মেইন ম্যেনু

কাশ্মির নিয়ে ফের যুদ্ধাবস্থায় ভারত-পাকিস্তান

চির বৈরী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা ফের বাড়ছে। এবারও সেই কাশ্মির নিয়ে। রীতিমতো একটা যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। হামলার আশঙ্কায় পাকিস্তান তাদের রণ প্রস্তুতির কথা এরই মধ্যে জানান দিয়েছে। বিবিসির এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আশঙ্কা, যে কোনো সময় ভারত তার দেশে আক্রমণ করে বসতে পারে। ১৮ জন ভারতীয় সেনাকে হত্যার পর পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে নওয়াজ শরিফ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহায়তাও কামোনা করেছেন। এদিকে পাকিস্তানের সেনা প্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ বলেছেন, তার দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত।

গত সোমবার সেনা কমাণ্ডারদের নিয়ে তিনি এক বৈঠক করেন। বৈঠকে ভারতের হুমকি মোকাবেলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাকিস্তানের ওপর নানামুখী চাপ বজায় রাখতে নানা কৌশল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে ভারত। এর আগে সেই কাশ্মির নিয়েই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিন তিন বার (১৯৪৭, ১৯৬৫ ও ১৯৯৯) যুদ্ধ হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও ভারতীয় সেনারা পাক সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান পরাস্থ হয়।

অতি সম্প্রতি কাশ্মির নিয়ে একটা উত্তেজনা ছিল। কয়েক সপ্তাহের টানা সহিংসতায় কাশ্মিরে বহু লোকের প্রাণহানি ঘটে। তবে সবশেষে কশ্মিরের পুরির সেনাক্যাম্পে জঙ্গি হামলায় ১৮ সেনা নিহত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে থাকে। এখন তা যুদ্ধাবস্থায় রূপ নিয়েছে।

বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তান তার দেশের উত্তরাঞ্চল দিয়ে ভারতীয় আক্রমণের আশঙ্কা করছেন৷ জম্মু-কাশ্মীরের উরিতে জঙ্গি হানার পর ভারতের নানামুখী উদ্যোগে এখন পাকিস্তান ভীষণ বেকায়দায় রয়েছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম উরির ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। রাশিয়া-ফ্রান্স যৌথভাবে পাকিস্তানের অবস্থানকে কড়া সমালোচনা করেছে৷ সামগ্রিকভাবে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরেছে পাকিস্তান৷

উরিতে হামলার পরই ভারতজুড়ে পাকিস্তান বিরোধী একটা সেন্টিমেন্ট তৈরি হয়েছে। মোদি সরকারও পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একা করে দেয়ার পাশাপাশি উরির হামলার একটা উপযুক্ত জবাব দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, উরিতে জঙ্গি হানার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী ক্রমেই সীমান্তের আরও কাছে অবস্থান নিয়েছে।

ভারতীয় সেনা আক্রমণের আশঙ্কায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা পিআইএ অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট, স্কার্দু ও চিত্রল এলাকায় ‘বিমান পরিষেবা আপাতত স্থগিত করে দিয়েছে বলে ভারতের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে৷ ইসলামাবাদ ও পেশোয়ারের মধ্যে জাতীয় মহা সড়কের কিছু অংশও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে খবরে জানা গেছে।

উরিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ভারতের দাবি হামলাকারী জঙ্গিরা জৈশ ই মহম্মদ সংগঠনের৷ পাকিস্তান সরকারের মদতে সীমান্ত পার করে তারা হামলা চালিয়েছিল৷ এই দাবি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান৷