মেইন ম্যেনু

কারাগারে নূর হোসেনকে দুদকের নোটিশ

ট্রাক চালকের সহকারী থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল সম্পদের মালিক বনে যাওয়া নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার মূল আসামি নূর হোসেনের কাছে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয় থেকে সম্পদ বিবরণীর এ নো‌টিশ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। দুদকের উপ-প‌রিচালক জাহাঙ্গীর আলম এ নো‌টিশ পাঠান।

নূর হোসেনের পাশাপাশি তার স্ত্রীরও সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

দুদক সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

নোটিশে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে দুদকের কাছে সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিতে বলা হয়েছে। নোটিশ পৌঁছার পর কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের মে মাসে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। দীর্ঘ‌দিন নূর হোসেন ভারতের কারাগারে ব‌ন্দি থাকায় এ অনুসন্ধান কাজ আটকে ছিল। নূর হোসেন দেশে ফিরলে এ অনুসন্ধান কাজ আবারও গ‌তি পায়।

দুদক সূত্র আরও জানায়, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নূর হোসেনের অঢেল সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়ি, মাছের খামার ও পরিবহন। শিমরাইল মৌজায় ৩৭৩ নম্বর দাগে প্রায় ১১ শতাংশ জমির ওপর সাত কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ তলা বাড়ি নির্মাণ করেন নূর হোসেন। এ ফ্ল্যাটের উপরে দোতলায় করা হয়েছে ডুপ্লেক্স।

নূর হোসেনের মালিকানাধীন নারায়ণগঞ্জ-চিটাগাং রুটে চলাচলকারী এবিএস পরিবহনের লাক্সারি ৩২টি বাস রয়েছে। সম্প্রতি শিমরাইল মৌজার ৭২ ও ৭৩ নম্বর দাগে ১০ শতাংশ জমির ওপর পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি।

শিমরাইল মৌজায় ৩১২ নম্বর দাগে ১০ তলা ফাউন্ডেশনের ওপর ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন নূর হোসেন। রসুলবাগে সাড়ে আট কাঠা জমির উপর সাত তলা ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি। এ জমির অর্ধেকই সরকারি। এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ মৌজায় ১০ শতাংশ জমিতে সাত তলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।

নূর হোসেনের মালিকানাধীন রাজধানীর গুলশান-২ এ রয়েছে দুটি ফ্ল্যাট। গুলশান লেকের বিপরীতে তিন হাজার ৬০০ স্কয়ার ফুটের দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার। এ ছাড়া বনানী ও ধানমণ্ডিতে আরও দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। নূর হোসেনের চারটি গাড়ি রয়েছে। যার মূল্য আট কোটি টাকা। নূর হোসেন কমপক্ষে ৫০ বিঘা জমির মালিক।

এর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ আঁটি মৌজায় দুই বিঘা জমি রয়েছে। ওই মৌজায় ৪২৮ দাগে প্রায় ৩০ শতাংশ জমি রয়েছে তার নামে। যার বর্তমান মূল্য আড়াই কোটি টাকা।

সানারপাড় এলাকায় সম্প্রতি তিনি চার বিঘা জমি কিনেছেন। নিমাই কসাই এলাকায় শিক্ষক মর্তুজা আলীর স্ত্রী জাহানারার কাছ থেকে ২০ কোটি টাকায় এ জমি কিনেছেন। এখনও এ জমির মূল্য বাবদ ৮০ কোটি টাকা পাওনা আছে জাহানারার। মুক্তিনগরে তার রয়েছে ১৫ কাঠা জমি। নূর হোসেনের শিমরাইলের বাড়ির পেছনে ৪০ বিঘার মৎস্য খামার রয়েছে।