মেইন ম্যেনু

কুকুরের দুধ খেয়েই বেড়ে উঠছে এই শিশু

ব্রিটিশ সাহিত্যিক রুপইয়ার্ড কিপলিংয়ের অ্যাডভেঞ্চার বই ‘জঙ্গল বুক’র চরিত্র মোগলির কথা মনে আছে? জঙ্গলের নেকড়েদের মধ্যে ‘মাদার উলফ’র দুধ খেয়ে বড় হয়েছিল মোগলি। সেই মোগলি কাল্পনিক চরিত্র হলেও এবার কিন্তু বাস্তবের মোগলির দেখাই পাওয়া গেছে। তবে নেকড়ের দুধ নয়, বাস্তবের এই মোগলি বেঁচে আছে কুকুরের দুধ খেয়ে।

এই মোগলির নাম মোহিত কুমার। ভারতের ১০ বছরের এই বালক রাস্তার কুকুরদের দুধ খেয়েই বেড়ে উঠছে। তবে মোগলির মতো মাতাপিতাহীন নয় সে। বাবা-মা দুজনেই আছে। ছেলের এই অভ্যাস ছাড়ানোর হাজার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। জন্মের পর থেকেই কথা বলতে পারে না মোহিত। তার বাবা সুবেদার সিং রাস্তায় ফলের রস বিক্রি করেন। মা পিংকি কুমারি লোকের বাড়ি কাজ করেন।

দুই বছর বয়সে মায়ের বুকের দুধ ছেড়ে দিয়েছিল মোহিত। কিন্তু চার বছর বয়স থেকে এই আজব অভ্যস গড়ে ওঠে তার। বাড়ির সামনে রাস্তার কুকুরদের সঙ্গে খেলতে খেলতে একদিন কুকুরটির স্তন পান করা শুরু করে ছোট্ট মোহিত। তারপর থেকে এলাকার প্রায় সব কুকুরের স্তন পান করে সে।

আশ্চর্যজনকভাবে রাস্তার কুকুরও মোহিতকে নিজের বাচ্চাদের মতোই স্তন পান করতে দেয়। প্রতিবেশিদের কাছ থেকে ছেলের এই অভ্যাসের কথা জানতে পেরে তা ছাড়ানোর হাজারো চেষ্টা করেছেন মোহিতের বাবা-মা। ঘরে আটকে রেখেও দেন। চোখের আড়াল না করার জন্য এমনকি স্কুলেও ভর্তি করানো হয়নি মোহিতকে। কিন্তু কোনও ভাবে ছেলেকে আটকাতে পারেননি তারা।

এরমধ্যে একদিন অন্য এলাকার কুকুরের স্তন পান করতে গিয়ে কামড় খায় মোহিত। তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে সব কথা খুলে বলেন সুবেদার ও পিংকি। মোহিতকে কুকুরে কামড়ানোর ওষুধ দিলেও এই অভ্যাস ছাড়ানোর জন্য কিছু করতে পারেননি ডাক্তাররা। কুকুরের দুধ মানুষের পক্ষে খুব একটা ক্ষতিকর না হলেও এ থেকে জলাতঙ্ক সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।