মেইন ম্যেনু

‘কালক্ষেপণের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে’

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা কমিয়ে আনা হলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় কার্যকরের দাবিতে শুক্রবার গণজাগরণ মঞ্চের গণঅবস্থান ও মিছিল কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পূর্বঘোষণা মোতাবেক বিকেল ৪টার গণঅবস্থান কিছু সময় পরে শুরু হয়। এ সময় নানা প্রতিবাদী স্লোগানের মধ্য দিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী-সমর্থকরা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান। এর পর মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘আমরা দেখেছি কালক্ষেপণের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পুরো প্রক্রিয়াটিকে বারংবার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। মুজাহিদের চূড়ান্ত রায়ের দেড় মাস এবং সালাউদ্দিন কাদেরের রায়ের এক মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হয়নি। ফলে সকল বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরেও রায় কার্যকরের প্রক্রিয়াটি ঝুলে আছে। আমরা এর আগেও দেখেছি রাতের অন্ধকারে রায় কার্যকরের প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ এসেছে। কাজেই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং রাজপথে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করার সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।’

বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করে ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘যে গতিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ সম্পন্ন হচ্ছে তাতে সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন হতে ১০০ বছর লেগে যাবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলাম ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারে গতিসঞ্চারের জন্য। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি উল্টো ট্রাইব্যুনাল কমিয়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত এবং এটি হবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী সাঈদা সুলতানা এনি, জীবনানন্দ জয়ন্ত, ভাস্কর রাসা প্রমুখ। এর পর যুদ্ধাপরাধীদের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের মিছিল শাহবাগ থেকে টিএসসি ঘুরে আবার শাহবাগে ফিরে আসে।