মেইন ম্যেনু

‘কারণে-অকারণে’ বদলে গেছেন তামিম

মানুষ নাকি মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়। কারণে-অকারণে বদলায়। তামিমও বদলে গেছেন। এখন আর আগের মতো সমালোচনা গায়ে মাখেন না। মাঠে আগের মতো সেই চলাফেরাও করতে দেখা যায় না ছেলের পিতাকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে সেই ‘কারণ-অকারণে’র গল্প শুনিয়েছেন তামিম ইকবাল।

‘সত্যি কারণে-অকারণে আগের চেয়ে অনেক বদলে গেছি। এমন একটা সময় ছিল, যখন সমালোচনা একদম সহ্য হতো না। একটুতেই রেগে যেতাম। চিৎকার করতাম। বলতে চাইতাম, ওরা করছেটা কী? কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বুঝতে পেরেছি যতবারই আমি এমন করছি, ততবার নিজের প্রতি চাপ সৃষ্টি করেছি। লোকে সমালোচনা করবে, মেনে নিতে হবে। এটা এখন শিখে নিয়েছি।’ সেই তামিম হলে হয়তো এত কথা বলতেন না। কিন্তু এই তামিম থামেন না। বলতেই থাকেন, ‘খারাপ খেললে সাংবাদিকরা বিরুদ্ধে লিখবে। এটা তাদের কাজ। যদি আমি এটাকে সহজভাবে নেই, তাহলে নিজের ওপর চাপে থাকবে না।’ তামিমের কথা শুনে চোখ কপালে ওঠে। এই কি সেই তামিম, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘মুডি বালক’ হিসেবে যার বেশ ডাকনাম ছিল। সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে এই তামিমই একসময় অবজ্ঞার চোখে তাকাতেন। কীভাবে এতটা বদলে গেলেন?

‘‘অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। মনে আছে এক বড় ভাই আমাকে ডেকে বলেছিলেন, ‘তামিম তুমি লোহা ভাঙতে পারো কীভাবে।’ উত্তর দিয়েছিলাম, তাপ দিয়ে। ‘এটাই তোমার পথ,’ তিনি বলেছিলেন। তখন আমার খুব খারাপ সময় যাচ্ছিল। এই কথাটা খুব মনে ধরে যায়। মনে হল বুকের ভেতর আগুন জ্বালাতে হবে। আমি হয়তো নিখুঁত নই। কিন্তু এই পথেই চেষ্টা করতে পারি।’’

বাবা হওয়ার পর অধিকাংশ পুরুষের দুনিয়া বদলে যায়। ফুটফুটে একটা মুখ কারে কারো পায়ে পরিয়ে দেয় ‘বাধ্যতার শিকল’। কারণে-অকারণে যিনি এক সময় বাইরে-বাইরে ঘুরতেন, সেই তিনিই ওই নিষ্পাপ মুখের হাসিতে ফাঁসতে কারণে-অকারণে ঘরে ছুটে আসেন। এই তামিমও কি সেই পথের পথিক?

তামিম বললেন, ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। কেননা পিতৃত্বের অনুভূতি এখনো ঠিক উপলব্ধি করতে পারছেন না তিনি। পেশাদারিত্বের ভেলায় ভাসতে ভাসতে ছেলেকে ঠিকমতো কোলেও নিতে পারেননি। মাত্র ২৪ ঘণ্টা ব্যাংককে স্ত্রী-সন্তানের পাশে ছিলেন। দেশের ডাকে তড়িঘড়ি করে চলে আসেন এশিয়া কাপ খেলতে। সেখান থেকে আবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।

‘পিতা হওয়ার কারণে অতটা বদলাইনি। তবে একটা পরিবর্তন ঠিকই হয়েছে। আগে পরিবার এবং স্ত্রীকে মিস করতাম। এখন নতুন কাউকে করছি…।’

ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ক্যাচ মিসের পর নিন্দুকের সমালোচনা তুফান তুলে ধেয়ে আসে তার দিকে। চারদিকের এত সমালোচনায় তামিমও মানসিকভাবে বেশ ভেঙে পড়েন। সেই দিনগুলোই কী তবে আপনাকে খাঁটি সোনায় পরিণত করেছে?

প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন তামিম। হঠাৎ মনে হল ফিরে গেছেন সেই ‘বিষাক্ত অতীতে’।

‘দেখুন, জীবনে আমি অনেক খারাপ সময় দেখেছি। বয়স হয়তো ২৭, তবে এসবের অভিজ্ঞতা কম নয়। বলুন তো ওই ম্যাচটি হারলে কী হতো! একজন বাংলাদেশি হিসেবে কল্পনা করুন তখন কী হতো। তখন আমি আরো ব্যাপকভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হতাম। জানি, অমন সময় আবার আমার ক্যারিয়ারে আসবে। এর নাম ক্রিকেট। ঠিক যেন বৃত্তর মতো।যখন আবার এমন হবে, তখন কী করতে হবে এখন জানি। এখন আমি চাপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বেশি প্রস্তুত। ওই সময় থেকে এটাই শিখেছি।’ এই তামিম যেন দার্শনিক!

ডেইলি স্টার অবলম্বনে অমৃত মলঙ্গী