মেইন ম্যেনু

কিডনি নষ্ট হয়ে যায় কেন?

প্রশ্ন : কিডনি সংযোজন অত্যন্ত জটিল ও আধুনিক একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এটি বাংলাদেশে হচ্ছে। একজন মানুষের কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট (প্রতিস্থাপন) প্রয়োজন হয় সাধারণত তার কিডনি বিকল হয়ে গেলে। কিডনি বিকল হয় কেন?

উত্তর : কিডনি বিকল একটি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর জন্য অনেক ব্যয়বহুল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এর কারণের মধ্যে সংক্রমণ একটি কারণ। যেমন আমরা বলি গ্লুম্যারো নেফ্রাইটিস। এ ছাড়া পাইলোনেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস, ডায়াবেটিস যার বেশি থাকে, উচ্চ রক্তচাপ যার বেশি থাকে, যাকে আমরা বলি হাইপার টেনশন। এরপর অন্যান্য আরো কিছু অসুখ আছে, যেমন পাথর অথবা টিউমার দিয়ে রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়, বের না হয়। যাকে আমরা প্রচলিত একটি শব্দ ব্যবহার করে বলি—অবসট্রাকটিভ ইউরোপ্যাথি। এ ধরনের অসুখগুলো হলে কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

প্রশ্ন : আমরা জানি কিডনি বিকল হয়ে যাওয়াটা শুরুতে অনেক সময় ধরা পড়ে না। এটা যখন ধরা পড়ে তখন অনেকখানি ক্ষতি হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে কিডনির চিকিৎসা করে কি আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?

উত্তর : কিডনি যদি বিকল হয়, যদি অবসট্রাকটিভ ইউরোপ্যাথি হয়, তখন আমরা যদি বাধা দূর করে দিই এটি আগের পর্যায়ে ফিরে আসে। তবে এটা নির্ভর করবে কতদিন এই অবসট্রাকটেড অবস্থায় ছিল।

আমি রোগীদের একটি সহজ উদাহরণ দিই। একজন মানুষকে যদি আপনি একটি আঘাত করেন, সামান্য থাপ্পড় দিলেন, সে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ থাকবে। কিন্তু একজন মানুষকে যদি আপনি অজ্ঞান করে ফেলেন, আর যদি মেরে ফেলেন তাহলে আর জীবনেও সুস্থ হবে না। কিডনির বেলায়ও তাই। কিডনির অসুখগুলো কতদিন থেকে ভোগাচ্ছে, সেটার ওপর নির্ভর করবে কতটা সে পূরণ করতে পারবে।

তাই সবাইকে একটি কথা বলব। যেহেতু এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, আপনারা অবশ্যই এগুলোর চিকিৎসা করবেন। যাতে ওনাদের গুরুতর পরিণতির দিকে যেতে না হয়।

প্রশ্ন : যদি গুরুতর পরিণতির দিকে দুর্ভাগ্যবশত যায়, তার দুটো কিডনিই হয়তো বিকল, সে ক্ষেত্রে তার চিকিৎসার কী আছে? একটি তো আমরা জানি ট্রান্সপ্ল্যান্ট। তবে এর বিকল্প কী রয়েছে?

উত্তর : যখন নাকি কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়, তখন তো অন্য কথা। মনে করেন যদি খানিক বিকল হয়, তখন এর মেডিকেল চিকিৎসা আছে, আমরা রাখি। মেডিকেল চিকিৎসায় অনেকদিন ভালো থাকা যায়। যখন সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায় তখনই হয় ডায়ালাইসিস করি, অথবা কিডনি সংযোজন করি। ডায়ালাইসিস বিভিন্ন রকম আছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরামর্শ দিই, হেমোডায়ালাইসিস—রক্ত দিয়ে যে ডায়ালাইসিস করা হয়। এ ছাড়া প্যারিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস আছে। অথবা কন্টিনুয়াস এমবিলুটারি প্যারিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস আছে। এখানে সে বাড়িতে বসে বসে ডায়ালাইসিস করতে পারে। রোগী নিজে নিজেই করে, তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দেওয়া হয়। পেটে একটি নল বসিয়ে দেওয়া হয়। এটা দিয়ে তাকে শিখিয়ে দেওয়া হয় এবং সে বাড়িতে করতে পারে। এগুলো হলো তার চিকিৎসা।

প্রশ্ন : কিডনি বিকল হলে, একজন রোগীর হাতে মাত্র দুটো পথ রয়েছে। ডায়ালাইসিস অথবা কিডনির ট্রান্সপ্ল্যান্ট। সেই ক্ষেত্রে একজন রোগীকে কী পরামর্শ দেবেন? তিনি কি ডায়ালাইসিস করবেন, না কি তার ট্রান্সপ্ল্যান্টে যাওয়াই উচিত। ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে চাইলেই কি সবাই করতে পারবে?

উত্তর : এ দুটো বিষয়ের মধ্যে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে পারলে ভালো। কারণ এতে তার জীবনের যে গতিধারা সেটি কম ব্যাহত হয়। মনে করেন ডায়ালাইসিস করতে গেলে, তাকে সপ্তাহে তিনদিন হাসপাতালে যেতে হবে। গিয়ে ডায়ালাইসিস করতে হবে। ঘণ্টা চার-পাঁচ হাসপাতালে থাকতে হবে। তবে একবার যখন সংযোজন করে ফেলে কিডনি, তখন শুধু তার ওষুধ খেতে হয়। প্রথম দিকে একটু বেশি। এরপর ছয় মাস গেলে অনেক কমে যায় এবং জীবনটা অনেক স্বাভাবিক হয়। স্বাভাবিক কাজকর্ম সহজে করতে পারে। তার জীবনযাপন প্রায় আগের মতো হয়ে যায়।-এনটিভি