মেইন ম্যেনু

কুতুবজোমে প্রাথমিক বিদ্যালয় নগণ্য! শিশুদের মনন উপযোগী প্রাথমিক শিক্ষার প্রয়োজন

জামাল জাহেদ, ককসবাজার: কুতুবজোম ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ডের ২৭টির অধিক মহল্লায় মাত্র ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।২০টি মহল্লায় কোন প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ না থাকাতে মৌলিক অধিকার থেকে বন্ঞিত হচ্ছে এসব গ্রামের শিশুরা। অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকার কারণে শিশুরা বিভিন্ন শ্রমিকের কাজ সহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানা যায়।

শিশুর মন মানসিকতা বুঝে শিশুর উপযোগি মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরই নির্ভর করে প্রাথমিক শিক্ষা। আমাদের বিদ্যমান শিক্ষানীতি প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুর”ত্ব সহকারে দেখানো হয়েছে। শিশুরা যখন আনুষ্ঠানিক ভাবে শিক্ষার প্রস্তুতি নেবে সেই সময়টাতে প্রাথমিক শিক্ষাই হলো উত্তম ব্যবস্থা। প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টাকে অতীব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। শিশুরা বরাবরই আনন্দ বিনোদন ও হাস্যময় একটা জগতের মধ্যে দিয়ে বিচরণ করে থাকে।

শিশুর এই যে মনস্তাত্ত্বিক দিক গুলো নিয়ে অনেক চিন্তা ভাবনার ব্যাপার রয়েছে। যেখানে শিশুদের মনের তৃপ্তি বিকাশের জন্যে আকর্ষণীয় উপকরণ আনন্দময় যাবতীয় ব্যবস্থা থাকতে হবে। আমাদের শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষাকে বলা হয়েছে সকল প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি।

নিয়ম অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষা স্বভাবতঃই শিশুর মনে ন্যায়বোধ, কর্তব্যবোধ, শিষ্টাচারবোধ, মানবাধিকার সহ-জীবনযাপনের মানসিকতা, কৌতূহল, প্রীতি, সৌহার্দ্য, অধ্যবসায় ইত্যাদি গুণাবলি বিকশিত হবার জন্যে জাতীয় শিক্ষানীতিতে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অথচ তারপরেও কুতুবজোম অনেকটা পিছিয়ে মহেশখালী উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টির কারনে বলে মনে করেন সাবেক শিক্ষক রোশন আলী।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৯৯২ গ্রামের মধ্যে ৭৬১টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও ২৩১ গ্রামে কোনো বিদ্যালয় নেই। এর মধ্যে মহেশখালীতে ৪৪ গ্রাম,। অন্যদিকে কুতুবজোমে ১৩.০০বর্গ মাইলের প্রায় ৩৭হাজার মানুষের বসবাস। ৯টি ওয়ার্ডে মাত্র ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় তাতেও একেকটি ধারন ক্ষমতার বাহিরে শিশুদের উপছে পড়া ভিড়,বসার জায়গা দিতে পারেনা বিদ্যালয়ে বাহিরে কিংবা গাছ তলায় বসতে হচ্ছে বলে জানান মেহেরিয়া পাড়ার বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দু শুক্কুর।
সার্বিকভাবে ঘটিভাংগার ১৪শত ছাত্রছাত্রীর জন্য মাত্র একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়,যেহেতু চাহিদা অনুযায়ী ঘটিভাংগা গ্রামে ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়া প্রয়োজন। কুতুবজোমে অনেকে মেহেরিয়া পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঘটিভাংগা সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়কে শিশুদের ভার্সিটি বলে হাস্যকর বলে আলোচনা করে। সবকিছু পর্যালোচনা করে কুতুবজোমে মাত্র ৩২% শিক্ষার হার যা অন্যান্য গ্রামের তুলনায় শিশুদের পড়ার মান ও সুযোগ অতি নগন্য।

কুতুবজোমে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৭টি,তাহলো ঘটিভাংগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,লাল মোঃ সিকদার পাড়া সঃপ্রাঃবিদ্যালয়,কুতুবজোম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যাঃ,খোন্দকারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেহেরিয়াপাড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,তাজিয়াকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনা দিয়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

কুতুবজোমের প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ে জানতে চাইলে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন খোকন জানান,দেশের সার্বজনীন শিক্ষার কথা যদি চিন্তা করি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার বিকল্প নেই।তবে কুতুবজোমে সংখ্যাগরিষ্ঠ দিক দিয়ে জনবহুল মহল্লাগুলোতে আরো অন্ততপক্ষে ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মহেশখালী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল্লাহ বলেন, ‘কুতুবজোমে চাহিদা মতো বিদ্যালয়ের সংখ্যা অতি নগন্য তা সত্য,তবে আমরা বিগত ২বছর আগে চাহিদা তালিকা জেলা অফিসে প্রেরণ করেছি এখনো কোন নির্দেশ না পাওয়াতে অগ্রগতি হচ্ছেনা বলে জানান।