মেইন ম্যেনু

কুমিল্লায় টুপি ও খুসবো বাজারের ঈদের শেষ আমেজ

মাসুদ আলম, কুমিল্লা থেকে : পবিত্র ঈদুল ফিতরের বাকি একদিন, তাই কুমিল্লার ঈদ বাজারের শেষ মহুর্তে জমজমাট টুপি ও খুসবো দোকান গুলোতে। সর্বনিম্ন ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকায় চলছে টুপি বিক্রি। দাম ভেদে আতর প্রতি তোলা ১০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে বাহারি ডিজাইন আর মডেলের টুপি শোভা পাচ্ছে বিপনি বিতানগুলোতে। টুপি ও আতর ক্রয় করতে ফুটপাত এবং হকার্স মার্কেট থেকে শুরু করে কুমিল্লার অভিজাত শপিংমল গুলোতে নেমেছে ক্রেতাদের ঢল। নগরীর প্রতিটি টুপি, তসবিহ ও আতরের দোকানে ক্রেতাদের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও নগরীর ফুটপাত ও অস্থায়ী দোকান গুলোতেও বিক্রয় হচ্ছে প্রচুর পরিমান টুপি। শুধু টুপি নয় বিক্রয় হচ্ছে দেশি-বিদেশি আতর, তসবিহ ও জায়নামাজ।

এই সব পণ্য ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রমজান ও ঈদ উপলক্ষে বিক্রির পরিমান বেড়েছে দিগুণের চেয়েও বেশি। এর কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য সময়ের চেয়ে রমজান আসলে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে তাদের বেচাকেনাও বেড়ে যায়, ফলে অন্য সময়ের চেয়ে এ সময় তাদের ব্যবসায় মুনাফা ভাল হয়।

বিক্রেতা আব্দুল মালেক ও জাহিদুর রহমান বলেন, রোজার প্রথমদিকে তেমন বিক্রি না হলেও রোজার শেষ মহুর্তে বিক্রি ভাল হচ্ছে। কুমিল্লা টুপি বাজার ঘুরে দেখা যায়, এ বছর দেশীয় টুপির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ পাকিস্তান, তুর্কি ভারতীয় টুপি ও আতর বিক্রি বেশি হচ্ছে। ঈদ ছাড়া সাধারণত কম দামিই টুপি পড়া হয় তবে ঈদের নামাজের জন্য একটু ভাল মানের টুপি কিনতে এসেছি আর ঈদের নতুন পাঞ্জাবিতে ভাল মানের আতর দিলে আমাদের মন পবিত্র হয়। সুগন্ধি থাকায় শিশুদের আতরের চাহিদা বেশি।

ক্রেতা ডা: সফিক জানান, আমার জন্য টুপি ও আতর কিনা হয়েছে গেছে এখন বাচ্চাদের জন্য কিনতে এসেছি। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর তুলনামূলক দাম একটু বেশি।

খুসবো স্টোরের মালিক সোহেল জানান, পবিত্র রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে নতুন নতুন আইটেমের দেশি বিদেশি আতর, টুপি, তসবিহ ও জায়নামাজ তোলা হয়েছে। এতে করে রমজানের শুরু থেকেই ভাল বেচাকেনা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করেই দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি বিদেশি বিভিন্ন রকমের টুপি, তসবিহ ও আতর সংগ্রহে রাখা হয়েছে। সংগ্রহীত পণ্যের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, মালেশিয়া, ইন্দোনিশিয়া, চীন, সৌদি, আরব আমিরাত ও তুর্কিসহ বিভিন্ন দেশের টুপি, তসবিহ ও আতর বিশেষভাবে উল্যেখযোগ্য। তবে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, দেশীয় পণ্য গুলোর তুলনায় বিদেশি পণ্যের দাম অনেক গুণ বেশি। যেখানে দেশীয় টুপি ২০-১০০ টাকার মধ্যে, সেখানে ভারতীয় ও পাকিস্তানি টুপি ২৫০-৫০০ টাকা, মালেশিয়ান ৩০০-৫০০ টাকা, ইন্দোনিশিয়ান টুপি ৮০-৮০০ টাকা, চীনা টুপি ৬০-৪০০ টাকা, তুর্কি টুপি ৮০-৩০০ টাকা।

এদিকে দেশীয় আতর ৩০-২০০ টাকা। সৌদি, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তান, ফ্যান্স, আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আশা নানা ধরনের আতর যেমন- গুলে লালা, তিব্বত, আল নাইম, রজনী গন্ধা, মুজমাসহ যার মূল্য ১৫০-৩০০ টাকা। এমনকি জায়নামাজের মূল্য ২৫০-১২০০ টাকা। পাকিস্তানি, তুর্কি, চীন থেকে আশা তসবিহর মূল্য ৮০-৩০০টাকা। এর কারণ জানতে চাওয়া হলে ব্যবসায়ীরা একটু ভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন, আমরা খুচরা বিক্রেতা। বিদেশি পণ্য গুলো আমাদের হাতে আসতে আসতে এগুলো ক্রয়মূল্য বেড়ে যায়, ফলে বাধ্য হয়ে আমরাও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। অন্যদিকে ক্রেতারা এই দাবি মানতে নারাজ। তাদের দাবি বিক্রেতারা ইচ্ছে করেই তাদের নিকট হতে বাড়তি দাম আদায় করে।