সূত্রের খবর বলছে, চিকিৎসার জন্য বেগম খালেদা জিয়া দুই সপ্তাহের মতো লন্ডন থাকবেন। তবে এই সময় দলের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা কে দেবেন সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে দায়িত্বও দেয়া হয়নি।

তবে দল পুনর্গঠনসহ সার্বিক বিষয় দেখভালের জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহানকে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন খালেদা জিয়া।

এছাড়া দলের চেয়ারপারসনের নির্দেশনা অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও চলতি মাসের শেষের দিকে দেশে ফিরছেন বলে বিএনপির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে একান্ত সচিব ও গৃহকর্মী লন্ডনে গেছেন। এছাড়া লন্ডন থেকে বিএনপির কয়েকজন নেতার তার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

লন্ডনে হবে পারিবারিক মিলনমেলা

চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেলেও এই প্রথম দেশের বাইরে পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গত আট বছর ধরে পরিবারসহ লন্ডনে অবস্থান করছেন তারেক রহমান।

এছাড়া প্রায় একই সময় ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করলেও ইতিমধ্যেই সন্তানদের নিয়ে লন্ডন পৌঁছেছেন তার মরহুম ছোটছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খালেদা জিয়া, দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান গ্রেপ্তার হন। পরে চিকিৎসার জন্য তারেক রহমান জামিন নিয়ে লন্ডনে যান। আর আরাফাত রহমান কোকো প্যারোলে মুক্ত হয়ে থাইল্যান্ডে যান। থাইল্যান্ড থেকে কোকো মালয়েশিয়ায় সপরিবারে চলে আসেন। সেখানে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি মারা যান।

এর আগে ওমরা করতে বেগম খালেদা জিয়ার সৌদি আরব যাওয়ার কথা থাকলেও তারেক রহমানের ভিসা জটিলতার কারণে আসতে না পারায় সে যাত্রা বাতিল করা হয়েছিল।

বিএনপির ভাইস চেয়ার‌ম্যান সেলিমা রহমান বলেন, “আমাদের দলে চেয়ারপারসনের অবর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে দায়িত্ব দেয়া না হলেও কাউকে না কাউকে সার্বিক বিষয় দেখভালের জন্য বলা হয়। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। তারপরও জরুরি ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে ডিজিটাল যুগে চেয়ারপারসনের সঙ্গে যোগাযোগের অনেক উপায় আছে।”