মেইন ম্যেনু

কারিনার সিনেমায় নামাতেই নিষেধ ছিল

কাপুর খানদানের ছোট ‘রাজকুমারী’! শোনা যায়, রাজ কাপুর নাকি চোখে হারাতেন তাঁকে। পরবর্তীতে তিনিই যে বলিউড সাম্রাজ্যের অন্যতম ‘পাটরানী’ হয়ে উঠবেন অনেকেই হয়ত ভাবেননি। ভাবেননি তার আরও একটা কারণ, একসময় পরিবারের মেয়েদের সিনেমায় নামার ব্যাপারে ঘোরতর আপত্তি ছিল কাপুর বংশের ‘মাথাদের’। ব্যাপারটা অনেকের কাছে অবাক করার মতো হলেও এটাই সত্যি। সেই পৃথ্বীরাজ কাপুরের আমল থেকে চলে আসছিল এই চল। এমনিতেই মুম্বাই তৎকালীন বোম্বাইগ্গ ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রিতে ঘোরতর রক্ষণশীল বলে দূর্নাম ছিল কাপুর বংশের। রাজজীর বড় ছেলে রনধীরের বিয়ের পর প্রায় জোর করেই ববিতাকে সাজানো কেরিয়ার ছেড়ে গৃহবন্দী হয়ে পড়তে হয়েছিল! এজন্য, ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও ছাড়তেন না ববিতা। ১৯৮৭-তে রাজ কাপুর চিরঘুমের দেশে চলে যাওয়ার পর আগলটা ভেঙে যায়। রনধীরের বড় মেয়ে করিশ্মা রীতিমতো ঢাক-ঢোল পিটিয়েই পর্দায় আত্মপ্রকাশ ঘটান। একসময় তাঁর অভিনীত বেশ কিছু জনপ্রিয় ছবিতে ‘লোলো’-র ‘অদাকারি’ দর্শকমনে ছাপ ফেলে। অচিরেই করিশ্মার গায়ে লেগে যায় বাণিজ্য সফল নায়িকার তকমা! তবে, মেয়েদের পর্দায় অভিনয় করার ব্যাপারটা খোলা মনে মেনে নিতে পারতেন না স্বয়ং রনধীরও। স্ত্রী ববিতার সঙ্গে ওঁর বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম কারণও ছিল দুই মেয়েকে নিয়ে এই অনভিপ্রেত টানাপড়েন! একসময় মা ববিতার সাহচর্যে বেড়ে উঠেছেন, এবং বেছে নিয়েছেন ঝুঁকির পথ। রক্ষণশীল পরিবারের হাজারো আপত্তি এবং বিধিনিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শেষমেশ পর্দাই হয়ে উঠেছে রনধীর-ববিতার দুই কন্যের রুজি-রুটির একমাত্র সম্বল। তবে, অস্বীকার করার কোনও উপায়ও নেই যে, কাপুর খানদানের রক্ত বহমান যাঁর শিরা- উপশিরায় তাঁর পক্ষে পর্দায় নিজেকে মানানসই করে তুলতে খুব অসুবিধা হওয়ার কথাও নয়। জানেন তো, শৈশবে মা ববিতা বা সমকালীন অন্য নায়িকাদের কেউ নন, বরং করিনার হৃদয়ে ঢেউ তুলতেন বিগত প্রজন্মের দুই অসামান্যা মহানায়িকা মীনাকুমারী এবং নার্গিস। একটু অস্বাভাবিক মনে হতেই পারে বৈ কী! করিনার জন্ম ১৯৮০-তে। যখন বড় হয়েছেন, উপল করেছেন ‘মাধুরী’ ম্যাজিক কাকে বলে! সেই সময়ের অন্য ডাকসাইটে নায়িকারাও নিয়মিতই পর্দায় ঢেউ তুলছেন তখন। এঁদের কারোকে ‘আইডল’ না করে পঞ্চাশ- ষাটের দশকের নায়িকাদের নিজের ‘আরাধ্য’ করে তোলার মধ্যে স্বতন্ত্রতার ছাপ স্পষ্ট। যা নিশ্চিতভাবেই করিনার কেরিয়ারে পরবর্তীতে পরিলক্ষিত হয়েছে। যা করতে চেয়েছেন একটু ‘হট কে’। অন্যভাবে। অন্য আঙ্গিকে।

অনেকেরই হয়ত মনে নেই ‘কহো না প্যার হ্যায়’ ছবিতে রাকেশ রোশন প্রথমে হূতিকের জন্য করিনাকেই বেছেছিলেন। শুটিং শুরুও হয়ে গিয়েছিল। পরে, নিজেই ছবি থেকে সরে আসেন রনধীর তনয়া। প্রথমদিকে ঘটনাটা নিয়ে মুম্বই সিনে দুনিয়ায় রীতিমতো হইচই হয়েছিল। ‘কহো না…’ জবরদস্ত হিট করার পর মিডিয়া খোদ করিনার কাছেই জানতে চায়, আক্ষেপে ভুগছেন কী না! বয়স তখনও একুশ ছোঁয়নি, অথচ কী পরিপক্ক বুঝিয়ে দিয়েছিলেন নিজের উত্তরেই। সাফ জানিয়েছিলেন, ‘শুটিং চলার সময় আমার মনে হয়েছিল পরিচালক ইচ্ছে করে নায়ককেই বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন। আমার কেরিয়ারের পক্ষে এমন ছবি দিয়ে অভিষেক ঘটানোটা খুব একটা কাজে দিত না!’ আসলে প্রথম থেকেই নিজের কেরিয়ারকে সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর থাকতে চেয়েছেন। জীবনের একটা পর্বে হঠাৎ মনে হয়েছিল, পর্দা নয়, আদালতকক্ষই হতে পারে তাঁর নিজেকে চেনানোর সেরা মঞ্চ! মুম্বইয়ের সরকারী আইন কলেজে ভর্তিও হন। পড়াশোনার অভ্যাসটা ছিলই। বই পড়তে ভীষণই ভালোবাসতেন। আইন পড়তে ঢোকার পর পড়ার রোগটা আরও বেশি চেপে বসে। যদিও মাত্র একবছর পড়ার পর পাকাপাকি সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেললেন আর অন্য কোথাও নয়, ডানা মেলবেন বলিউডেই! যেমন ভাবা তেমন কাজ। কিশোর নমিত কাপুরের কাছে অভিনয়ের শিক্ষা নিতে শুরু করলেন। সহজাত প্রতিভা তো ছিলই, তার সঙ্গে যোগ হল নিজেকে ঘষেমেজে নিয়ে আরও পরিমার্জিত, শানিত করা। জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের পর্দা উঠল! যে ক্ষেত্রে তিনি অচিরেই নিজেকে মেলে ধরবেন এবং মাত্র এক দশকের মধ্যেই নিজেকে তুলে নিয়ে যাবেন প্রায় অনতিক্রম্য উচ্চতায়। বলিউড মহাতারকাদের মধ্যে বিপণনযোগ্যতার নিরিখে করিনা আজও যে তুলনাহীন, হালে মুক্তি পাওয়া ‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এ নতুন করে বোঝা গিয়েছে। এ যাবৎ তাঁর অভিনীত ছবিগুলির প্রায় প্রতিটিতেই নিজস্ব অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। ধামাকাদার নায়কের আলোয় ম্লান হয়ে যেতে দেননি নিজেকে। করিনার সবচেয়ে বড় ‘ইউ এস পি’ বোধহয় এটাই। নিজের গরিমায় সদা উজ্জ্বল থাকা। ‘ওমকারা’, ‘চামেলী’, ‘অশোকা’, ‘দেব’, ‘জব উই মেট’, ‘হিরোইন’, ‘কুরবান’- সব ছবিই ভিন্ন আঙ্গিকে গড়ে ওঠা। কিন্তু, অনুপম অভিনয় দক্ষতা দিয়ে সাধারণ দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন করিনা।

২০০০ সালে পর্দায় পা রাখা অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে জুটি বেঁধে। ছবির নাম ছিল ‘রিফিউজি’। বড় ‘হিট’ নয়, তবে একেবারে হতাশও করেনি ‘বক্সঅফিসে’। অভিনয়টা যে বেশ দরের প্রমাণ করে দিয়েছিলেন প্রথম ছবিতেই। স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ফিল্মফেয়ার’ পুরস্কারও পান পরের বছর। ‘বেস্ট ডেবিউ অ্যাকট্রেস’। এবং এসবের পরও যে তাঁর কেরিয়ার মসৃণ গতিতে এগিয়েছে তা কিন্তু নয়। মাঝেমধ্যেই ‘ফ্লপ’-এর মুখ দেখতে হয়েছে। তবে, হারিয়ে যাননি। হারানোর কথাও তো ছিল না! সঈফ আলি খানের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে নিয়ে বলিউডি সার্কিটে ফিসফাসটা অবশ্য একেবারে স্তব্ধ। পরিণত করিনা এখন অনেক বেশি করে মন দিতে পারছেন নিজের ‘কাজে’! ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসা করার পর তাঁর কেরিয়ারে নতুন করে ঝলমলানি! আপাতত অবশ্য করিনা ব্যস্ত পরের ছবি নিয়ে। অভিষেক চৌবের ‘উড়তা পাঞ্জাব’। শাহিদ কাপুর এবং আলিয়া ভাট যে ছবিতে ওঁর সহ- অভিনেতা। এছাড়াও, অর্জুন কাপুরের সঙ্গে জুটি বেঁধে আর বালকির ‘কি অ্যান্ড কা’ ছবিতে শুধু নায়িকার চরিত্রেই নয়, করিনাকে পাওয়া যাবে প্রযোজকের ভূমিকাতেও। ১৯৮০-তে জন্ম, সেই হিসেবে আজ, ২১ সেপ্টেম্বর ৩৫ পূর্ণ করছেন। মোহময়ী নায়িকার জন্য রইল জন্মদিনের অফুরান শুভেচ্ছা। ‘জব উই মেট’-এর গীত ধীঁলোর মতো নিষ্পাপ সৌন্দর্যের ‘প্রতীকী’ হয়েই থাকুন তিনি চিরকাল। এটাই করিনা-ভক্তদের আকুল প্রার্থনা। আজকাল



« (পূর্বের সংবাদ)