মেইন ম্যেনু

কারা এই জাঠ সম্প্রদায় ?

ভারতের অন্যান্য উচ্চবর্ণ সম্প্রদায়ের মতো চাকরিতে সমানাধিকারের দাবিতে আন্দোলন করে সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে দেশটির জাঠ সম্প্রদায়। ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য হরিয়ানাতে বাস করে জাঠরা। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশেও বাস করে জাঠ সম্প্রদায়ের সদস্যরা। এরা মূলত কৃষিভিত্তিক একটি সম্প্রদায়।

সমাজের অন্যান্য ব্যবস্থা ও প্রথার মতো জাতি বর্ণ প্রথারও পরিবর্তন ঘটছে প্রতিনিয়ত। অঞ্চল, জাতি ও সম্প্রদায়ভেদে মানবসমাজের নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র আজো চোখে পড়ার মতো। এখনো পর্যন্ত উচ্চতা, গায়ের রং, মাথার মাপ, চুল, চোখের রং, নাক, ত্বক ইত্যাদির বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করেই নৃতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করা হয়। হিন্দু, মুসলিম এবং শিখ- এই তিন ধর্মের লোকই আছে জাঠ সম্প্রদায়ে।

নৃতত্ত্ববিদরা ইন্দো-ভূমধ্য নৃগোষ্ঠিকে প্রধানত দুটি ভাগ করেছেন। এদের একটি হলো দীর্ঘশিরস্ক (লম্বাদেহের অধিকারী লোকজন), যাদের মধ্যে রয়েছে রাজপুত, জাঠ এবং কাশ্মিরী লোকজন। আর অন্যটি হলো মধ্যশিরস্ক (মধ্যম মানের লম্বা) লোকজন। এদের মধ্যে আছে বাঙ্গালী, মারাঠি ও গুজরাটিরা। এ হিসেবে জাঠরা ইন্দো-ভূমধ্য জনগোষ্ঠির দীর্ঘশিরস্ক ধারায় বিভাজিত।

ভারতীয় নৃতাত্ত্বিক হাটন গুহের মতে, জাঠরা দীর্ঘদেহী, এদের মুখমণ্ডল ক্ষুদ্র ও প্রশস্ত, নাক দীর্ঘ, ক্ষেত্র বিশেষে কিছুটা বাঁকা। এদের গায়ের রং বাদামি। চোখ গভীর কালো কখনো হালকা বাদামী, চুল কালো সরল ও কোকড়ানো।

ঐতিহ্যগতভাবে জাঠরা উত্তর ভারত ও পাকিস্তানের কৃষি নির্ভর একটি সম্প্রদায়। যদিও সারা বিশ্বেই তাদের বিচরণ লক্ষণীয়। কৃষিই তাদের জীবীকার প্রধান উৎস। বংশানুক্রমে জাঠরা মেষপালন করে আসছে। এরা সাধারণত উট, গরু, ছাগল ও ভেড়া পালনের কাজে দক্ষ। পশু পালন ব্যবস্থাপনায় তাদের ভূমিকা অনেক। বলা হয়ে থাকে, পশুর রোগ নিরাময়ে জাঠরাই প্রথম উদ্যোগী হয়েছিল।

শিল্পনির্ভর সমাজ ব্যবস্থার আগে এই সম্প্রদায়টি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খামারে ভেড়ার পাল চড়ানোর কাজ করতো। এছাড়া অস্ট্রেলিয়াতেও পশুপালন করতো তারা। মিশ্র চাষের সূচনা জাঠরাই (মেষপালক) প্রথম শুরু করে বলে এক গবেষণায় দেখা গেছে। এছাড়া কৃষিনির্ভর সমাজে সেচের প্রচলন তারাই প্রথম শুরু করেছিল। জাঠরা পরিশ্রমী। অনেক সম্প্রদায়ই কৃষিজমি চাষে তাদের অনুসরণ করত।

উল্লেখ্য, চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে কোটা সংরক্ষণের দাবিতে সম্প্রতি জাট সম্প্রদায়ের তীব্র আন্দোলনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে হরিয়ানায়। প্রভাব পড়ে রাজধানী দিল্লিতেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে চলে নানামুখী তৎপরতা। এক পর্যায়ে নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি আন্দোলন তুলে নেয়ার আহ্বান জানান জাঠ নেতা জয়পাল সিং।