মেইন ম্যেনু

কিয়ামাতের বড় নিদর্শন ‘দাজ্জালের আবির্ভাব’

কিয়ামত বা মহাপ্রলয়ের পূর্বেই দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। বনি আদমেরই একজন মানুষ দাজ্জাল। শেষ জামানায় তার আবির্ভাব ঘটবে এবং সে নিজেকে রব (প্রতিপালক) দাবি করবে। পূর্ব তথা খোরাসান থেকে সে বের হবে। অতঃপর মসজিদে আকসা, তূর পাহাড়, পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা ছাড়া সে সমস্ত পৃথিবী বিচরণ করবে।

মসজিদে আকসা, তূর পাহাড়, দুই পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনাকে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতা দ্বারা পাহারা দিয়ে রাখবেন। মানুষ ঘুমে বেঁহুশ হয়ে পড়বে। দাজ্জালের আবির্ভাবের সময় মদীনায় তিনটি কম্পন সৃষ্টি হবে। এ কম্পনের ফলে মদিনা থেকে কাফের ও মুনাফেক বের হয়ে চলে যাবে।

দাজ্জালের আবির্ভাব সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটে বসা ছিলাম; তখন তিনি ফিতনার কথা বারবার উল্লেখ করলেন। এক পর্যায়ে তিনি ‘আহলাস’-এর ফিতনার কথা উল্লেখ করলেন। কোনো একজন বলল, হে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আহলাসের ফিতনা কি? তিনি বললেন, তা হলো পলায়ন ও যুদ্ধ।

অতঃপর ‘সাররা’-এর ফিতনা, যার ধোঁয়া আমার পরিবারে একজন মানুষের পায়ের নিচ থেকে হবে। সে আমার পরিবারের দাবি করবে কিন্তু সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়; শুধুমাত্র আমার বন্ধু হলো মুত্তাকিন তথা আল্লাহভীরুগণ।

অতঃপর মানুষেরা এমন এক দুর্বল চুক্তি করবে যার কোনো নিয়ম নীতি বা স্থায়িত্ব থাকবে না। অতঃপর ‘দুহাইমা’ বা কালো ফিতনা; যা এ উম্মতের প্রতিটি মানুষকে একটি করে চড় (থাপ্পর) মারবেই।

অতঃপর যখন বলা হবে ফিতনা শেষ হয়েছে কিন্তু আসলে শেষ না হয়ে তা অব্যাহতই থাকবে। সে সময় মানুষের সকাল শুরু হবে মুমিন হিসেবে, আর সন্ধ্যা হবে কাফির হিসেবে।

এক পর্যায়ে দু’টি তাঁবু হবে। যার একটি তাবু ঈমানের। এর মধ্যে কপটতা থাকবে না। আর অন্যটি নেফাক-কপটতার তাঁবু। যার মধ্যে ঈমান থাকবে না।

অতএব যখন এরূপ হবে, তখন সেদিন বা পরের দিন (অর্থাৎ ঐ সময় দাজ্জালের আবির্ভাব হবে) দাজ্জালের প্রতীক্ষা করিও (অর্থাৎ ঐ সময় দাজ্জালের আবির্ভাব হবে)। (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অভিশপ্ত দাজ্জালের ফিতনা থেকে হিফাজত করুন। পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের সফলতা লাভে মজবুত ঈমানে অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।