মেইন ম্যেনু

কুকুর কেটে জীববিদ্যার গবেষণা!

ব্যাঙ বা আরশোলা নয়। কুকুরের শরীর কেটে চলছিল জীববিদ্যার গবেষণা। উত্তর-পশ্চিম চীনের এক মেডিকেল স্কুলের বিরুদ্ধে এই ধরনের বিতর্কিত গবেষণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ভারতের বাংলা সংবাদমাধ্যম কলকাতা২৪x৭ এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই জানিয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে পরে রয়েছে অনেকগুলো কুকুরের মৃতদেহ। কোনো কুকুরের মুখ ব্যান্ডেজ দিয়ে বাঁধা। তো কারও শরীরে অস্ত্রোপচারের ক্ষত দগদগ করছে। কারোর শরীর থেকে আবার ঝরছে রক্ত, কেউ কাতরাচ্ছে যন্ত্রণায়। এই রকম একটা ভিডিও ইন্টারনেটে পোস্ট করা হয় চীনের একটি আঞ্চলিক পশু প্রেমী সংস্থার তরফ থেকে। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, স্কুলের ছাদে রাখা একটি রক্তমাখা লাঠি। সেইসঙ্গে মোটা চেন দিয়ে বাঁধা আছে প্রায় ২০টির মত কুকুর। যাদের শরীর কেটে করা হবে গবেষণা।

Dog1

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ২০১১ সালে পাশ হওয়া আইনে চীনে পশু-পাখি গবেষণার অজুহাতে হত্যা নিষিদ্ধ। পশু-পাখি নিয়ে গবেষণা করা যেতে পারে, তবে তা হতে হবে ‘যন্ত্রণাহীন’। এহেন অমানবিক ক্রিয়াকলাপ প্রকাশ্যে আসার পর ওই মেডিকেল স্কুলের এক শিক্ষক দাবি করেছিলেন, ‘আমরা যন্ত্রণাহীন ভাবেই আমাদের গবেষণা করে থাকি।’ কেউ কেউ আবার এরূপ গবেষণার কথা মানতেই নারাজ ছিলেন। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্কুলটির রেজিস্ট্রেশন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বলে হয়েছে, ‘এই ধরনের গবেষণা চালানোর কোনো অনুমতি নেই ওই মেডিকেল স্কুলের।’ রোববার বিকেলে ঘটনাটির ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। ভুল পদ্ধতিতে গবেষণা চালানোর কথা মেনে নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। জীব বিদ্যার সব ধরনের গবেষণা আপাতত: বন্ধ রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে অভিযুক্ত মেডিকেল স্কুলের তরফ থেকে।

আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিয়মের বাইরে বেরিয়ে কাজ করার ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগের কথা শোনা যায় গণতান্ত্রিক ভারতে। সমাজতান্ত্রিক চীন যে এর ব্যতিক্রম নয় উক্ত ঘটনা তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।