মেইন ম্যেনু

খালেদা-তারেকের সৌদি সফর স্থগিত

কী জটিলতা খালেদার ওমরাহ যাত্রায়?

এ বছর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাবেন কি-না তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

গত ৭ জুলাই মঙ্গলবার বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশানের কার্যালয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘বেগম জিয়া ওমরাহ পালনে যাবেন, তাই নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি দেখা সাক্ষাৎ করছেন।’

খালেদা২বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে খালেদা জিয়া ওমরাহ পালনে যাচ্ছেন, সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা হবে এবং সেখানে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে- এমন প্রতিবেদন প্রকাশ হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে। খবর অনুযায়ী বুধবার সৌদি আরবের উদ্দেশে খালেদা জিয়ার ঢাকা ত্যাগ করার কথা ছিলো।

কিন্তু বুধবার সকাল থেকেই শোনা যায় খালেদা জিয়া এখনই ওমরাহ পালনে যাচ্ছেন না।

খালেদা৩বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘প্রতিবছরই সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে আমাদের চেয়ারপারসন ওমরাহ করতে যান। এবার তিনি যাচ্ছেন না।’

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও অসংখ্য কর্মী এখনও কারাবন্দি। এই মুহূর্তে ম্যাডাম তাদের পাশে থাকার কথা চিন্তা করছেন। সেজন্য এই রোজায় ওমরাহ করতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঈদের পর সুবিধাজনক সময়ে তিনি ওমরাহ করতে যাবেন।’

বুধবার রাত ১০টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের কাছে চেয়ারপারসনের ওমরাহ পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে জানিনা, আমি এটা ডিল করি না, আপনি শিমুল বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

বিএনপি চেয়ারপরসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে ফোনে পাওয়া যায় নি। প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে প্রেসউইং থেকে জানানো হয়েছে- ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের ওমরাহ পালনের বিষয়ে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি।’

প্রতিবছর ২০ রোজায় সৌদি আরবে গিয়ে সপ্তাহখানেক সেখানেই অবস্থান করেন খালেদা। গত বছর রোজায়ও বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি ওমরাহ করেন।

জানা গেছে, এবার মোট ১৩ জনের ভিসা হয়েছে, বুধবার রাতে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের টিকেটও কাটা হয়। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান লন্ডন থেকে এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিথি, মেয়ে জাফিয়া রহমান মালয়েশিয়া থেকে সৌদি আরবে গিয়ে খালেদার সঙ্গে যোগ দেয়ার কথা ছিলো।

গুঞ্জন রয়েছে, বিভিন্ন মামলায় পলাতক আসামি তারেক রহমান গত ছয় বছর ধরে পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট বৈধতা হারানোয় তিনি এখন শরণার্থী হিসেবে দেশটিতে অবস্থান করছেন। এ কারণে এই মুহুর্তে তারেক রহমান লন্ডন ত্যাগ করতে পারছেন না। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।

যে কারণে স্থগিত খালেদা-তারেকের সৌদি সফর

খালেদা-তারেকপবিত্র ওমরাহ উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সৌদি আরব সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় তার সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনের বড় ছেলে তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভিসা জটিলতায় ওমরাহ পালনে আপাতত সৌদি যেতে পারছেন না। পবিত্র ওমরাহ পালন ছাড়াও তারেক রহমানের সঙ্গে বেগম জিয়ার দেখা সাক্ষাৎ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এ কারণেই আপাতত খালেদা জিয়ার সৌদি সফর স্থগিত রাখা হয়েছে। ঈদের আগে তার সৌদি সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ভিসা জটিলতা নিরসন হলে তার বড় ছেলে তারেক রহমান সৌদি আসতে পারেন। দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবীর খান বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) পরে এক সময় পবিত্র ওমরাহ পালনে সৌদি যাবেন। তবে দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, লন্ডনে অবস্থান নেওয়া খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের ব্রিটিশ পাসপোর্ট। ওমরাহ ভিসার জন্য তাকে লন্ডনের সৌদি দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হয়েছে। সেখানে দেরিতে ‘ট্রাভেলস ডকুমেন্ট’ জমা দেওয়ায় ভিসা পেতেও বিলম্ব হচ্ছে। এ কারণেই আপাতত সৌদি আরবে যেতে পারছেন না তারেক রহমান।

আরেক সূত্র জানায়, সৌদি সরকার রাজকীয় অতিথির তালিকা সংক্ষিপ্ত করতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে অনুরোধ করেছে। লন্ডন থেকে সপরিবারে তারেক রহমান, ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর মালয়েশিয়ায় থাকা পরিবারসহ ঢাকা থেকে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গীর তালিকায় ছয়জনের নাম দেওয়া হয়েছে। রাজকীয় অতিথি হিসেবে এ তালিকা নিয়েও জটিলতা থাকতে পারে। এ কারণেও আপাতত সৌদি সফর স্থগিত করতে পারেন বেগম জিয়া।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ার লাইন্সের একটি বিমানে বেগম জিয়ার সৌদি রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণে এই সফরসূচি হঠাৎ স্থগিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।

জানা যায়, একই সময় লন্ডন থেকে ব্রিটিশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল তারেক রহমানের। তার সঙ্গে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জায়মা রহমানের আসার কথা ছিল। দুবাই বিমানবন্দরে পৌঁছে মায়ের সঙ্গে মিলিত হওয়ার কর্মসূচিও ছিল তারেকের। কিন্তু মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর অনিবার্য কারণ দেখিয়ে সফর স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে।



« (পূর্বের সংবাদ)