মেইন ম্যেনু

কান যখন হাতে

পেটের দায়ে মানুষ প্রায় সবকিছুই করতে পারে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান শিল্পী স্টেলার্কের তো আর অর্থের সমস্যা হয়নি, তবু তিনি কেন এই কাণ্ড ঘটালেন? আসলে স্টেলার্ক পেটের তাগিদে নিজের হাতে অস্ত্রোপচার করে বাড়তি কান লাগাননি। উল্টো শিল্পের প্রয়োজনেই তিনি নিজের দুই কান থাকা স্বত্ত্বেও হাতে তৃতীয় কান প্রতিস্থাপন করিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা আছে নিজের শরীরেই একটি ওয়াইফাই মাইক্রোফোন সংযুক্ত করার, যাতে বিশ্ববাসী তার শরীরের স্পন্দন শুনতে পান।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টেলার্ক জানান, ‘এটা একটা আর্ট তখনই যখন তা মানুষকে আকৃষ্ট এবং অবাক করে দেবে। কারণ এই যে আমাদের জীবনের অনিশ্চয়তা, ক্ষোভ এবং প্রতিক্রিয়া এই শরীরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে তা বিশ্বকে বুঝতে হবে।’

বিশ্বে এই প্রথম কোনো মানুষের শরীরের সফলভাবে বায়োকম্পাটিবল বস্তু জোড়া লাগানো হলো। শিল্পীর শরীরের টিস্যু এবং রক্তকনা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তার উপর ভিত্তি করেই ওই কানটি তৈরি করা হয়, যাতে মস্তিস্কের সঙ্গে সহজেই সাড়া দিতে পারে কানটি। তবে কান দিয়ে শুনতে হলে সেটা নির্দিষ্ট স্থানেই প্রতিস্থাপন করতে হয়। যেহেতু স্টেলার্ক তার হাতে কান লাগিয়েছেন তাই এই কান দিয়ে তিনি কিছুই শুনতে পারবেন না। কিন্তু ইতোমধ্যেই স্টেলার্ক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে ওয়াইফাই সংযুক্ত করার আগে তিনি নিজের স্টেম সেল ডেভলেপ করে কান দিয়ে শোনা যায় এমন ব্যবস্থা করবেন।

এবিষয়ে বলতে গিয়ে শিল্পী বলেন, ‘এই কানটা আমার জন্য নয়। আমার দুটি ভালো কান আছে শোনার জন্য। কান দিয়ে অন্যরা যা শোনে আমিও ঠিক তাই শুনতে পাই। কিন্তু আমার হাতের কান দিয়ে যা শোনা যাবে তা বিশ্বের অন্যান্যরা শুনতে পারবে না।’ প্রায় ৪৫ বছর আগে স্টেলার্ক তার নাম পরিবর্তন করেন এবং ব্যক্তিজীবনে তিনি পার্থের কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অল্টারনেটিভ অ্যানাটমিকস ল্যাবের প্রধানও ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নিজের শরীরে একটি বাড়তি অঙ্গ প্রতিস্থাপনের চিন্তা করে আসছিলেন।