মেইন ম্যেনু

কারাগারে যেভাবে কাটতো সঞ্জয়ের দিনগুলো

আলোচনা, বির্তক, অবশেষে মুক্তির আলো দেখলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব সঞ্জয় দত্ত। অস্ত্রমামলায় সাড়ে তিন বছরের সাজা ভোগ শেষে বৃহস্পতিবার জেল থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি। তার অগণিত ভক্তদের আগ্রহে রয়েছে তার জেল জীবন। কেমন ছিল তার কারাগারের দিনগুলো?

বিবিসি বাংলার সূত্রে জানা যায়, কারাগারে সবচেয়ে নিরাপত্তাপূর্ণ ওয়ার্ড, ‘ফ্যান্সি ওয়ার্ডে’তে ছিলেন সঞ্জয়। আট ফুট বাই দশ ফুটের এ সেলে বাস করতেন তিনি। অদ্ভূত বিষয় হলো, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা ঠিক পাশেই থাকতেন। তাদের সেলগুলো ছিল পাশাপাশি।

কেমন ছিল এ অভিনেতার পোশাক? জানা যায়, কারাবন্দিদের পোশাকই তাকে পরতে হতো। তার কক্ষের বাইরে একটি ছোট বাগান ছিল, সেখানেই সময় কাটতেন তিনি। তবে তা নিরাপত্তা রক্ষীদের নজরবন্দি হয়ে।

তার জেল জীবন নিয়ে একজন কারাবন্দি জানিয়েছেন, তাকে কারাগারে সবাই ‘বাবা’ বলে ডাকত। তবে কী কারণে তার এ নামকরণ হয়েছিল, তা তিনি বলেননি। ধারণা করা হয়, তার প্রতি ভক্তি থেকেই তাকে এ নামে সম্বোধন করা হতো। ভারতীয় মিডিয়া আদর করে তাকে সঞ্জুবাবা নামে ডেকে থাকে।

কারাগারে বেশ কিছু ভালো অভ্যাস আয়ত্ত করেছেন সঞ্জু। সকাল ৬টায় ঘুম থেকে ওঠার কিছু পর কারারক্ষীরা কাগজের ব্যাগ বানানোর জিনিসপত্র নিয়ে আসতো। নিউজ পেপার কেটে কেটে তিনি ব্যাগ বানাতেন।

পাশাপাশি পড়াশোনাও করতেন নিয়মিত। কারা লাইব্রেরি থেকে প্রতি সপ্তাহে তিনি দুইটি বই আনতেন।

আরও একটি মজার তথ্য পাওয়া গেছে। বলা যায়, নতুন ভূমিকায় ছিলেন তিনি। দুপুরে তাকে কারাগারের অভ্যন্তরীণ রেডিও কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তিনি রেডিও জকি (আরজে) হিসেবে কাজ করতেন। দুপুরের খাবারের পরও তিনি এ কাজটি করতেন। তবে সপ্তাহে কত দিন এ কাজ তিনি করতেন- তার তথ্য পাওয়া যায়নি।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেওয়া হতো তার রাতের খাবার। ৮টার মধ্যে নিজের সেলে ঢুকে পড়তে হতো তাকে। পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত তিনি সেখানেই তালাবন্ধ অবস্থায় থাকতেন। এর মাঝেই তিনি নিয়মিত জিম করেছেন। নিজের কাঙিক্ষত সিক্স প্যাক অ্যাবস তৈরি করেছেন। যা হয়তো তার পরবর্তী চলচ্চিত্রে দর্শকরা দেখতে পাবেন।