মেইন ম্যেনু

কী হচ্ছে মালয়েশিয়ায়?

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উন্নয়নের রোল মডেল মালয়েশিয়া এখন অশান্ত। খোদ প্রধানমন্ত্রীই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে গণতন্ত্রপন্থিরা।

প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশে অংশ নিতে শনিবার রাজধানী কুয়ালালামপুরে জড়ো হয়েছে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। বিক্ষোভকারীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। কিন্তু সরকার এই বিক্ষোভ ও সমাবেশকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছে। কুয়ালালামপুরের প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ ঠেকাতে প্রস্তুত তারা। বলতে গেলে, এখন মুখোমুখি অবস্থানে সরকার ও গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীরা।

বিবিসি জানিয়েছে, বারসিহ নামে গণতন্ত্রপন্থি একটি গ্রুপ এই বিক্ষোভ-সমাবেশের আয়োজন করেছে। তারা শনিবার ও রোববার দুই দিনই বিক্ষোভ করতে চায়। কিন্তু এ দুই দিনে বিক্ষোভ-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। বিক্ষোভ আয়োজনের অনুমতি চেয়ে যে আবেদন করা হয়, তা প্রত্যাখ্যান করেছে কুয়ালালামপুর কর্তৃপক্ষ। এখন সরকারি আদেশ উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামলেই দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ নিয়ে কুয়ালালামপুরে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। বলা হচ্ছে, ‘১ মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বারহাদ’ (১এমডিবি) প্রকল্প থেকে এ পরিমাণ অর্থ বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। অজ্ঞাত বিদেশি দাতাদের দেওয়া এই অর্থ নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন নাজিব রাজাক। গত মাসে বিদেশি দাতাদের দেওয়া অর্থের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে কারা এই অর্থ দিয়েছেন তা জানায়নি মালয়েশিয়ার শীর্ষ সরকারি তদন্ত সংস্থা।

প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক তার বিরুদ্ধে আনা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, কোনো ধরনের ভুল করেননি তিনি। রাষ্ট্রীয় অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা বিরোধী দলগুলোর অপপ্রচার।

এদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নাবিজ রাজাকের বিরুদ্ধে বোর্নিও দ্বীপের মালয়েশীয় অংশের কোটা কিনাবালু ও কুচিং শহরে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অংশে শনিবার ও রোববার বিক্ষোভ-সমাবেশ হতে পারে। তবে বিক্ষোভ দমনে শুক্রবার কয়েকটি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয় সরকার। বিক্ষোভের তথ্য তা ছড়িয়ে না পড়ে এবং বিশৃঙ্খলা উসকে না যায়, সেজন্য এই কাজ করেছে মালয়েশীয় কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশন।

বিবিসি জানিয়েছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিলে সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। তখন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নেবে হয়তো। ২০১২ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে শক্তি প্রয়োগ করেছিল সরকার। জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও বাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

তবে কয়েক দিন আগে নাবিজ রাজাক বলেছেন, তিনি বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার মতো কোনো কাজ করতে চান না। ভুল বোঝাবুঝি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের কথা বলেন তিনি।

মালয়েশিয়াকে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে কুয়ালালামপুরকে শিল্প-বাণিজ্যের কেন্দ্রে হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেন নাজিব রাজাক। তার তত্ত্বাবধানে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ১এমডিবি প্রকল্প। দেশি-বিদেশি দাতারা প্রকল্পের তহবিলে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেয়। কিন্তু ২০১৪ সালে এসে দেখা যায়, ১এমডিবি বাবদ সরকার ১ হাজার ১০০ ডলার ঋণ নিয়েছে, যা শোধ করতে পারছে না। এরই মধ্যে অভিযোগ ওঠে, প্রধানমন্ত্রী ১এমডিবির তহবিল থেকে বিদেশি দাতাদের দেওয়া ৭০০ মিলিয়ন ডলার নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়েছেন।

অন্যদিকে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা থেকে কয়েক দিন আগে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের দাতারা দলীয় তহবিলে অর্থ দিয়েছেন, ১এমডিবির তহবিলে নয়। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো জালিয়াতি করেননি।

নাজিব রাজাকের প্রধান সমালোচক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ দাবি করেছেন, দলীয় কাজে ব্যবহারের জন্য অনুদান হিসেবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়নি। এর দায়দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত নাজিব রাজাকের।

ওদিকে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে ধস নামতে শুরু করেছে। ডলারের বিপরীতে রিংগিতের দাম পড়ে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। নতুন কর্মক্ষেত্র আগের মতো বাড়ছে না। এই মুহূতে সরকারবিরোধ বিক্ষোভে বেকায়দায় পড়তে হতে পারে নাজিব রাজাককে।

তবে ইউরোশিয়া গ্রুপের পরামর্শকরা বলছেন, এই বিক্ষোভে সরকার পতনের কোনো সম্ভাবনা নেই। সামগ্রিক জনজীবনেও তা খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারবে না। কারণ শক্তিশালী বিরোধীতার জন্য প্রয়োজনীয় নেতৃত্বের অভাব রয়েছে।

মালয়েশিয়ার ডেমেক্রেটিক অ্যান্ড ইকোনমিক-বিষয়ক ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী ওয়ান সাইফুল ওয়ান জান বলেছেন, ‘এই সামবেশ থেকে বড় ধরনের বিক্ষোভ দেখানো সম্ভব হবে। কিন্তু এতে কোনো পরিবর্তন হবে বলে আমি মনে করি না।’



« (পূর্বের সংবাদ)