মেইন ম্যেনু

কাদের পকেটে হত দরিদ্রের টাকা? কর্মসৃজনের ২১২ প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা হরিলুট

ভোলা জেলায় ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির ২য় পর্যায় (এপ্রিল-জুন) ভোলা জেলার ২১২টি প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ৯ কোটি ৮৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অধিকাংশই হরিলুট হয়ে গেছে। অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ না করে সরকার দলীয় কর্মীরা টাকাগুলো উত্তোলন করে নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সরকার অতি দরিদ্র শ্রমিকদের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ভোলা জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কার্যালয়ের অফিস সহকারী আঃ শহিদ জানায়, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ভোলার ৭টি উপজেলার মধ্যে ভোলা সদরে ৬৬টি, বোরহানউদ্দিনে ৪০টি, দৌলতখানে ২০টি, লালমোহনে ৩৩টি, তজুমদ্দিনে ১০টি, চরফ্যাশনে ৩৪টি ও মনপুরায় ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।ভোলা জেলার ২১২টি প্রকল্পের কাজ সম্পন্নের জন্য ভোলা সদরে ৪২৪৯ জন, বোরহানউদ্দিনে ১৪৬১ জন, দৌলতখানে ৮৬১ জন, লালমোহনে ১৭১২ জন, তজুমদ্দিনে ৬৬২ জন, চরফ্যাশনে ২৮৮০ জন ও মনপুরায় ৪৭০ জন শ্রমিককে ১২২৯৬টি কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা জেলার ৭টি উপজেলায় ২১২টি প্রকল্পের কার্ডধারী শ্রমিকদের সকলকে কাজে না লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ত্রাণ অফিসের সহায়তায় প্রকল্পগুলোর ঠিকাদাররা দৈনিক নির্ধারিত সংখ্যক শ্রমিক কাজে লাগায়নি। নামে মাত্র শ্রমিক দেখিয়ে এসব প্রকল্পের টাকাগুলো উত্তোলন করে লোপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।কোন কোন ইউনিয়নে নির্ধারিত প্রকল্পের বিপরীতে প্রতিদিন ২শ’ থেকে ৫শ’ জন করে শ্রমিক খাটানোর কথা থাকলেও তার সিকিভাগ শ্রমিককে কাজে লাগালো হয়নি। প্রতিদিন একই ব্যক্তি একাধিক স্বাক্ষর করে মাস্টাররোল তৈরি করে ত্রাণ অফিসের সহায়তায় ব্যাংক থেকে টাকাগুলো হরিলুট করে নিয়ে গেছে। আবার কোন কোন প্রকল্পের নির্ধারিত শ্রমিক দৈনিক ২শ’ টাকা করে মজুরি পাওয়ার কথা থাকলেও মজুরি কম দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এতে দরিদ্র এসব শ্রমিকরা নির্ধারিত মজুরি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শ্রমিক জানান, এলাকার নির্বাচিন জনপ্রতিনিধি, সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা কাজ না করিয়ে গরিবের টাকা আত্মসাত করছে। কোটি কোটি টাকা লটুপাটের ঘটনা অনেকেই জানেন। কিন্তু কেউ কোনো ধরনের প্রতিবাদ করছেন না। এমনকি স্থানীয় সাংবাদিকরাও এ বিষয়ে কোনো খবর প্রকাশ করছেন না। গরিবের টাকা আত্মসাতের ঘটনা জানলেও স্থানীয় বেসরকারী সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিচ্ছেন না।

এ ব্যাপারে ভোলা জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা আঃ মান্নান জানান, ইতিমধ্যে বোরহানউদ্দিনে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ আমি ঘুরে দেখেছি। ভোলা জেলার অন্য উপজেলার প্রকল্পগুলোর কাজের বিষয়ে অভিযোগগুলো তদন্ত করে আমি দেখব।