মেইন ম্যেনু

কারাগারে ঐশীর ঈদ

পুলিশ কর্মকর্তা বাবা ও মায়ের ঘাতক ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া কন্যা ঐশী রহমান গত দুই বছর ধরে বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন। এবার নিয়ে গত তিন তিনটি ঈদ কাটছে তার কারাগারে।

প্রতিবারের ন্যায় এবার ঈদে ঐশীর চাচা মশিউর রহমান রুবেল তাকে দুই সেট নতুন কাপড় কিনে দিয়েছেন। সঙ্গে খরচ করার জন্য প্রিজন ক্যন্টিনে আড়াই হাজার টাকা জমা করেছেন।

দীর্ঘ বন্দী জীবনে ক্লান্ত ঐশী রহমানের চাচা মশিউর রহমান রুবেল ঈদের আগের রাতে বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে আমি ঢাকায় গিয়েছিলাম।

ঐশীকে দুই সেট নতুন কাপড় কিনে দিয়ে এসেছি। আর খরচের জন্য প্রিজন ক্যান্টিনে আড়াই হাজার টাকা জমা করে দিয়ে এসেছি। ঐশীর ছোট ভাই ওহী রহমান আমার সঙ্গে আছে।

তিনি বলেন, ঈদের দিন ঐশির সঙ্গে দেখা হবে না আমার। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের গ্রামের বাড়িতে ঐশীর ছোট ভাইকে নিয়ে ঈদ পালন করবে মশিউর রহমান। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ঐশীর জন্য আমাদের মনটা খুব খারাপ। ও যদি আজকে বাইরে থাকত। অন্তত ছোট ভাই ওহীর সঙ্গে ঈদ করতে পারত।

জামা কাপড় ও ঈদের খরচের জন্য দেয়া টাকা নিয়ে প্রশ্ন করতে চাইলে তিনি বলেন, ঐশীর জন্য যে টাকা আমি দিয়েছি তা আমার বেতনের টাকা। দুই বছর পার হলেও ঐশীর বাবার পেনশনের কোনো টাকা পাইনি।

সাধারণত ঈদের দিন সকালে বন্দীরা অনেকেই গোসল করে নতুন জামা কাপড় পরবে, হয়তো ঐশীর তার ব্যতিক্রম হবে না। গোসলের পর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ও চলে কারাগারে। বন্দীরা সকালে মুড়ি ও সেমাই খাবে, দুপুরে রুই মাছ,ডিম আলুরদম ও সাদা ভাত। এছাড়া রাতে দেয়া হবে পোলাওয়ের সঙ্গে পর্যাপ্ত গরুর গোশত ও একটি করে মিষ্টি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জেলার মো. নেসার আলম বলেন, ঐশী ভালো আছে, অন্য বন্দীদের মতো ঐশীও ভালোভাবেই ঈদ পালন করবে।

প্রসঙ্গত ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী আয়েশা রহমান স্বপ্নার রক্তাক্ত লাশ। পরের দিন তাদের একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমান পল্টন মডেল থানায় আত্মসর্ম্পন করে হত্যার দায় স্বীকার করে।