মেইন ম্যেনু

কারবালা যুগে যুগে অন্যায় মোকাবেলার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মোর্শেদে আজম আওলাদে রাসূল হযরতুলহাজ্ব অধ্যক্ষ আল্লামা ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহমদী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী বলেছেন, প্রতিটি মুসলমানকে আহলে বায়াতের আদর্শ ও প্রেম-মুহব্বত অন্তরে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করতে হবে। আর এতে উজ্জীবিত করতে খলিফায়ে রাসূল কাগতিয়ার গাউছুল আজম প্রতিষ্ঠিত এ দরবারের অনুসারীদেরকে বায়াতের পর আহলে বায়াতের উপর প্রতিদিন কমপক্ষে ১২৫বার দরূদ পাঠের কঠোর নিদের্শনা দেয়া হয়। না-হক্ব ও বাতিলের সঙ্গে আপোষ নয়, ইসলামে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকলে ষড়যন্ত্রকারীদের সকল অপচেষ্টা নস্যাৎ হয়ে যাবে এবং দুষ্টচক্রের আসল রূপ ও চরিত্র জনসমক্ষে অবশ্যই উম্মোচিত হবে। স্বপরিবারে জীবন উৎসর্গের মাধ্যমে কারবালা প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (রাঃ) বিশ্ববাসীর জন্য এ সত্যটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। কারবালার শোকাবহ এই দিন যুগে যুগে ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে মোকাবেলার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি ২৩ অক্টোবর শুক্রবার পবিত্র শোহাদায়ে কারবালা স্মরণে রাউজান কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের ৬৩তম পবিত্র আশুরা মাহফিলে উপস্থিত হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ তকরির রাখছিলেন। তিনি আরও বলেন, মিথ্যার সাথে আপোষ করে নয়, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় ঈমানি চেতনায় এগিয়ে যেতে হবে-কারবালার মহান এই শিক্ষার বাস্তবায়নে ইসলামের মূল্যবোধ ও আদর্শগুলো সমুন্নত থাকবে।

মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ এর উদ্যোগে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে ছিল বাদে জুমা খতমে কোরআন, খতমে শেফা, খতমে খাজেগান, খতমের ইউনুছ, দরূদে সাইফুল্লাহ, দরূদে নারিয়্যাহ ইত্যাদি আদায়, বাদে আছর তরিক্বতের বিশেষ পদ্ধতিতে ফয়েজে কোরআন প্রদান, বাদে মাগরিব তাওয়াজ্জুহ্র মাধ্যমে রাসুল (দঃ) এর বাতেনী নূর বিতরণ এবং বাদে এশা মোর্শেদে আজমের তকরির, মিলাদ-কিয়াম ও আখেরী মুনাজাত। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও এসব কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে দুপুর থেকেই হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান দরবার শরীফে আসতে থাকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আছরের পূর্বেই মাহফিলস্থল দরবার শরীফস্থ গাউছুল আজম জামে মসজিদ প্রাঙ্গনসহ এর আশেপাশের এলাকা লোকে লোকারন্য হয়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর এর সভাপতিত্বে সেমিনার ও মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুহাদ্দিস আল্লামা মুহাম্মদ ইব্রাহিম হানফী, উপাধ্যক্ষ আল্লামা বদিউল আলম আহমদী, মুফতি কাজী আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকি, আল্লামা মোহাম্মদ আশেকুর রহমান ও মাওলানা মুহাম্মদ ফোরকান। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক মুহাম্মদ ফোরকান মিয়া।

মিলাদ ও কিয়াম শেষে হুজুর ক্বেবলা দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং দরবারের প্রতিষ্ঠাতা কাগতিয়ার গাউছুল আজমের দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন।