মেইন ম্যেনু

কিশোরগঞ্জে স্কুলের শ্রেণীকক্ষে ধানের বস্তা ॥ শিক্ষার্থীরা বসার সিট পাচ্ছেনা

খাদেমুল মোরসালিন শাকীর, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতা: কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ফুলের ঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাশ রুমে ধানের বস্তা রেখেছে প্রধান শিক্ষক। ফলে ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বসার আসনের অভাবে শুধুমাত্র বসার আসনে বই রেখে সেই আসনে বসে ক্লাশ করে আসছে ।

স্কুলের একজন সহকারী শিক্ষক অবসরে যাওয়ার ফলে ৩জন শিক্ষক দিয়ে কোনমতে চলছে মাগুড়া ফুলেরঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। সরেজমিনে কয়েকজন সংবাদকর্মী সেই স্কুলে গেলে প্রমান পায় তার বাস্তবচিত্র। স্কুলে গিয়ে দেখা যায়,সহকারী শিক্ষক ইসরাত জাহান ক্লাশে শিক্ষার্থীদেরকে ক্লাশের পড়া দিয়ে অফিসে কাজ করছে। আর শিক্ষার্থীরা ক্লাশে শিক্ষক না থাকায় বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বেঞ্চের উপর বসিয়ে হুই হুল্লোর করে চিৎকার করছে।

প্রধান শিক্ষক মাহবুবুন্নাহার স্কুল ছেড়ে তার বাবার বাসায় অবস্থান করছে। আরেকজন সহাকরী শিক্ষক দিজেন্দ্র নাথ হাত ধোয়ার (হ্যান্ড ওয়াস ডিভাইস) কেনার জন্য বাহিরে অবস্থান করছে। স্কুলে নিয়োগকৃত শিক্ষককের পরিবর্তে ভাড়াটিয়া (প্যারা) শিক্ষক দিয়ে স্কুল চলছে। প্যারা শিক্ষক মশিয়ার রহমান ও আবু বকর সিদ্দিক জানান,শিক্ষক সংকটের কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে রেখেছে। প্রায় দেড় মাস হলেও স্কুলে তৈরী হয়নি ক্লাশ রুটিন। অপর দিকে সরকারী ভাবে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য (স্লিপের টাকায় কেনা) বরাদ্দকৃত খেলার সামগ্রী,ক্রিকেট ব্যাট ও প্রাক প্রাইমারী শিশুদের খেলনা সামগ্রী দেখতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুন্নাহার বলেন,আমার একটি চাবি হারিয়ে যাওয়ায় আপনাদেরকে এসব সরঞ্জামাদী দেখাতে পারছি না।

স্কুলের সভাপতি আমার বাবা আফতাব উদ্দিনের কাছে আর একটি চাবি আছে। বাবা এলাকার বাহিরে থাকায় খেলার সামগ্রী ও দ্বিতীয়ার্ধে শিক্ষার্থীদেরকে স্কুল ফিডিংয়ের বিস্কুট দিতেও পারছি না। আগামীকাল চাবী নিয়ে এসে তাদের দু’দিনের বিস্কুট একসাথে দেয়া হবে। ৩য় শ্রেণীতে হাই বেঞ্চ সংকটের কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান,বেঞ্চ সংকট থাকায় আমরা তাদেরকে কষ্টে পাঠদান করে আসছি।

তারপর সংবাদ কর্মীরা বন্ধ থাকা ৫ম শ্রেণীর কক্ষে জানালা দিয়ে উকি দিয়ে দেখলে ক্লাশ রুমে পর্যাপ্ত পরিমানে বেঞ্চ আছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন,ওয়াস রুমের কাজের জন্য সেই রুমের ভিতর কিছু মালামাল রাখা হয়েছে এবং বেঞ্চগুলো ময়লা। বন্ধ কক্ষটিতে বেঞ্চ অধিকপরিমান থাকার পরও কক্ষটি ব্যবহার করা হচ্ছে না। ক্লাশের এক কোনে রাখা হয়েছে ধানের কয়েকটি বস্তা।

ক্লাশ রুটিন তৈরীর বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,কাজের অনেক চাপ তারপর শিক্ষক সংকট এসবের কারণে ক্লাশ রুটিন তৈরী করা হয়নি। অপর দিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অবহেলার কারণে গ্রাম পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো কোন রকমে চলছে।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসানের সাথে কথা হলে তিনি জানান,সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (বর্তমানে নড়াইল জেলার সহকারী প্রশাসক) মোঃ সিদ্দিকুর রহমান প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে বেঞ্চ’র জন্য সংকটের তালিকা চেয়েছেন এবং সে অনুযায়ী অনেক প্রতিষ্ঠান বেঞ্চ সংগ্রহ করেছেন ।

মাগুড়া ফুলের ঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেন? বেঞ্চ সংগ্রহ করলেন সে বিষয়ে দেখা হচ্ছে। আর অন্যান্য বিষয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলেন। সহাকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন,সহকারী শিক্ষক দিজেন্দ্র স্কুল থেকে কাজের জন্য বাহিরে গেছেন তা আমার জানা নেই। তবে হান্ড ওয়াসের ডিভাইস কিনতে যাওয়ার কথা। প্রধান শিক্ষকের বড়ভাই ইলেক্ট্রিশিয়ান মিঠু সংবাদ প্রকাশ না করতে সংবাদকর্মীদেরকে টাকার প্রস্তাব দেন।