মেইন ম্যেনু

কিরণমালায় সয়লাব ঈদের বাজার

বাংলাদেশে ভারতীয় টেলিভিশনের সিরিয়ালের মতই জনপ্রিয় সিরিয়ালের চরিত্রগুলো। গেল বছর থেকে চালু ঈদে সেই চরিত্রগুলোর বিশেষ পোশাকের চল। বিশেষ কোনো চরিত্রের নামে নামকরণ করা হয় পোশাকের। ঈদে সিরিয়ালে আসক্ত তরুণীদের কাছে এসব পোষাকই হয়ে ওঠে প্রধান আকর্ষণ।

গত বছর ঈদের জনপ্রিয় ড্রেস ছিল পাখি। এবার আরেক জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘কিরণমালার’ কেন্দ্রীয় চরিত্র রুপকথার রাজকন্যা কিরণমালা নামের পোশাক। যারা এই সিরিয়ালটি নিয়মিত দেখেন তারা হয়তো নামটির সাথে বেশ পরিচিত হয়ে থাকবেন। গতবার স্বামী বা বাবার কাছে পাখি পোশাক না পেয়ে নারীর আত্মহত্যার মতও ঘটনা ঘটেছিল। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিরণমালা বাজারে আসতে না আসতেই তার বায়নায় আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

আর এসব পোশাকের বিশেষ এই ধরনের নামকরণও হয় এই উদ্দেশ্যেই বলে জানালেন নিউ মার্কেটের কাপরের ব্যবসায়ী নয়ন। তিনি জানান আরো জানান, মেয়েরা সাধারণত একটু ফ্যাশনেবল হয়ে থাকে। তারা নাটক সিনেমায় কোনো নারীকে যে পোশাকে দেখেন সাধারণত তারা সেটাই নেয়ার বা পরার চেষ্টা করে থাকেন। তাদের এই মনোভাবকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী। তারা বাজারে যে পোশাকটা নতুন আসে সেটার নাম দেন কোন সিরিয়াল বা নায়িকার নামে। ফলেই নারীরাও হুমড়ি খেয়ে ওই পোশাক কিনতে উঠে পড়ে লাগেন।

রাজধানীর নিউ মার্কেট ও বঙ্গবাজার মার্কেট ঘুরে দেখা গেল, এবার চলছে ভারতীয় পোশাক কিরণমালার জয় জয়কার। এমন কোনো দোকান নেই যে দোকানে এই পোশাকটি খুঁজে পাওয়া ভার। থরে থরে সাজানো হয়েছে প্রতিটি দোকানে। যেন সহজেই চোখে পড়ে এ জন্য কেউ রেখেছেন দোকানের সামনে আবার কেউ নারী সদৃশ্য বড় বড় পুতুলকে পরিয়ে দিয়েছেন এসব পোশাক। শুধু কি পোশাক সাথে তার চুল,অলংকার এবং জুতোও। ফলে ওই পোশাক পরলে একজন নারীকে কেমন লাগবে তা যেন দেখেই বুঝতে পারেন তারা।

কিরণমালা বড়দের মেয়েদের পাশাপাশি ছোট শিশুদেরও পছন্দের তালিকায় প্রথম। ফলে দোকানদাররা কিরণমালা ছাড়া আর অন্য পোশাকও বেশি রাখছেন না। মধ্যবিত্তের জন্য দামে চড়া হলে তবু চাই এ পোশাক।

দেড় হাজার থেকে শুরু করে প্রায় ছয় হাজার টাকায় বিক্রি করছেন এই পোশাকটি বলে জানালেন বাধন ফ্যাশেনের কর্মী সুমন। নিউ মার্কেটের একটি দোকানের বাইরে নেড়েচেড়ে কিরণমালা পোশাক দেখছিলেন বিডিআর-২ নম্বর গেট এলাকা থেকে আসা সুমনা বেগম। তার সাথে কথা হলে তিনি জানালেন, একমাত্র মেয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ে। তার প্রাইভেট থাকায় তাকে নিয়ে আসতে পারেননি। তবে তিনিই তার জন্য নতুন মডেলের এই পোশাকটির নাম শুনে দেখছেন এবং নিয়েও যাবেন।

একই মার্কেটে মায়ের সাথে এসেছেন ৫ বছরের মৌসুমী আক্তার। সে কিরণমালা দেখেই জিদ ধরেছে ওই পোশাক ছাড়া আর কিছু নেবে না। ঈদকে সামনে রেখে দুপুরের পরেই মার্কেটগুলোর কেনাটাকাটা জমে উঠছে। আর তা থাকছে রাত অবধি। তবে এখন পুরুষ ক্রেতার চেয়ে নারী ক্রেতাই বেশি। রোজার অর্ধেক থাকায় বাসার কাজকর্মও কম। সংসারে তেমন চাপ নেই এখন। ফলে এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন নারীরা ।

নিউ মার্কেট মধ্যবিত্তের মার্কেট। যারা খুব দামী কাপড় কিনতে পারেন না তাদের জন্যই এই মার্কেট। স্বল্প দামে বেশ ভাল কাপড় পাওয়া যায় এই মার্কেটে এ জন্যই আসা বলে জানালেন ধানমন্ডি সিটি কলেজের ছাত্রী নওমী। নিউ মার্কেটে কোন কাপড় যে দামে পাওয়া যায় তার অর্ধেক দামেই মিলে বঙ্গবাজার মার্কেটে ওই কাপড়। ফলে স্বল্প টাকার আরেক শেষস্থল এই মার্কেট। তবে এখানেও ভারতীয় পোশাকের একক আধিপত্য।

শুধু কি থ্রি-পিছের নাম ভারতীয় সিরিয়ালের নামে রাখা হয়েছে বাজারে যেসব শাড়ি এসেছে সেগুলোর নাম হচ্ছে পিয়র, লাভস্টোরী, সুস্মিতা ও গুরুজি। এই তিন শাড়ির মধ্যে এবার নারীদের বেশ পছন্দের গুরুজি বলে জানালেন বঙ্গমার্কেটের আরাফাত শাড়ি হাউজের শরীফ।

তিনি জানালেন, দেশীয় শাড়ি নারীরা কেনেন। যাদের টাকা বেশি তারাই ভারতীয় শাড়ি কিনে থাকেন। তবে এবার গুরুজি শাড়িটা একটু বেশিই চলছে।

গতবারের ন্যায় এবারও ভারতীয় পোশাকের আধিপত্যে বেশ উদ্বিগ্ন দোকানদাররা। বঙ্গবাজারের অনেক দোকানদারই জানালেন, এভাবে ভারতীয় পোশাক দিনদিন বাজার দখল করলে দেশীয় পোশাক কিনতে মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। আর এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন কাপড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে যারা উৎপাদন করছেন তারাও।