মেইন ম্যেনু

কি অপরাধ করেছেন দিলমা রৌসেফ?

মোটে দেড় বছর আগে ব্রাজিলের মানুষ ভোট দিয়ে পুনরায় জয়যুক্ত করেছিল প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফকে।
কিন্তু দেড় বছর যেতে না যেতেই তাকে পড়তে হচ্ছে অভিশংসনের মুখে।
এরই মধ্যে তাকে অভিশংসন করা হবে কি না সে বিষয়ক কংগ্রেসের এক ভোটে তিনি হেরে গেছেন।
এখন সিনেট তার অভিশংসন করবে, যেখানে অভিশংসন শুনানি চালানোর জন্য প্রথমেই তাকে ছয় মাসের জন্য প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বরখাস্ত করা হবে।
কিন্তু এ পর্যায়ে তাকে আসতে হল কেন, যেখানে তিন বছর আগে এক জরিপ অনুযায়ী যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার জন্য ব্রাজিলের ৮০% মানুষের সমর্থন তার পেছনে ছিল?
গত বছর জানুয়ারি মাসে মিজ রৌসেফ দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবার পর ব্রাজিল তার ইতিহাসের সবরকম কেলেঙ্কারি দেখে ফেলেছে।
একের পর এক বের হতে থাকে রাজনীতিবিদদের নানা দুর্নীতির খতিয়ান।
এই সময়ে কার্যত দেশটির সব রাজনীতিবিদেরাই নানা রকম ঝুঁকিপূর্ণ তৎপরতার অংশ ছিল।

এত কিছুর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফের ইমেজ স্বচ্ছই ছিল।
এমনকি তার বিরোধীরাও সেটা অস্বীকার করে না।
কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, নিজে জড়িত না থাকলেও সব রকম কেলেঙ্কারির জন্য প্রেসিডেন্ট রৌসেফকেই শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্য দিতে হচ্ছে।
অবশ্য অর্থনীতি পরিচালনা প্রশ্নে দিলমা রৌসেফকে নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই।
তাকে অভিশংসন করার ক্ষেত্রে এই যুক্তিটাই সামনে নিয়ে এসেছে বিরোধীরা।
ব্রাজিলের অর্থনৈতিক দুর্দশার শুরু ২০১১ সালে।
এর আগের দশকে ব্রাজিলের প্রবৃদ্ধি ছিল ধারাবাহিক।
প্রবৃদ্ধির পতনকে সাময়িক আখ্যা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ও তার দলবল পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য কোন দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে না গিয়ে ব্যয়বহুল প্রণোদনা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
কদিন পরেই দেখা যায় এ ব্যবস্থাও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থা সত্ত্বেও ব্রাজিলের মানুষ মিজ রৌসেফকে ভোট দিয়েছিল কারণ তার বিরোধীরা অর্থনীতি ঠিক রাখতে বাজেট কাটছাঁট এবং উচ্চ হারে করারোপের পক্ষ নিয়েছিল।
কিন্তু পুনঃনির্বাচিত হওয়ার পর অনেকটা এককভাবেই একটি আগ্রাসী সমন্বয়ের পথ বেছে নেন মিজ রৌসেফ যা তার ভোটারদের রাগান্বিত করে তোলে এবং সমর্থকদের প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি দেয়। বিবিসি বাংলা