মেইন ম্যেনু

কিশোরগঞ্জ ফাজিল মাদ্রসার বেহাল দশা! শিক্ষক ২০, ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ৪০

খাদেমুল মোরসালিন শাকীর, কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা সদরের একমাত্র কেশবা ফাজিল মাদ্রাসাটির বেহাল অবস্থা সরকারী বেতন ভাতা ভোগ করার শিক্ষক থাকলেও নেই ছাত্রছাত্রী। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত একটি ছাত্রছাত্রী পাস না করায় শিক্ষদের বেতন ভাতা বন্ধ হয়।

কিন্তু পরে আবার শিক্ষকদের বেতন চালু হয়। মাদ্রাসার গর্ভনিং বর্ডির সভাপতি ও নীলফামারী -৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী এসব বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৩ একর জমির উপর ১৯৭৩ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।এর পর ১৯৯৬ সালে আলিম ও ২০১৩ সালে ফাজিল মাদ্রাসা হিসাবে স্বীকৃতি পায়। মাদ্রাসাটিতে আধা পাকা তিনটি টিনসেট বিল্ডিং আছে। ১৯৯৪ সালে আরো একটি ভবন নির্মান করা হয়।

মাদ্রাসার সব ভবন মিলে ১৪ টি কক্ষ রয়েছে।মাদ্রসাটিতে কাগজে কলমে ২৪৫ জন ছাত্রছাত্রী থাকলেও প্রতিদিন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত থাকে ২০ থেকে ৩০ জন। সবচেয়ে মজার বিষয় হল মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক রয়েছে ২০ জন ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী রয়েছে ৪ জন । ফলে মাদ্রাসাটিতে ২০জন শিক্ষকের বিপরীতে উপস্থিত ছাত্রছাত্রী রয়েছে ৪১ জন।ছাত্রছাত্রী না থাকায় শিক্ষকরা অলস বসে থেকে সরকারের প্রতিমাসে ৪ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা ভোগ করছে।এতে করে বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ভোগ করে শিক্ষকেরা।

গত বুধবার সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে মাদ্রাসায় গিয়ে কোন শিক্ষকের দেখা পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসায় শ্রেনী কক্ষে গিয়ে প্রথম শ্রেনী থেকে চতুর্থ শেনীতে কোন ছাত্রছাত্রী ছিলনা। এসময় পঞ্চম শ্রেণীতে ৩ জন, ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ৭ জন, সপ্তম শ্রেনীতে ৮জন, অষ্টম শ্রেনীতে ৯ জন, নবম শ্রেনীতে ৫ জন ,দশম শ্রেনীতে ৭জন,আলিমে ১ জন সহ মোট ৪০ জন ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি পাওয়া যায় । ফাজিলে কোন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিল না।

পরে সাংবাদিকের কথা শুনে ৫ জন শিক্ষক মাদ্রসায় ছুটে আসেন। বেলা ১০ টা ৪০ মিনিট পযন্ত মাদ্রাসায় অবস্থান করলে আরো ১০ জন শিক্ষক মাদ্রাসায় আসেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেনীর এক ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, হজুররা সঠিক সময়ে মাদ্রাসায় না আসায় দিন দিন ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

বুলবুল হোসেন নামে দশম শ্রেনীর এক ছাত্র বলেন আমাদের মাদ্রাসার হুজুরেরা মাসে দুই থেকে তিন দিন মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতায় সই করে চলে যান। মাদ্রাসায় নিয়মিত ক্লাশ না হওয়ায় ছাত্রছাত্রী আসেনা।

মাদ্রসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ জালাল উদ্দিন মোল্লা জানান, কিছুদিন হল আমাকে মাদ্রসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে মৌখিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই আমি বারবার শিক্ষকদের সময় অনুযায়ী মাদ্রসায় আসার তাগিদ দিয়েছি কিন্তু তারা আমার কথা এলাউ করেনা। মাদ্রসার বিষয়ে আমি একাধিকবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামকে জানিয়েছি কিন্তু তিনিও কোন ব্যাবস্থা নেননা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি অকপটে মাদ্রাসার বেহাল দশার কথা স্বীকার করে বলেন, মাদ্রাটির ব্যাপারে আমার কাছে অনেক অভিযোগ এসেছে। আমি অফিসের কাজে ঢাকায় এসেছি ফিরে এসে ব্যাবস্থা নেব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এস মেহেদি হাসানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। আমি তাকে ব্যাবস্থা নিতে বলবো।