মেইন ম্যেনু

কী হতে যাচ্ছে আগামী ১০ বছরে?

রাসেল পারভেজ : আপনি কি জানেন, কী হতে যাচ্ছে আগামী ১০ বছরে? বিশ্বজুড়ে মাতব্বরি করবে কোন দেশ- চীন না যুক্তরাষ্ট্র?

রাশিয়া কি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্রের ঘুঁটির চালে মাথা নোয়াতে বাধ্য হবে?

রাজনীতি ও অর্থনীতির মোড়ল হিসেবে ছড়ি ঘোরাবে কে? প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে থাকবে কে- ভারত না চীন? এক দশকে কেমন হবে বাংলদেশের চেহারা?

এসব প্রশ্ন সামনে রেখে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে স্ট্র্যাটেজিক ফোরকাস্টিং (স্ট্র্যাটফোর) নামে একটি প্রতিষ্ঠান। লেখাটি পড়লে হয়তো আপনার ভাবনা-চিন্তার সঙ্গে মিলে যেতে পারে।

কোমর ভাঙবে রাশিয়ার
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের কোমর হয়তো সোজা থাকবে কিন্তু কোমর ভাঙবে রুশ ফেডারেশনের। ক্রমেই রাশিয়ার একরোখা চরিত্রের বিরুদ্ধে বিশ্বমত আরো শক্তিশালী হতে পারে। যে কারণে রুশ ফেডারেশনে ভাঙন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

খালি কলসির মতো বাজবে রাশিয়া, যা তাদের দানবে পরিণত করতে পারে। পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গে তাদের দূরত্ব আরো বাড়তে পারে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় দিন দিন রাশিয়ার মেরুদ- ক্ষয়ে যেতে পারে, যা তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পর্যন্ত কেড়ে নিতে পারে।

পরমাণু অস্ত্র রক্ষায় সামরিক শক্তি কাজে লাগাবে যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্বে পরমাণু অস্ত্রভান্ডারের দিক থেকে রাশিয়ার শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পরেই। রাশিয়া তলানিতে চলে গেলে তারা বুদবুদ তো ছাড়বেই। বুদবুদ অর্থাৎ নিজেদের শক্তি জাহির করতে পিছপা হবে না রাশিয়া। এক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যেতে পারে, যাতে অনিরাপত্তায় ভুগবে যুক্তরাষ্ট্র।

পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক শক্তি ও বাহিনী ব্যবহার করতে হতে পারে। কারণ রাশিয়াকে চাপে রাখতে পারে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে রাশিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রও যদি ‘তা থৈ তা থৈ’ করতে থাকে, তাহলে বিশ্বের পরমাণু শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে।

অক্টোপাসের মতো সমস্যা ঘিরে ধরবে জার্মানিকে
জার্মানি রপ্তানিনির্ভর দেশ। ইউরোপ মহাদেশে তাদের মূল ব্যবসা। কিন্তু যেভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে, তাতে জার্মানির জন্য যথেষ্ট হুঁশিয়ারি বার্তা রয়েছে। ইউরো সংকট যত প্রকট হবে, জার্মানির অর্থনীতি তত মার খাবে। জার্মানিবিরোধী যে চেতনা ইউরোপের শিরায় শিরায় পৌঁছে যাচ্ছে, তা মাদকের মতো জীবনীশক্তি কেড়ে নিতে পারে জার্মানদের।

পোল্যান্ড ইউরোপের মোড়ল হতে যাচ্ছে
জার্মানির পূর্বকোণে চোখ রাখলে দৃষ্টিগোচর হবে ছোট্ট দেশ পোল্যান্ডকে। তাদের অবস্থা খারাপ নয়। বরং কচ্ছপ গতিতে কিন্তু টেকসই ভিত্তি নিয়ে নিরব বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছে তারা। তারা হয়ে উঠতে পারে ইউরোপের নয়া মোড়ল। রাশিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য নিয়ে কৌশলতভাবে ধেই ধেই করে এগিয়ে যাবে পোল্যান্ড- সেদিন বেশি দূরে নয়।

চার টুকরো হবে ইউরোপ
ইউরোপে জাতীয়তাবাদ, আঞ্চলিকতাবাদ ও অস্তিত্বকেন্দ্রীক বিপ্লবের যে গরম হাওয়া বইছে, তাতে অখ- ইউরোপের চেতনা পুড়ে ভস্মীভূত হতে পারে। এর ফলে সৃষ্টি হতে পারে চার টুকরো ইউরোপের- পশ্চিম ইউরোপ, পূর্ব ইউরোপ, স্ক্যানডিনেভিয়ান ইউরোপ এবং ব্রিটিশ দ্বীপাঞ্চলের ইউরোপ।

তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোলক ধাঁধাঁ’ সম্পর্ক
বলকান রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা, সিরিয়া ও ইরাকে আধিপত্য ধরে রাখা এবং রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত বিজয়ের জন্য তুরস্ককে কাছে টানবে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তুরস্কের অস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে গোলক ধাঁধাঁয় পড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।

পদে পদে বিপদে থাকবে চীন
একদিকে কমিউনিস্ট শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হবে অন্যদিকে অর্থনীতি আরো দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এই দুইয়ের ধাক্কা সামলাতে পদে পদে বিপদে পড়তে হবে চীনকে। তা ছাড়া বিশ্বজুড়ে চীনের গণতন্ত্রবিরোধী অবস্থান আরো বেশি সমালোচনার মুখে পড়বে।

জাপানের পুনরুত্থান
সামরিক শক্তির দিক থেকে এশিয়ার সেরা হওয়ার পায়তারা করবে জাপান। হয়তো এ পথে তারা অনেক দূর এগিয়ে যাবে। কারণ চীনের আগ্রাসী অর্থনীতির চাপ এবং উত্তর কোরিয়ার মুখে তালা লাগাতে সামরিক পুনরুত্থান ঘটাতে হবে জাপানকে।

যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য কমবে
আগামী ১০ বছরে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বেশি থাকবে। এই সুযোগে শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের একক মোড়লিপনা থাকবে না। যে কাজ এক কথায় হতো, সে কাজ করতে ‘তেল মাখানো’ নীতিতে যেতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকে।

ছোটরা বড় হবে
বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া অর্থনীতিতে শক্তিশালী হবে এবং ভারতের অর্থনীতির আকার চীনকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এশিয়ার অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হয়ে উঠবে দক্ষিণ এশিয়া।