মেইন ম্যেনু

কিশোরগঞ্জ কৃষি ব্যাংক এখন দালালদের দখলে

কিশোরগঞ্জ উপজেলার রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এখন দালালদের দখলে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,প্রতি রবিবার সকাল থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত ব্যাংকের উপরে নীচে ও পিছনে কয়েকজন দালাল অবস্থান করে থাকেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা কৃষকেরা টাকার অভাবে চাষাবাদের জন্য রাজশাহী কৃষি ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ নিয়ে থাকেন।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস কৃষি ব্যাংকে ঋণ নিতে গেলে কোন কর্মকর্তা সহজে ধরা দেয় না। দেখিয়ে দেয় ব্যাংকে দালাল দুলাল হোসেন (ছোট),দুলাল হোসেন (বড়) ও মোস্তাফিজার রহমানসহ অন্য দালালদের। তাদের সাথে কথা বলে কৃষি ঋণ নিতে চাইলে তারা বিভিন্ন প্রকার দেন দরবার ছাড়া ব্যাংকে ঋণ হবে না বলে জানিয়ে দেয়। যাদের ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া জরুরী তারা দালালদেরকে ঋণের প্রায় অর্ধেক টাকা দিয়ে ঋণ গ্রহন করেন।

অপর দিকে যারা কম টাকা ঘুষ দিয়ে টাকা তোলার চেষ্ঠা করেন তাদের ঋণ নিতে দীর্ঘদিন সময় লাগে। আর এসব কলকাঠি নাড়েন কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি ব্যাংকের সহকারী কর্মকর্তা মিলন হোসেন। তার টেবিলের সামনে প্রতিদিন দালালদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। কোন গ্রাহক ঋণ নিতে আসলে দালাল চক্রের সদস্যরা তাদেরকে ব্যাংকের নিয়ে গিয়ে নানান ধরণের কন্ডিশন দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ নিতে বলে। গ্রাগকরা দালালদের কথা মতো রাজি হলে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে কোন সময় লাগে না। তাদের লাগে না কোন জমির অরিজিনাল কাগজ।

দালাল চক্রের লোকেরা তাদেরকে জমির ভূয়া দলিল ও মাঠ পর্চা দিয়ে লোন পাশ করিয়ে নেন। আর যারা ঘুষ ছাড়া ঋণ নিতে ব্যাংকে আসেন তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে ঋণ দেয়া হয়। ঘুষ না দিলে অনেক সময় কৃষকের চাহিদা মতো ঋণ দেয়া হয় না এবং গ্রাহকের মূল্যবান কাগজ লুকিয়ে রেখে গ্রাহকদেরকে হয়রানি করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার (১৩-০৮-২০১৫) তারিখে ব্যাংকে কৃষি ঋণ নিতে আসা বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের “আবুল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান,আমি প্রায় এক সপ্তাহ থেকে ব্যাংকে ঋণ নিতে এসে ঋণ না পেয়ে বাড়ী যাওয়া আসা করছি। আমার আবাদী জমিতে সার ও পানি না দিলে জমির ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাবে। আর আমার হাতে কোন টাকাও নেই। ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারলে চাষাবাদ ভাল করা সম্ভব।

কিন্তু দালাল ছাড়া ব্যাংকে ঋণ দেয় না ব্যাংক কর্মকর্তারা”। “একই ভাবে মুন্সিপাড়া এলাকার মঈনুদ্দিন শেখ মনা বলেন,ব্যাংকে আমি কয়েকদিন থেকে ঋণ নিতে এসে আমাকে ঋণ দিচ্ছে না বরং আমার জমির কাগজ লুকিয়ে রেখে আমাকে হয়রানি করছে ব্যাংকের সহকারী কর্মকর্তা মিলন হোসেন। আমি কাগজের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে কাগজ হারিয়ে গেছে বলে আমাকে নানান কথা বলেন।

তারপর আমি উপজেলার কয়েকজন সাংবাদিকদেরকে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তার ব্যাক্তিগত ফাইল থেকে আমার কাগজ বের করে দেন”। পরে তার (মিলনের) সাথে ঋণ গ্রহীতাদের বাক বিতন্ডা হয়। সাংবাদিকরা ব্যাংকে উপস্থিত হলে দালাল চক্রের সদস্যরা এক এক করে ব্যাংকে নিচে নেমে যান। ব্যাংকের সহকারী কর্মকর্তা মিলন হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের ম্যানেজ করা চেষ্ঠা করেন।

কিন্ত সাংবাদিকরা তাদের তার কথায় দ্বিমত পোষন করলে তিনি মঈনুদ্দিন শেখ মনার ঋণ পাশ করে দেন। এ বিষয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি জানান,ব্যাংকে কোন দালাল নেই,কিন্তু ব্যাংকে জনবল সংকট থাকায় বহিরাগত কিছু লোকদের দিয়ে ব্যাংকের নোটিশ পাঠানোসহ অন্যান্য কাজ করা হয়। সাধারণ লোক দিয়ে ব্যাংকের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করাকে আপনি কতখানি ঠিক বলে আপনি মনে করেন? উত্তরে ব্যাংক ব্যবস্থাপক বলেন,ব্যাংকে স্বার্থের জন্য যে কোন লোক দিয়ে কাজ করা যেতে পারে তা আমাদের ব্যাংকের নীতিমালায় আছে।

সাংবাদিকরা নীতিমালা দেখতে চাইলে তিনি বলেন, এখন সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের দাবী খুব তাড়াতাড়ি ব্যাংক থেকে দালালদের সরানোর জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।